আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

সুন্নাতে রাসুলুল্লাহ (সাঃ) নিয়ে আলোচনা (১ম পর্ব)

الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على خاتم الأنبياء والمرسلين، وعلى آله وصحبه أجمعين، وعلى من تبعهم بإحسان إلى يوم الدين

আল্লাহর রাসুল (সাঃ) তার জীবানাদশায় যে সকল কর্ম করেছেন মুসলমানদের জন্য পালন সেই গুলো অপরিহার্য়। আজকে সেই বিষয়েই আমার এই আলোচনাঃ-

ইস্তিঞ্জার সুন্নাতসমূহঃ-

১. মাথা ঢেকে রাখা। (বাইহাকী শরীফ, হাঃ নং ৪৫৬)

২. জুতা-সেন্ডেল পরিধান করে যাওয়া। (তাবাকাতে ইবনে সাআদ’, ১৮৫/ কানযুল উম্মাল, হাঃ নং-১৭৮৭২)

৩. পায়খানায় প্রবেশের পূর্বে এই দু‘আ পড়া : بسم الله اللهم انى اعوذبك من الخبث والخبائث (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবাহ, হাঃ নং ৫)

৪. দু‘আ পড়ার পর আগে বাম পা ঢুকানো। (আবু দাউদ, হাঃ নং ৩২)

৫. কিবলার দিকে মুখ বা পিঠ দিয়ে না বসা।

(বুখারী শরীফ, হাঃ নং ১৪৪)

৬. যথাসম্ভব বসার নিকটবর্তী হয়ে ছতর খোলা এবং বসা অবস্থায় পেশাব ও পায়খানা করা, দাঁড়িয়ে পেশাব না করা। (নাসায়ী শরীফ, হাঃ নং ২৯/ তিরমিযী শরীফ, হাঃ নং ১৪)

৭. পেশাব ও নাপাক পানির ছিঁটা হতে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে বেঁচে থাকা। (বুখারী শরীফ, হাঃ নং ২১৮)

৮. পানি খরচ করার পূর্বে ঢিলা-কুলুখ (বা টয়লেট পেপার) ব্যবহার করা। (বাইহাকী, হাঃ নং ৫১৭)

৯. ঢিলা ও পানি খরচ করার সময় বাম হাত ব্যবহার করা। (বুখারী শরীফ, হাঃ নং ১৫৪)

১০. পেশাবের ফোঁটা আসা বন্ধ হওয়ার জন্য আড়ালে সামান্য চলাফেরা করা।

(ইবনে মাজাহ শরীফ, হাঃ নং ৩২৬)

১১. যেখানে পেশাব ও পায়খানার জন্য নির্ধারিত কোন জায়গা নেই, সেখানে এমনভাবে বসা যেন ছতর নজরে না পড়ে। (আবু দাউদ হাঃ নং ২)

১২. পেশাবের জন্য নরম বা এমন স্থান তালাশ করা যেখান থেকে পেশাবের ছিঁটা শরীরে বা কাপড়ে না লাগে। (আবু দাউদ, হাঃ নং ৩)

১৩. ঢিলা-কুলুখ ব্যবহারের পর পানি ব্যবহার করা। (সহীহ ইবনে খুযাইমা, হাঃ নং ৮৩)

১৪. ডান পা দিয়ে বের হওয়া। (আবু দাউদ, হাঃ নং ৩২)

১৫. বাইরে এসে এই দু‘আ পড়া : غفرانك الحمد لله الذى اذهب عنى الاذى وعافانى (আবু দাউদ, হাঃ নং ৩০ : ইবনে মাজাহ, হাঃ নং ৩০১)

উযুর ফরয ৪টিঃ-

১. সমস্ত মুখ একবার ধৌত করা।

(সূরা মায়িদা, আয়াত নং ৬)

২. দুই হাত কনুইসহ একবার ধৌত করা। (ঐ)

