আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

কৃত্রিম মাংস

কম্পিউটার বিশারদ পেশায়, নেশায় যুক্তিবাদী

আমি কয়েক দিন ধরে বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে লিখে আসছি। আজকে কি লিখব ভাবতে ভাবতে পুরোনো একটা আর্টিকলে চোখ গেল। লিখে ফেললাম সেটাই। ইন-ভিট্রো মাংস হল কৃত্রিম মাংস, যা ল্যাবরেটরিতে তৈরি হয়। মাংস আসলে অনেক ফাইবারের মত দেখতে কোষ নিয়ে গঠিত।

প্রতিটি কোষের মধ্যে আবার একাধিক নিউক্লিয়াস থাকে। এই কোষগুলো নিজেরা বিভাজিত হয়না, এরা তৈরি হয় অনেকগুলো একি রকম দেখতে কোষ জোড়া লেগে। এই মূল কোষগুলোকে বলা হয় স্টেম সেল। কৃত্রিম মাংস তৈরি করার জন্য প্রথমে কিছু প্রকৃত পশু-মাংস নিয়ে শুরু করা হয়। তাদের থেকে স্টেম সেল বের করে একটি কৃত্রিম বৃদ্ধি-সহায়ক পরিবেশে রাখা হয়।

এই পরিবেশে নাইট্রোজেন, গ্লুকোজ, আমিনো এসিড বা অন্যান্য বৃদ্ধির উপাদান যথেষ্ট পরিমানে মজুদ থাকে। এই কৃত্রিম বৃদ্ধি-সহায়ক পরিবেশে স্টেম সেলগুলো বেড়ে এবং জোড়া লেগে বড় বড় মাংসের তন্তুতে পরিনত হয়। এই তন্তুগুলোকে জোড়া লাগিয়েই পাওয়া যায় কৃত্রিম মাংস। হল্যান্ড ও আমেরিকায় নাসার বিজ্ঞানীরা এ নিয়ে গবেষনা করছেন। হল্যান্ডের কিছু বিজ্ঞানীতো পেটেন্টও নিয়ে ফেলেছেন এর ওপরে।

আশা করা যাচ্ছে আগামী ২০ বছরের মধ্যে কৃত্রিম মাংস বাজারজাত হবে এবং বাজারে ভালোই জায়গা করে নেবে। পশুপ্রেমীরা এর মধ্যেই এর সমর্থনে নেমে পড়েছেন। তাছাড়া এই মাংসকে স্বাস্থ্যসম্মত করা সহজ, জীবানুর আক্রমণের সম্ভাবনাও কম। তবে বেশ কিছু হেলথ ট্রায়ালের আগে বাজারে এর জায়গা পাও্য়া শক্ত। স্বাদে গন্ধে কতটা মূল মাংসের মত হবে, সেটাও দেখার বিষয়।

এর মধ্যেও আছে ধার্মিকদের প্রবলেম। নিরামিষশী সম্প্রদায়ের এই মাংস না খাওয়ার কোনো কারণ নেই। তাদের মূল যুক্তি পশুপ্রেমের কথা এই মাংসের ক্ষেত্রে খাটে না। ইহূদি বা মুসলিম সম্প্রদায়ে যারা পশুর মাংস খেয়ে অভ্যস্ত তারাও ঠিক করে উঠতে পারছেন না খাওয়া উচিত হবে কিনা। আমি সম্প্রতি কয়েকজন নিরামিষাশী ও কয়েকজন মুসলিম বন্ধুকে ব্যাপারটা নিয়ে জিজ্ঞেস করেছিলাম।

কেউই সঠিক বলতে পারেনি এই মাংস খাওয়াটা বিধি-বিরোধী হবে কিনা, বলেছে বিষয়টা তর্কসাপেক্ষ। বিজ্ঞান আর অনেক কিছুই এরকম তৈরী করবে যাতে ধর্মীয় বিধি ওলটপালট হয়ে যাবে। বিশ্বাসে মিলায় বস্তু, তর্কে বহুদূর ...

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।