আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

পিংকসিটির সালাহউদ্দিনের বিরুদ্ধে প্রতার

জাল-জালিয়াতির অভিযোগে পিংকসিটি জেনোভ্যালির চেয়ারম্যান সালাহউদ্দিন ও তার স্ত্রী ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহমুদা খাদিজা আক্তারসহ সাতজনের বিরুদ্ধে প্রতারণা মামলা হয়েছে। মামলা নম্বর ১। গত শনিবার রাজধানীর খিলক্ষেত থানায় ফৌজদারি কার্যবিধি ৪০৬/৪২০ ধারায় এ মামলাটি দায়ের করেন অবসরপ্রাপ্ত জেলা জজ মোহাম্মদ আমানউল্লাহ। তিনি পিংকসিটি জেনোভ্যালির বাড়ির মালিকদের সংগঠন 'পিংকসিটি হোম ওনার্স মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডের সহ-সভাপতি। খিলক্ষেত থানা পুলিশ জানায়, প্রতারণা মামলার আসামি সালাহউদ্দিন ও তার সহযোগীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

উল্লেখ্য, পিংকসিটি জেনোভ্যালির চেয়ারম্যান সালাহউদ্দিনের বিরুদ্ধে অবৈধ দখল, প্রতারণা, সন্ত্রাস, অস্ত্রসহ দেড় ডজন মামলা রয়েছে। জানা গেছে, খিলক্ষেতের ডুমনিতে গড়ে তোলা পিংকসিটি জেনোভ্যালিতে বাড়ি কিনে প্রতারিত হওয়া ২৪৭ জন বাড়ির মালিকের পক্ষে গত শনিবারের মামলাটি দায়ের করা হয়। বাড়ির মালিকদের অভিযোগ, ঢাকা শহরের কোলাহলমুক্ত নান্দনিক পরিবেশে বসবাসযোগ্য আধুনিক শহরের সুবিধা সংবলিত চটকদার বিজ্ঞাপনে আকৃষ্ট হয়ে তারা খিলক্ষেতের পিংকসিটিতে ডুপ্লেঙ্ বাড়ি ক্রয় করেন। এরপরই তারা বুঝতে পারেন যে, তারা চরমভাবে প্রতারিত হয়েছেন। শিশুদের খেলার মাঠ, সুইমিং পুল, লেক, স্কুল ইত্যাদি থাকার কথা বিজ্ঞাপনে থাকলেও বাস্তবে তা নেই। বরং মাঠের জন্য যে জমিটি বরাদ্দ রাখা হয়েছিল, তাও বহুতল ভবন করে ফ্ল্যাট তৈরি করা হবে বলে নতুন করে বিজ্ঞাপন দেওয়া হচ্ছে। রাজউকের অনুমোদন করার কথা থাকলেও এখনো তা করা হয়নি। এজাহারে বলা হয়, খেলার মাঠে বহুতল ভবন নির্মাণের অপচেষ্টা চলছে। সেখানে বহুতল ভবন নির্মাণ করা হলে আবাসিক প্রকল্পটি রাজউকের অনুমোদন পাবে না। এতে নাগরিক সুবিধাদি থেকে তারা বঞ্চিত হবেন। অথচ রাজউকের অনুমোদনের জন্য প্রতিটি মালিকের কাছ থেকে ৪০ হাজার টাকা করে চাঁদা নেওয়া হয়েছে। যা প্রতারণার শামিল।

এজাহারে আরও বলা হয়, রাজউক অনুমোদনের জন্য শিশুদের খেলার মাঠ থাকতে হবে আবাসিক প্রকল্পে। পিংকসিটির সঙ্গে বাড়ির মালিকদের চুক্তিতে এই শর্তটি ছিল। কিন্তু আবাসিক এলাকার খেলার নির্ধারিত মাঠে বহুতল ভবন নির্মাণ করতে সেখানে পিংকসিটি কর্তৃপক্ষ স্টিল শিট দিয়ে ঘেরাও করে নিয়েছে। সেখানে ক্রেতাদের উদ্দেশে নতুন করে ফ্ল্যাট বিক্রির বিজ্ঞাপনও জুড়ে দেওয়া হয়। পিংকসিটি থেকে বহুতল ভবন নির্মাণের স্থানটি পৃথক করতে গোপনে শিটের বেড়ার ভেতর রাতের অাঁধারে নতুন করে দেয়ালও নির্মাণ করা হচ্ছে। যা প্রতারণার শামিল বলে উল্লেখ করা হয় এজাহারে। এজাহারে বলা হয়, পিংকসিটি কর্তৃপক্ষ সমিতির নামে এককালীন চাঁদা হিসেবে প্রতি মালিকের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা করে নিয়েছে। মালিকদের কাছ থেকে নেওয়া এক কোটি ২৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে বাড়ির মালিকদের সমিতিতে ফেরত দেয়নি। বাড়ি ক্রয়ের চুক্তিতে দফায় দফায় টাকা আদায়ের কোনো শর্ত না থাকলেও নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে প্রত্যেক বাড়ির মালিকের কাছ থেকে দফায় দফায় ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা অতিরিক্ত আদায় করছে।

এজাহারে বলা হয়, প্রায় ৩ বছর আগে ১৬ জন বাড়ির মালিকের কাছ থেকে রেজিস্ট্রেশন বাবদ প্রকৃত খরচের দেড়গুণেরও বেশি টাকা নিয়ে রেজিস্ট্রেশন করে দিতে টালবাহানা করে যাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। রেজিস্ট্রেশনের টাকা যথাসময়ে সরকারি খাতে জমা না দেওয়া, সরকারি অর্থ আত্দসাতের শামিল। যা ফৌজদারি আইনে শাস্তি গুরুতর দণ্ডনীয় অপরাধ। এ ছাড়া প্রত্যেক বাড়ি মালিকের কাছ থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ বাবদ কাঠাপ্রতি প্রায় ২২ হাজার টাকা করে নিলেও ১৫৪টি বাড়িতে ডেসকোর বিদ্যুৎ সংযোগের ব্যাপারে তারা কোনো ভূমিকা রাখছে না। টাকাও ফেরত দিচ্ছে না। এজাহারে আরও বলা হয়েছে, বাড়ি বিক্রির সময় বাড়ি-১১, রোড-০৫২, ব্লক-বি এর পূর্বপাশে স্কুলের অবস্থান ছিল। পরে জানা যায়, এটি অন্য লোকের জমি। পরবর্তীতে বর্তমান খেলার মাঠের পশ্চিম পাশে একটি স্কুল নির্মাণ করে। স্কুলটি এখন বন্ধ। ফলে প্রস্তাবিত খেলার মাঠটি অর্ধেক হয়ে গেছে। অবশিষ্ট অর্ধেকের ওপর ফ্ল্যাট-বাড়ি নির্মাণের বিজ্ঞাপন প্রচার শুরু করেছে। ঠিক একইভাবে ডুমনি খাল ও এর তীরের মালিকানা দাবি করে তার লে-আউট দেখানো হয়েছিল এবং খালের পাড়ে সুইমিং পুল ও জিমের অবস্থান দেখানো হয়েছিল যা অন্যের জমি। এমনইভাবে আমাদের সঙ্গে অনবরত প্রতারণা করে আসছে পিংকসিটি কর্তৃপক্ষ। বাড়ির মালিকের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার কোনো বিধান না থাকা সত্ত্বেও ওই কোম্পানি প্রত্যেক বাড়ির মালিকের কাছ থেকে ইউটিলিটি ফি বাবদ প্রতিকাঠায় ১ লাখ টাকা হারে আদায় করেছে।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.