আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

তোমার সাথে, পায়ে পায়ে চলা

পঞ্চান্ন হাজার বর্গের এই বদ্বীপ ভূমিতে, বটের ঝুরির মতো বয়ে যাওয়া
শত শত বহতা নদীতে অতি ক্ষুদ্র পলি-কণা হয়ে,
তুমিও তো মিশে যেতে, হারাতে অনেক আগে দক্ষিণের সুনীল সাগরে -
যেমনি হারিয়ে গেছে মান্দান, নূকাক, কুরাণা, মোহাক, আরাবানা আর
হাজার নামের সব তোমারই পূর্ব-পুরুষেরা।

প্রভুরা এমনি করে লিখেছিলো নাটকের পাঠ; বিভীষণ ছিলোও প্রস্তুত, নরকের সান্ত্রীর মতোই।

তুমি-হীন সে নাটকে রবীন্দ্র-উদ্যান নেই,
বাজেনা বিষের বাঁশী, আঁকেনা কখনো কেউ পদচিহ্ন ভগবান বুকে,
বনলতা সেন হয় নির্বাসিত রাক্ষস পুরীতে,
সোজন বাদিয়া কভু ভেড়ায়না তরী শিমুলতলীর ঘাটে,
পাল্কিতে যায়না বধূ বাপের বাড়ীতে, রাখালিয়া বাঁশীগুলো নিস্তব্ধ দুপুর;
ডাকেনা দোয়েল, শ্যামা, ফোটেনা শাপলা ফুল ময়ূরাক্ষী জলে।
রুক্ষ-শুষ্ক পাথরের প্রাণহীন পটে, বিকেলের ক্লান্ত রোদে,
ছায়াকে পেছনে রেখে হেটে যায় পেশোয়ারী বাদামী খচ্চর।

কতিপয় হারকিউলিস গোপনে লিখে ফেলে আরেক নাটক, অন্য কুশীলবে, অন্য সমাপ্তিতে।



সে নাটকে একে একে, পঞ্চান্ন হাজার বর্গে জ্বলে ওঠে
পঞ্চান্ন হাজার কোটি বিদ্রোহের অনির্বাণ শিখা;
টেকনাফ থেকে উঠে সমুদ্র-নির্ঘোষ, নিমেষে লাভার মতো ছুটে যায় অন্য প্রান্তে;
ছুঁয়ে দেয় তেঁতুলিয়া - প্রতিবাদে নির্মম নিষ্ঠুর।
ছিঁড়ে ফেলো অচেনা আকাশ। আবার নতুন করে আঁকো, নব পত্রে বঙ্গীয় সুষমা।
তারা ভালবেসে, বুকের রুধির ঢেলে এঁকে দিলো লাল কৃষ্ণচূড়া
নতুন ক্যানভাসে। সকলি তোমার জন্যে, হে বঙ্গ দুহিতা।



তাই তুমি বেঁচে গেলে। তাইতো তোমার সাথে, পায়ে পায়ে চলা হলো এতগুলো বর্ণীল বছর।

আমি এক স্বপ্নময় কবিতা পূজারী, তোমার চরণধূলি গায়ে মেখে
গীতাঞ্জলীর দেশ থেকে দোলনচাঁপার পথ বেয়ে, বারবার ফিরে আসি
এই বাংলায় শঙ্খচিল বেশে। "হোমারের স্বপ্নময় হাত"
আমার চোখের মাঝে ঝলসে উঠে মেঘ চেরা বিদ্যুতের ফলার মতোন।
"দেনমোহর চেওনা হরিণী" বলে ভিক্ষা নিয়ে "সোনালী কাবিন",
"চান্নি পশর রাতে" জোৎস্নাভুক আমি, একা একা গিলে ফেলি পুরোটা আকাশ।




---------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
মান্দান, নূকাক, কুরাণা, মোহাক, আরাবানা - এগুলো বিভিন্ন দেশের কতগুলো লুপ্ত বা লুপ্তপ্রায় ভাষার নাম। এই সব নাম গুলোর সাথে বাংলা ভাষার নামও যুক্ত হয়ে যাবার কথা ছিল। একটা জাতিকে ধ্বংস করে দেবার জন্য তার মাতৃভাষাকে কেড়ে নেয়াই যথেষ্ট - কারণ মাতৃভাষাকে কেড়ে নেয়ার অর্থ হলো সে জাতির অতীত গৌরবের সাথে সব সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করে দেয়া। আমাদের সৌভাগ্য, ভাষা শহীদেরা তা হতে দেন নি। তাদের পবিত্র স্মৃতির উদ্দেশ্যে এ ক্ষুদ্র নিবেদন।

সোর্স: http://prothom-aloblog.com

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.