আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

হাজারো কণ্ঠের ডাক- জামায়াতকে ছাড় নয়

গণজাগরণ মঞ্চের সমাবেশে হাজারো কণ্ঠে আওয়াজ ওঠে- সাম্প্রদায়িকতার জন্য ‘দায়ী’ জামায়াতকে আর ছাড় দেয়া চলবে না।

রোববার বিকাল সোয়া ৩টার দিকে জাগরণের রোড মার্চ যখন গড়েয়ায় পৌঁছায়, ততোক্ষণে সেখানে জড়ো হয়েছেন কয়েক হাজার মানুষ।

বারোটার দিকে দিনাজপুরের বীরগঞ্জের পথসভার পর রোডমার্চ চলতে শুরু করে গড়েয়ার উদ্দেশ্যে। ২টার দিকে ঠাকুরগাঁও জেলায় প্রবেশ করে গাড়ি বহর। গাড়ি বহরকে এগিয়ে নিতে আসা ঠাকুরগাঁওয়ের বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ সেখান থেকেই মটর সাইকেল ও পিকআপ ভ্যানে করে রোডমার্চে যোগ দেয়।

এছাড়াও রাস্তার মোড়ে মোড়ে বিভিন্ন জায়গায় শত শত মানুষ গণজাগরণমঞ্চের এগিয়ে চলা রোডমার্চের সঙ্গে কণ্ঠ মেলায়।

গড়েয়া আশ্রমের পাশে বটতলা মাঠে এই সমাবেশে গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার বলেন, “১৯৪৭ এর পর দেশে যতোগুলো সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হয়েছে, সবগুলোতেই জামায়াত জড়িত। অথচ এখানো তাদের অনেকে রাজনৈতিক দল হিসাবে ভাবেন।

“এরা মানুষ হত্যা করে, গাড়িতে আগুন দেয়। মানুষের বসত বাড়ি পুড়িয়ে দেয়, রান্না করা খাবারও তছনছ করে।

স্কুলের বই থেকে শুরু করে কোরআন-গীতা-বাইবেল কোনোকিছুই এদের হাত থেকে রক্ষা পায় না। ”

জামায়াত নিষিদ্ধের এই দাবিতে রাজনীতিবিদদেরও শামিল হওয়ার আহ্বান জানান ইমরান।

তিনি বলেন, “আমরা আর অপেক্ষা করতে চাই না। ১১মাস আমরা রাস্তায় আন্দোলন করছি। আমরা সরকারকে ছয় দফা দাবি জানিয়েছিলাম।

প্রধানমন্ত্রী সংসদে দাঁড়িয়ে সেই দাবি মেনে নেয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তাহলে কেন এখনো এই সন্ত্রাসী দলটিকে নিষিদ্ধ করা হচ্ছে না?

“হয় এদেরকে নিষিদ্ধ করার পক্ষে থাকবেন, নয়তো মানুষ হত্যা-মন্দিরে আগুনসহ এদের সব অপকর্মের দায় নিতে হবে। ”

সকাল থেকে গোপালপুরের জনসভায় থাকা চন্দন রায় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, সকাল ৮টা থেকেই এ মাঠে মানুষ আসতে শুরু করে। মোটর সাইকেল ও বাই সাইকেলে চড়ে অনেকেই দূরদূরান্ত থেকে আসেন সমাবেশে যোগ দিতে।

গোপালপুর বাজারের ওষুধ ব্যবসায়ী যুধিষ্ঠির রায় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, এ বাজারে ৩৬টি দোকানের মধ্যে ২৪টিই হিন্দুদের।

নির্বাচনের দিন সবগুলো দোকানেই লুটপাট ও ভাঙচুর করা হয়। হামলা হয় অনেকের বাড়িতেও।

 

“তাদের আক্রমণে হাজার হাজার মানুষ ঘর বাড়ি ছেড়ে পালায়। বহুম মানুষ গোপালপুর আশ্রম এলাকায় আশ্রয় নেন সে সময়। ”

ইমরান সমাবেশে বলেন, “এদেশের যে মানুষেরা সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে একবার দাঁড়িয়েছে, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে একবার দাঁড়িয়েছে, মানুষকে আগুনে পোড়ানোর বিরুদ্ধে একবার দাঁড়িয়েছে, তাদের সবাই একত্রিত হলে এরা পালানোর জায়গা পাবে না।

‘জামায়াত-শিবির-যুদ্ধাপরাধীদের’ জন্য দেশের ‘এক ইঞ্চি ভূমিও’ ছাড় দেয়া হবে না বলে ঘোষণা দেন জাগরণমঞ্চের এই মুখপাত্র।

অন্যদের মধ্যে গণজাগরণ মঞ্চের সংগঠক মাহমুদুল হক মুন্সী, জনার্দন দত্ত নান্টু, মীর রেজাউল আলম, তানভীর রুসমত, শাহজাহান আলী সাজু, লাকি আক্তার ও সংগীতা ইমাম এই সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন।


সোর্স: http://bangla.bdnews24.com

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.