আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

রিমঝিম বিকাল ....

....

বাইরে বের হবো...মানিব্যাগ টা ধরেই শিহরিত হয়ে গেলাম !! সেখানে আমার তর্জনি ,মধ্যমা আর অনামিকার অতি স্পষ্ট ছাপ পরে গেল!মিটিমিটি চোখে তাকালাম....ব্যাপার টা কি?..আবিষ্কার করলাম কয়েক মাইক্রোমিটার পুরু ধুলার স্তর পরে আসে আমার মানিব্যাগ এর উপর!!যথেষ্ট নির্লিপ্ত ভাবে তারা ছড়িয়ে ছিটিয়ে উল্টে পাল্টে পরে আছে আমার পুরা মানিব্যগ জুরে! .... আমি বামে তাকালাম আমার পাশের টেবিল এ...দেখে তো গাছ থেকে পরলাম!! আরে এটা কি অবস্থা! সেখানেও ধুলারা রীতিমত একটা সভ্যতা গড়ে তুলসে! .....এবার আমি ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলাম । আরে আজব তো...আমিও তো ঘরে ছিলাম কই আমার মাথায় তো এত ধুলা পরলোনা!! সিদ্ধান্ত নিলাম চেচামেচি স্টার্ট করবো আম্মুর সাথে,নিজের বিছানা পরিষ্কার রেখে আমার ঘর নোংরা রাখে!.....পরে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে বাধ্য হলাম কারন আগের এক্সপিরিয়ান্স থেকে আমি জানি আম্মু যদি কোনো কারনে রি-এক্ট করে তাহলে রীতিমত নিউক্লিয়ার রি একশান থামাতে অনেক এনার্জির প্রয়োজোন হয় কারন আম্মুর সাথে কোনো ট্রিক্স কাজে আসেনা! (দোষটা মনে হয় আমার ই...আমি কয়েকদিন থেকে খোলা বই এর মত চুপচাপ পরে ছিলাম।এজন্য হয়ত এসব খেয়াল ই করিনি....) তাছারা আমি চাচ্ছিলাম না আজ বিকাল টা মাটি হয়ে যাক।এত্ত দিন পর একটু বাইরে যাচ্ছি....তাই মিনমিন করে অতিভদ্র সেজে মিষ্টি সুরে আমার ঘরের বেহাল অবস্থা আম্মুর কানে পৌছে দিলাম!! ফলাফল যা হল খুবই শুভ! চাওয়ামাত্র সে খুশি হয়ে আমার দিকে একটা বড়সড় নোট বাড়িয়ে দিলো আমি চুপ করে সেটা নিজের সেই মানিব্যাগ এ তুলে নিলাম! ******** বাইরে বের হয়ে রাতুল কে ফোন দিলাম। ওপাশ থেকে রাতুল এর আওয়াজ পেলাম সাথে একটা মেয়েরও রিনিঝিনি ও পেলাম! ভাবলাম, যাক!আজ বিকাল টা কেটে যাবে!!! ওদের সাথে দেখা করার কথা একটা ফাস্ট ফুড এ। আমি বেশ কিছুদুর আগেই রিক্সা থামায়ে বাকি পথটা হেটে হেটে গেলাম। হাটতে হাটতে আমি পোলাপাইন দেখলাম...কোচিং করে সদ্য বের হয়ে আসা একঝাক মেয়ে দেখলাম(!!)...গাছ দেখলাম...গাছের আম দেখলাম...আকাশ দেখলাম.....সবশেষে একটা তালা বদ্ধ পরিপাটি পাবলিক টয়লেট চোখে পরলো আজব হয়ে গেলাম!!! পাবলিক টয়লেট তালা বদ্ধ থাকলে পাবলিক যাবে কই...হা হা হা!! ....পরে মনে হল মে দিবস এর ইমপ্যক্ট হয়ত। নতুন তথ্য মনে হলো,মে দিবস এ পাবলিক টয়লেট ও বন্ধ থাকে! ************** তারপর আমি দ্রুত খাদ্যে পৌছে গেলাম! গিয়ে দেখি রাতুল আর তার কাজিন বসে আসে...অরা আমাক হট ডগ খাওয়ালো.... তারপর লাচ্ছি নামক একটা তরল পদার্থ ৩ টা গ্লাস এ করে আসলো!! আমি কোনোভাবেই সেটা গিলতে পারলাম না...ইয়াককক!! সেই লাচ্ছিটা রাতুল এর কাজিন খেয়ে ফেলল আর আমি কোক খেতে খেতে উদভ্রান্তের মত তার "অতিমানবীয় মজা নিয়ে সেই পানপর্ব" প্রত্যক্ষ করলাম!!!! ঐ লাচ্ছি জিনিসটা নাকি তার হেব্বি মজা লাগে ...... হাবিজাবি করে আস্তে আস্তে রাত হয়ে গেলো....অরা ফিরে গেলো ..আমি খানিক তর্কের পর ৪র্থ রিক্সাটির সাথে ফিক্সিং হল...বাসায় ফিরে আসলাম!!...এখন লিখতেসি ব্লগ ...এরপর কি করবো ...কেউ জানেনা!! ## পুনশ্চ: আমি মেয়েটার নাম মানে রাতুল এর কাজিন এর নাম টা ভুলে গেসি এই জন্য লেখার সময় লিখতেও ভুলে গেসি। রাতুল কে ফোন করবো ফোন এও দেখি টাকা নাই..ওর আবার সিটিসেল! আর আমি বার্গেন করতেসি...এই দৃশ্য অতি অতি রেয়ার!! আজ কান যানি আমি খানিক বার্গেন করে রিক্সা ধরলাম! এখনই দিয়ে দেই ....শুভরাত্রি...তোমাকে আর আমাকেও! এহ...রাতে আবার রোদচশমা পরে ভাব নিতে গেলাম ক্যন!!!!!!

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।