আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

"রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র" আসল উদ্দেশ্য কি ?



জব্বার চাচা ছিল বোকা সোকা হত দরিদ্র একজন কৃষক । অভাব অনটন যেমন তার জীবন সঙ্গী ছিল তেমনি একজন পুজিবাদী বিত্তবান ছিল তার প্রতিবেশী। তবে বিপদে আপদে জব্বার চাচার প্রতিবেশী জব্বার চাচাকে বেশ সহযোগীতা করতো। অনেক সময় জব্বার চাচার ঘরে যখন খাবার থাকতো না তখন তার প্রতিবেশীর ভাতের মার কিংবা খাবারের উচ্ছিষ্ট খেয়ে তার ছেলে সন্তানদের জীবন বাঁচতো। আবার কখনও বা জব্বার চাচার প্রতিবেশী পঁচা গম বার্লি ডাষ্টবিনে ফেলে দেওয়ার পরিবর্তে জব্বার চাচার পরিবার কে দান করে বিরাট উপকার করতো।

এরকম বিভিন্ন উপায়ে জব্বার চারার পরিবার তার প্রতিবেশী পরিবারের কাছ থেকে সহযোগীতা পেয়ে আসছিল। একদিন রাতে যখন প্রচন্ড শীত পড়লো জব্বার চাচা তখন শীতে কাঁপতে কাঁপতে বাজার থেকে বাড়িতে এসে দেখলো তার ছেলেমেয়ে সবাই শীতে ঠক ঠক করে কাঁপছে। ঘরে কোন আলো নেই। পাঠকাঠির ভাংগা দেওয়াল আর মাঝে মাঝে খসে পড়া পঁচা গোলপাতার ছাওনির ফাঁকা দিয়ে হু হু করে শীতল বাতাস ঢুকছে। জব্বার চাচা আর সহ্য করতে পারছেন না, হঠাৎ তিনি চিন্তা করলেন উঠোনে একটু আগুন জালিয়ে তাপ নিয়ে শীত নিবারন করবেন।

কিন্তু আগুন জালাতে তো দিয়াশলাইয় লাগবে, আরো লাগবে খড় কুঁটো। খড় কূঁটোর তার অভাব নেই তার কেবল দিয়াশলাইয়ের জন্য প্রতিবেশীর সাহায্য চায়। জব্বার চাচা প্রতিবেশীর দুয়ারে ছুটে গেলেন আর তার দরদি প্রতিবেশীও সগৌরবে এগিয়ে এলেন সাহায্য করতে এবং জালিয়ে দিলেন জব্বার চাচার ঘর দোর, বাঁশের বেড়া, মাঁচা বসতবাড়ী। জব্বার চাচা আর তার সন্তানেরা উঠনে শুয়ে বসে আগুনের তাপে দারুন আরামে রাত কাটালেন আর প্রতিবেশীর মঙ্গল কামনা করলেন। জব্বার চাচার প্রতিবেশীও আগুনের তাপে দারুন আরামে রাত কাটালো ।

কিন্তু সকাল বেলা যখন সূর্য উঠে শীতকে তাড়িয়ে দিলো তখন জব্বার চাচার বসতভীটায় কেবল ছায় আর ছায় ছাড়া আর কিছুই থাকল না। কাঁদতে কাঁদতে জব্বার চাচা প্রতিবেশীকে জিজ্ঞেস করলো আপনি নিজের ঘর থাকতে কেন আমার ঘরে আগুন দিলেন ? প্রতিবেশী উত্তর দিলেন আমার ঘর তো ইটের দালান সেখানে আগুন দেওয়া যায় না । এই গল্পটার মতো আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত বিভিন্ন বিষয়ে আমাদের অনেক সাহায্য সহযোগীতা করে থাকেন যা প্রসংসনীয় । কিন্তু সুন্দরবনের পাশে বাগেরহাটের রামপালে বহু বিতর্কিত কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রে স্থাপন অনেক টা আমার এই গল্পের সাথে মিলে যায়। ভারতীয় আইন অনুসারে সেদেশে সুন্দরবনের ২৪ কিলোমিটারের মধ্যে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র করার সুযোগ নেই, কারন তারা নিজের দেশ ও দেশের সম্পদ ও সম্পত্তিতে বেশ সতর্ক ও সার্থপর জাতি।

কেবল আমরা বাংলাদেশীরা যে ডালে বসে আছি সেই ডালই কাটছি কিন্তু যতক্ষন না মাটিতে ছিটকে পড়ছি ততক্ষন পর্যন্ত বুঝতে পারিনা আসলে কি করছি। ১০,০০০ বর্গ কিলোমিটার জুড়ে গড়ে ওঠা সুন্দরবনের ৬,০১৭ বর্গ কিলোমিটার রয়েছে বাংলাদেশে আর বাকিটা ভারতের পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে বিস্তৃত। এই হিসেব অনুযায়ী মোট সুন্দরবনের বেশীর ভাগ অংশের মালিক আমরা বাংলাদেশীরা। কিছুদিন আগে ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায় বাংলাদেশ সফরে এসে বলেছিলেন ভারত-বাংলাদেশকে যৌথভাবে সুন্দরবন রক্ষার দায়িত্ব নিতে হবে। আজ তার ই ধারাবাহিকতায় নিজের দেশে আইন করে সুন্দরবন রক্ষা করছেন আর আমাদের দেশের সুন্দরবনের বিরাট অংশকে নিজেদের স্বার্থে ধংস করে বাংলাদেশ সরকারের সাথে আতাত করে সুন্দরবনের পাশে বাগেরহাটের রামপালে কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের স্থাপন করতে যাচ্ছেন।

আর আমরা এখন ও চুপ করে আছি এবং ততক্ষন চুপুকরে থাকবো যতক্ষন না সুন্দরবনের সবটুকুন ছায় হয়ে যায়।


এর পর.....

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।