৩. মাথার এক চতুর্থাংশ একবার মাসাহ করা। (ঐ)

৪. উভয় পা টাখনুসহ একবার ধৌত করা। (ঐ)

ফায়দা : উপরোক্ত চারটি কাজের কোন একটি না করলে বা এর মধ্যে এক চুল পরিমাণও শুকনা থাকলে উযু সহীহ হবে না। (প্রমাণ : শামী, ১ : ৯১/ আল বাহরুর রায়িক, ১ : ৯/ হিদায়া, ১ : ১৬)

উযুর সুন্নাতসমূহঃ-

১. উযুর নিয়ত করা অর্থাত উযুকারী মনে মনে এই নিয়ত করবে যে, পবিত্রতা অর্জন করা ও নামায জায়েয হওয়ার জন্য আমি উযু করছি।

(সূরা বায়্যিনাহ, ৫/ বুখারী শরীফ, হাঃ নং ৬৬৮৯)

২. বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম পড়ে উযু আরম্ভ করা। হাদীসে পাকে আছে, বিসমিল্লাহি ওয়াল হামদুলিল্লাহ পড়ে উযু করলে যতক্ষণ ঐ উযু থাকবে, ফেরেশতাগণ তার নামে ততক্ষণ অনবরত সাওয়াব লিখতে থাকবে, যদিও সে কোন মুবাহ কাজে লিপ্ত থাকে। (নাসায়ী শরীফ, হাঃ নং ৭৮/ তাবারানী সাগীর, ১ : ৭৩)

৩. উভয় হাত পৃথকভাবে কব্জিসহ তিনবার ধোয়া। (বুখারী শরীফ, হাঃ নং ১৫৯)

৪. মিস্‌ওয়াক করা। যদি মিস্‌ওয়াক না থাকে তাহলে আঙ্গুল দ্বারা দাঁত মাজা মিস্‌ওয়াক অর্ধ হাতের চেয়ে বেশি লম্বা না হওয়া এবং গাছের ডাল হওয়া মুস্তাহাব।

(মুসনাদে আহমাদ, হাঃ নং ৯২১৬, ১৩৯, ৩৯৯০/ তিরমিযী, হাঃ নং ২৩/ বাইহাকী, হাঃ নং ১৭৪)

৫. তিনবার কুলি করা। (বুখারী শরীফ, হাঃ নং ১৮৫)

৬. তিনবার নাকে পানি দেয়া এবং নাক সাফ করা। (সহীহ ইবনে হিব্বান, হাঃ নং ১০৭৭)

৭. ততসঙ্গে প্রতিবারই নাক ঝাড়া। (মুসলিম শরীফ, হাঃ নং ২৩৬)

৮. প্রত্যেক অঙ্গকে পূর্ণভাবে তিনবার করে ধোয়া। এর জন্য তিনবারের বেশি পানি নিতে হলে নিবে।

(বুখারী শরীফ, হাঃ নং ১৫৯)

৯. দুই হাতে মুখ ধোয়া এবং মুখমণ্ডল ধোয়ার সময় দাড়ি খিলাল করা। (তিরমিযী, হাঃ নং ৩১)

১০. হাত ও পা ধোয়ার সময় আঙ্গুলসমূহ খিলাল করা। (তিরমিযী, হাঃ নং ৩৮)

১১. একবার সম্পূর্ণ মাথা মাসাহ্ করা। (তিরমিযী, হাঃ নং ৩৪)

১২. উভয় কান মাসহ করা। উল্লেখ্য, কানের ছিদ্রের মধ্যে কনিষ্ঠ আঙ্গুল ঢুকিয়ে এবং ভিতর দিকে অবশিষ্ট অংশে শাহাদাত আঙ্গুল দ্বারা মাসাহ করা।

(তিরমিযী, হাঃ নং ৩৩/ আবু দাউদ, হাঃ নং ১৩৫)

