আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

পাতা, প্রিয়তম পাতা !

বৃষ্টি রাতে ... ভাবনা গুলো মেঘের সাথে উড়ে ...

পরীক্ষা ভীতি আমার কোন কালেই ছিল না । শৈশবের স্বাভাবিক পরীক্ষা ভীতি রূপান্তরিত হত কিছু অনৈর্বক্ত্যিক আনন্দে । সুদীর্ঘ এক মাস পড়ার বই ছুঁতে হবে না, প্রতিদিন কাক ডাকা ভোরে উঠে সেই বিচ্ছিরি একঘেয়ে দৈনিক পরিপাটি নিয়ম করে স্কুলে যাওয়া নেই, ঠাকুরমার ঝুলি টাইপ বইগুলোতে মজার মজার রূপকথার রাজ্যে ঘুরে বেড়াতে গিয়ে বাবা মা কারোর চোখ রাঙ্গানো বিদ্ঘুটে পাথরে হোচট খাওয়া নেই । এরকম আরো কিছু প্রভাবশালী অজেয় শাসকের অনুপস্থিতির পাশাপাশি একটা উপস্থিতির আনন্দ ছিল প্রবলতম, পরীক্ষা শেষ হলে মামার বাড়িতে যাওয়া ! আয় ছেলেরা আয় মেয়েরা ফুল তুলিতে যাই, ফুলের মালা গলায় দিয়ে মামার বাড়ী যাই । ফুলের মালা ছিলনা, ধোঁয়াটে শহরের গলি ঘুপচিতে ছেলে মেয়ে নিয়ে দল বেধে ফুলের মালা তোলার সুযোগও ছিল না ।

তবে আমি মালা পরতাম শৈশবীয় উচ্ছন্নতার, আগত অবাধ স্বাধীনতার উত্তেজনাকর বায়ু পেটে গুড়গুড় তুলতো । অবশেষে এক শুভদিনে, বাসায় থেকে যাওয়া পাড়ার দুর্ভাগা বন্ধুদের দুঃখের অতিশয্যে, আমার আনন্দ অতিশয্যায় রেখে, ট্রেনে চেপে দিতাম ছুট মামাবাড়ি । আমার সেই অতি অলৌকিক মামাবাড়ি । খুব ভালবাসতেন মামা, আমাকে । সারাদিন ন্যাওটার মত লেগে থাকতামও ।

সারাদিন নিত্যনতুন গপ্প - বাড়ীর পাশের ঝিলের পাড়ে ঝোপের ধারে এক কুজো ভূত সন্ধ্যা নামলে হামলে পরে মাছেদের উপর, মাঝরাতে প্যাঁচার(স্থানীয় নাম "বুত্তুম") ঘোলা চোখের অতিপ্রাকৃতিক আবহের দর্শক কিভাবে হতেন আমার দুঃসাহসী মামা, সেইসব গপ্প ! মামা কবি ছিলেন । ইংরেজীতে কবিতা লিখতেন । আমাকে অনুসংগ করেও একটি কবিতা লিখেছিলেন । Shihab my nephew's a true lover Of toys like plane, cart, and revolver; He poses himself to be an aviator, Sometimes with his revolver as fighter. He acts as if a qualified engineer In driving screws and knots with his screw driver. He is, while in bed, a good listener Of the story of dread and fear. He asks me to tell cock and bull story Of nocturnal buttum bird and fairy. He wants to know how buttums hoot At night from boughs of jack fruit. I tell him what the buttum's hoots mean, They mean to eat jack fruit and pumpkin. He does burst into cry and laughter While i gave him it's dreadful picture. The tale makes him hold me fast by twining round, And its fear sooths him from his motion unbound. As i love him from my very heart's core Should he not pray for me while i'm nomore, Should he not remember his uncle, a bard While he recites the poem of "Buttum Bird"? গপ্পো ও কবিতার পাশাপাশি নানাবিধ প্রশ্রয়সূচক আনন্দদায়ক কাজ ও হতো । মামার সাথে বাজারে যেতে চাইলে, মায়ের নিষেধ, ভেংগে গুড়িয়ে দিতে আমি যখন কান্না জুড়ে দিতাম, তখন আমার কান্না থামিয়ে দিতেন মামা ।

বাজারে যেতাম, মফস্বলের বাজারের সবচেয়ে বড় মাছটি কিনে নিয়ে বীরের বেশে বাসায় ফিরে আসতাম । তবে যে স্মৃতিটি চিরদিন অক্ষয় অমলিন হয়ে থাকবে, সেটি হলো শীতের সকালের কুয়াশাভেদী মামা ভাগিনার শুদ্ধ প্রাতঃভ্রমণ । হবিগঞ্জ ছোট শহর, প্রায় সারা শহরই ঘুরতে পারতাম এক সকালে । খ্রীষ্টান পাড়ার ছোট ছোট ঘরের সারির মধ্যে দিয়ে হেটে যাওয়ার পায়ের শব্দ এখনো পাই । কুয়াশায় ঢাকা শ্বশানঘাটের প্যানোরোমিক ছবি এখনও খুব বেশি স্পষ্ট ।

মাঝে মাঝে পথ চলতে চলতে গাছের নিচে পরে থাকা শুকনো পাতার স্তুপে আমি থমকে যেতাম । ছোট্ট দুই হাতে পাতা কুড়াতাম, দু একটি । কবি মামা তখন বিড়বিড় করে কি যেন বলতেন । তখন কিছু বুঝতাম না । কিন্তু এখন স্মৃতির আবহ ও কবি মামার মনঃস্তত্বের কোমল বিশ্লেষণে বুঝতে পারি, হয়তো তিনি বিড়বিড় করতেন - প্রিয়তম পাতারা ঝড়ে যাবে মনেও রাখবে না আমি কে ছিলাম, কী ছিলাম - কেন আমি সংসারী না হয়ে খুব রাগ করে হয়েছি সন্ন্যাসী হয়েছি হিরন দাহ, হয়েছি বিজন ব্যথ্যা, হয়েছি আগুন ! শহরের প্রায় বাইরে মামাদের পারিবারিক গোরস্থান আছে, হাটতে হাটতে সেখানেও যেতাম প্রায়ই ।

গোরস্থান দেখাতেন আমাকে, কবরে শুয়ে থাকা নানা নানির জন্য দোয়া করতে বলতেন । আজ, সেই গোরস্থানেই শুয়ে আছেন তিনি । আমি মামার বাড়িতে গেলে সেখানে গিয়ে এখন তাকে দেখি । [ মামা, আমি তোমার "Buttum Bird" কবিতা পড়তে পড়তে এখনো তোমাকে ভেবে বিষন্ন হই । ]


অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.