আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

"দেখেছি তার কালো হরিণ চোখ ৩"

আমার নিজের সম্পর্কে আমার ধারণা নেই :)

বাইরে বৃষ্টি পড়ছে। আফতাব ঘরের আলো নিভিয়ে বিছানায় শুয়ে রয়েছে। মা কয়েকবার খাওয়ার জন্য ডেকে গেছে। কিন্তু আফতাবের ক্ষুধা নেই। বুকের ভিতরটা কেমন জানি ফাঁকা ফাঁকা লাগছে।

ভয়ে নাকি সংশয়ে আফতাবের মনের ভিতরেও কালো মেঘ জমেছে। মেয়েদের দিকে ও একদমই তাকায় না। কিন্তু প্রথম যেদিন তনুকে দেখলো সেদিনই বুঝে গিয়েছিল এই মেয়ে তাকে কেন জানি আকর্ষণ করে। যতক্ষণ তনু পড়া বুঝে আফতাব ওর দিকে তাকায় না, কিন্তু ও মাথা নিচু করলেই আফতাব একদৃষ্টিতে ওর দিকে তাকিয়ে থাকে। ওর খাতার দিকে শান্ত দৃষ্টি, ওর কপালের কাছে পড়ে থাকা চুল, ওর একটা উচুঁ থাকা দাঁত , যেটা ওর হাসির সৌন্দর্যকে আরো বাড়িয়ে দেয় শতগুণে।

ওর রূপে মুগ্ধ আফতাব। কিছুতেই বোঝাতে পারেনা নিজেকে। শেষ পর্যন্ত আজ ও তনুর ম্যাথ বইয়ের ভাঁজে রেখে এসেছে ওর হৃদয়ের কথা। জানে ও এর পরিণাম খারাপও হতে পারে। তনুর মা জানলে ওর নামে কেলেংকারী ছড়াবে, তাতে ওর ভয় নেই।

ওর ভয় যদি তনু ওকে ভুল বুঝে!!! তনুর হাত পা ঠান্ডা হয়ে গেছে। ও ভয়ে ভয়ে চিঠিটা খুলল। " তনু, জানি হয়তো এই চিঠি পেয়ে তুমি আমাকে অনেক খারাপ একজন মানুষ মনে করবে, যে কিনা নিজের ছাত্রীকে চিঠি দেয়। কিন্তু বিশ্বাস করো, আমার আর কোনো উপায় ছিলো না। আমি আর পারছিলাম না এই বোঝা নিয়ে ঘুরতে।

হ্যা, আমি তোমাকে ভালোবাসি। তুমিই সেই প্রথম মানুষ যাকে দেখে আমার হৃদপিন্ডটা থমে গিয়েছিল কয়েক মুহুর্তের জন্য। নিজেকে বুঝিয়েছি অনেক , কিন্তু পারিনি তোমার মোহ থেকে বাঁচতে। ঘুমাতে পারিনা , খেতে পারিনা, পড়তে পারিনা। মাথার ভিতর শুধু দুটো চোখ ঘুরে।

তোমার চোখ। তোমার চোখের দিকে তাকিয়ে থাকতে ইচ্ছা করে। পারিনা, সাহসে কুলায় না। আমি অনেক ভিতু মানুষ। সারাক্ষণ হারানোর ভয়ে থাকি।

জানি তোমার এটা বয়স না। কিন্তু তোমাকে হারানোর ভয়েই আমি এখন এগুলো বললাম। তোমাকে আমি এরপর শুধু একদিনই পড়াতে আসবো। তারপর আর তোমাকে পড়াব না। কারণ এসব বলার পর তোমাকে পড়ানো আমার উচিত না।

যদি পারো আমার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রশ্নটার উত্তর দিও। আফতাব। " কি করবে এখন তনু?? কাকে বলবে? মাকে? নাহ। মাকে বলাটা উচিত হবে না। মা রেগে গিয়ে অনেক ঝামেলা করতে পারে।

মিতুকে কি বলবে কথাটা? ও তো বলে দিতে পারবে তনুর এখন কি করা উচিত। মাথাটা কাজ করছে না তনুর। শরীরটা অবশ লাগছে। কেনো এমন একটা কাজ করলো স্যার? ধুররর। এমন না যে আফতাব স্যার মানুষটা খারাপ।

খুব ভালো ছেলে, এলাকার সবাই তাকে ভালোবাসে। দেখতেও ভালো, পড়াশুনাতেও ভালো। এমন একটা মানুষ কেনো তার প্রেমে পড়লো? বুঝতে পারছে না তনু। তার মাঝে উনি নাকি পড়ানোও ছেড়ে দিবে । সামনে টেস্ট পরীক্ষা আর এখন এসব ঝামেলা।

নতুন স্যারই বা পাবে কোথায়? কান্না পায় তনুর। সেই কান্না কি স্যার হারানোর কান্না নাকি কিশোরী মনের আবেগের কান্না তা সে নিজেও জানেনা। শুধু দুচোখ দিয়ে বৃষ্টি ঝড়ে পড়ে। বাহিরে আকাশ কাঁদছে আর ঘরের ভিতর একটা কিশোরী মেয়ে তার প্রথম আবেগের ধাক্কায় কাঁদছে। কার কান্না যে বেশি সুন্দর কেউই তা বলতে পারবে না হয়ত।

** কালকে লিখতে পারিনাই। খুবই দুঃসময় যাচ্ছে। কিন্তু আজ জোর করেই সময় বের করলাম। বলা যায় নিজের সময় ডাকাতি করলাম এটা লেখার জন্য। কিন্তু বেশি সময় নাই তাই অল্প অল্প করেই হোক জীবনের গল্প।

আরেকটা কথা, আমার জানালার পাশেও এখন অঝোর ধারায় বৃষ্টি পড়ছে। ** " দেখেছি তার কালো হরিণ চোখ ১" " দেখেছি তার কালো হরিণ চোখ ২"

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।