১৩. উযুর অঙ্গসমূহ হাত দ্বারা ঘষে-মেজে ধোয়া। (মুস্তাদরাক, হাঃ নং ৫৭৬/ সহীহ ইবনে খুযাইমা, হাঃ নং ১১৮)

১৪. এক অঙ্গ ধোয়ার পর অন্য অঙ্গ ধৌত করতে বিলম্ব না করা। (মুসলিম, হাঃ নং ২৪৩/ আবু দাউদ, হাঃ নং ১৭৩)

১৫. তরতীবের সাথে উযু করা। অর্থাত উযুর অঙ্গসমূহ ধোয়ার সময় ধারাবাহিকতা বজায় রাখা। (আবু দাউদ, হাঃ নং ১৩৭)

১৬. ডান দিকের অঙ্গ আগে ধোয়া।

(বুখারী শরীফ, হাঃ নং ১৬৮)

১৭. শীত অথবা অন্য কোন কারণে যখন উযু করতে ইচ্ছে না হয়, তখনও উযুর অঙ্গসমূহ উত্তমরূপে ধুয়ে উযু করা। (তিরমিযী, হাঃ নং ৫১/ মুসলিম, হাঃ নং ২৫১)

১৮. উযুর মধ্যে নিম্নোক্ত দু‘আটি পড়া : اللهم اغفرلى ذنبى ووسع لى فى دارى وبارك لى فى رزقى (আমালুল্‌য়াওমি ওয়াল লাইলি লি ইবনিসসুন্নী, হাঃ নং ২৮) এবং উযু শেষ করে কালিমায়ে শাহাদাত পড়া। (মুসলিম শরীফ, হাঃ নং ২৩৪)

অতঃপর এ দু‘আ পড়া : اللهم اجعلنى من التوابين واجعلنى من المتطهرين

(তিরমিযী, হাঃ নং ৫৫)

উল্লেখ্য, গোসল এবং তায়াম্মুমের শুরু ও শেষে উযুতে বর্ণিত দু‘আ পড়বে।

বি.দ্র. শুধু এ সব বর্ণনা পড়ার দ্বারা সুন্নাত তরীকায় উযু করা সম্ভব নয়, এ জন্য কোন হাক্কানী আলেম থেকে সব বিষয়গুলো চাক্ষুষভাবে দেখে নিবে। আল্লাহ তা‘আলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে হযরত জিবরাঈল (আ.)-এর মাধ্যমে সকল বিষয় চাক্ষুষভাবে দেখিয়ে শিক্ষা দিয়েছেন।

(তিরমিযী, হাঃ নং ১৪৯)

গোসলের ফরয তিনটিঃ-

১. ভালভাবে একবার কুলি করা। (সূরা মায়িদা, আয়াত নং ৬)
২. নাকের নরম স্থান পর্যন্ত একবার পানি পৌঁছানো। (ঐ)
৩. সমস্ত শরীরে একবার পানি পৌঁছে দেয়া, যেন কোথাও এক চুল পরিমাণ শুকনো না থাকে। (ঐ/ তিরমিযী, ১০৩; আল বাহরুর রায়িক, ১ : ৪৫/ শামী, ১ : ১৫১)

গোসলের সুন্নাতসমূহঃ-

১. ফরয গোসলের পূর্বে ইস্তিঞ্জা অর্থাত পেশাব করা। (মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক, হাঃ নং ১০২০)

২. শুরুতে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম পড়া।

(মুসনাদে আহমাদ, হাঃ নং ১২৬৯৪)

৩. পৃথকভাবে উভয় হাত কব্জিসহ ধোয়া। (বুখারী শরীফ, হাঃ নং ২৪৮)

৪. শরীর বা কাপড়ের কোন স্থানে নাপাকী লেগে থাকলে প্রথমে তা তিনবার ধুয়ে পবিত্র করে নেয়া। (মুসলিম শরীফ, হাঃ নং ৩২১)

