আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

ভারতে লোকসভা নির্বাচন শুরু

সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ৮টায় ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় দুটি রাজ্য আসাম ও ত্রিপুরায় ভোট গ্রহণ শুরু হওয়ার মাধ্যমে নয় পর্বের এই মহাযজ্ঞ শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যম। স্থানীয় সময় বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ চলবে।

ভোটকেন্দ্রগুলোতে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

এ নির্বাচনে ভারতীয় লোকসভার ৫৪৩টি আসনের জন্য নরেন্দ্রে মোদির (৬৩) নেতৃত্বাধীন বিজেপি’র সঙ্গে রাহুল গান্ধির (৪৩) নেতৃত্বাধীন কংগ্রেসের মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

৭ এপ্রিল প্রথম পর্বের ভোট গ্রহণের পর চলতি মাসের ৯, ১০, ১২, ১৭, ২৪, ৩০ এবং মে মাসের ৭ ও ১২ তারিখে মোট ৩৫ দিনে পরবর্তী পর্বের ভোট অনুষ্ঠিত হবে।

লোকসভা নির্বাচনের পাশাপাশি অন্ধ্রপ্রদেশ, উড়িষ্যা ও সিকিমে বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

লোকসভায় ত্রিপুরার দুটি আসনের মধ্যে একটি আসনে এবং আসামের ১৪টি আসনের মধ্যে পাঁচটি আসনে প্রথম পর্বে ভোট গ্রহণ করা হচ্ছে। আসনগুলো হল আসামের তেজপুর, কালিয়াবোর, জোড়হাট, ডিব্রুগড় ও লখিমপুর এবং ত্রিপুরার পশ্চিম ত্রিপুরা।

আসামের পাঁচটি আসনে ৫১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। কংগ্রেস, ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি), তৃণমূল কংগ্রেস, আম আদমি পার্টি (এএপি), অসাম গণপরিষদ (এজিপি), কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া (মার্ক্সবাদী) বা সিপিআই (এম), অল ইন্ডিয়া ইউনাইটেড ডেমক্রেটিক ফ্রন্ট (এআইএইইউডিএফ) এবং সমাজবাদী পার্টিসহ আরও বেশ কয়েকটি দল আসনগুলোতে প্রার্থী দিয়েছে।



আসামের আসনগুলোতে কংগ্রেস দলীয় প্রার্থীরা হলেন, ভারতীয় কেন্দ্রীয় সরকারের বর্তমনা আদিবাসী বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী রানি নারাহ, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পবন সিং ঘাটোয়ারা, সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং বর্তমান এমএলএ বিজয় কৃষ্ণ হান্ডিক, আসামের মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈয়ের ছেলে সৌরভ গগৈ ও ভুপেনে কুমার বোরা।



বিজেপি প্রার্থীদের মধ্যে আছেন দলটির রাজ্য কমিটির সভাপতি সর্বানন্দ সানোওয়াল ও কামাখ্যা প্রসাদ তাসা। আসাম গণপরিষদ থেকে অরুণ কুমার শর্মা, প্রদীপ হাজারিকা ও যোসেফ টপ্পো প্রার্থী হয়েছেন।

আসামের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন উলফার একজন কমান্ডারও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, তবে দলীয় নয়, কমান্ডার হীরা সারানিয়া ওরফে নব কুমার সারানিয়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

আগামী ১২ এপ্রিল আসামের বাকী তিনটি আসনে ভোট গ্রহণ করা হবে।



অপরদিকে পশ্চিম ত্রিপুরা আসনে মোট প্রার্থী ১৩ জন হলেও মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে সিপিআইএম ও কংগ্রেসের মধ্যে। ১২ এপ্রিল রাজ্যের অপর আসনটিতে ভোট গ্রহণ করা হবে।

পশ্চিমবঙ্গে ১৭, ২৪, ৩০ এপ্রিল এবং ৭ ও ১২ মে ভোট গ্রহণ করা হবে।

১২১ কোটি লোকসংখ্যার দেশটিতে মোট ভোটারের সংখ্যা ৮১ কোটি ৪০ লাখ। এদের মধ্যে নতুন ভোটার ৯ কোটি ৭১ লাখ।





নয় পর্বের এই নির্বাচনে ৯ লাখ ৩০ হাজার ভোটকেন্দ্রে ভোট গ্রহণ করা হবে। আগামী মাসের ১৬ তারিখে ভোট গণণা ও নির্বাচনের ফলাফল একযোগে ঘোষণা করা হবে।

নির্বাচনের সার্বিক নিরাপত্তা তদারকির জন্য ভারতজুড়ে ৫৫ লাখ নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

প্রথম বারের মতো নয় পর্বে অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে ‘না’ ভোটের সুযোগও রাখা হয়েছে। কোনো প্রার্থীকে পছন্দ না হলে ‘না’ ভোট দিয়ে তা জানাতে পারবেন দেশটির ভোটাররা।



গত দুই লোকসভা নির্বাচনে জিতে পরপর দুই মেয়াদে দিল্লির মসনদে আছে কংগ্রেস দলের নেতৃত্বাধীন সংযুক্ত প্রগতিশীল মোর্চা বা ইউপিএ জোট। তবে এবারের নির্বাচনী বাতাস ভিন্ন দিকে বইছে বলেই জরিপগুলোতে আভাস মিলেছে।

নির্বাচনপূর্ব সবকটি জরিপে বিজেপির নেতৃত্বাধীন জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট বা এনডিএ পরিষ্কার ব্যবধানে এগিয়ে থাকবে বলে আভাস পাওয়া গেছে।

দলগত বা জোটগতভাবে কমপক্ষে ২৭২টি আসনে জিতলে দিল্লির মসনদে বসা যাবে। জরিপ বলছে বিজেপি একা ২১৪টি আসন আর শরিকদের নিয়ে ২৫৯টি আসন পেতে পারে।



অপরদিকে কংগ্রেস শরিকদের সঙ্গে নিয়ে ১২৩টি আসন পেতে পারে বলে জরিপে আভাস পাওয়া গেছে।

সোর্স: http://bangla.bdnews24.com

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.