৫. নাপাকী লেগে থাকলে বা না লেগে থাকলে সর্ব অবস্থায় গুপ্তাঙ্গ ধৌত করা। এরপর উভয় হাত ভালভাবে ধুয়ে নেয়া। (বুখারী শরীফ, হাঃ নং ২৪৯)

৬. সুন্নাত তরীকায় পূর্ণ উযু করা।

তবে গোসলের স্থানে পানি জমে থাকলে, গোসল শেষ করে পা ধৌত করবে। (বুখারী শরীফ, হাঃ নং ২৬০)

৭. প্রথমে মাথায় পানি ঢালা। (বুখারী শরীফ, হাঃ নং ২৫৬)

৮. এরপর ডান কাঁধে। (বুখারী শরীফ, হাঃ নং ২৫৪)

৯. এরপর বাম কাঁধে। (বুখারী শরীফ, হাঃ নং ২৫৪)

১০. অতঃপর অবশিষ্ট শরীর ভিজানো।

(বুখারী শরীফ, হাঃ নং ২৭৪)

১১. সমস্ত শরীরে এমনভাবে তিনবার পানি পৌঁছানো, যেন একটি পশমের গোড়াও শুষ্ক না থাকে। (আবু দাউদ, হাঃ নং ২৪৯/ মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাঃ নং ৮১৩)

তবে নদী-পুকুর ইত্যাদিতে গোসল করলে কিছুক্ষণ ডুব দিয়ে থাকলেই তিন বার পানি ঢালার সুন্নাত আদায় হয়ে যাবে। (আবু দাউদ, হাঃ নং ২৪৯/ মুসান্নাফে ইবনে আবী মাইবা, হাঃ নং ৮১৩)

১২. সমস্ত শরীর হাত দ্বারা ঘষে-মেজে ধৌত করা। (তিরমিযী, হাঃ নং ১০৬)

তায়াম্মুমের ফরয ৩টিঃ

১. নিয়ত করা অর্থাত নামায পড়া বা কুরআন তিলাওয়াতের জন্য পবিত্রতা অর্জনের নিয়ত করা। (সূরা নিসা, আয়াত : ৪৩)

২. অতঃপর মাটি বা মাটি জাতীয় কোন পবিত্র জিনিসে প্রথমবার হাত মেরে সমস্ত মুখমণ্ডল মাসাহ্ করা।



৩. অনুরূপভাবে দ্বিতীয়বার মাটিতে হাত মেরে দুই হাত কনুইসহ মাসাহ্ করা। (ঐ/ হিদায়া, ১ : ৫০-৫১/ আলমগীরী, ১:২৫-২৬)

তায়াম্মুমের সুন্নাতসমূহঃ-

১. তায়াম্মুমের শুরুতে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম পড়া। (মুসনাদে আহমাদ, হাঃ নং ১২৬৯৪)

২. মাটিতে হাত রাখার সময় আঙ্গুলসমূহ ফাঁক করে রাখা। (মুসলিম, হাঃ নং ৩৬৮)

৩. মাটিতে উভয় হাত রাখার পর হস্তদ্বয় সামান্য আগে পিছে নিয়ে মাটিতে ঘর্ষণ করা। (মুসলিম, হাঃ নং ৩৬৮)

৪. তারপর উভয় হাত ঝেড়ে নেয়া।

(মুসলিম, হাঃ নং ৩৬৮)

৫. তায়াম্মুমে অঙ্গসমূহ মাসাহ্ করার সময় ধারাবাহিকতা বজায় রাখা। অর্থাত প্রথমে সম্পূর্ণ মুখমণ্ডল, তারপর ডান তারপর বাম হাত কনুইসহ মাসাহ্ করা। (আবু দাউদ, হাঃ নং ৩৩০)

৬. চেহারা ও হাতের মাসাহ্-এর মাঝে বিলম্ব না করা। (আবু দাউদ, হাঃ নং ৩৩০)




চলবে............

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।