আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

অক্টোবর

অক্টোবর খ্রিস্টীয় বর্ষপঞ্জী অনুসারে বছরের দশম মাস। এ মাসে মোট ৩১ দিন। ইংরেজি অক্টোবর মাসজুড়ে রয়েছে অনেক দিবস। শরত্ ও হেমন্ত ঋতুর প্রভাব পড়বে এই মাসে। প্রকৃতির বিচিত্র সৌন্দর্য এ দেশের মানুষের মনে গভীর প্রভাব বিস্তার করে।

প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যে কবি মুগ্ধ চিত্তে বলেছেন— “এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি/ সকল দেশের রাণী সে যে আমার জন্মভূমি” । জন্মদিন হচ্ছে পঞ্জিকা অনুযায়ী মানুষের জন্মগ্রহণের দিবস। সাধারণত জন্মবার্ষিকীতে কারো জন্মদিন উৎসবের মাধ্যমে পালন করা হয়। মানবীয় গুণাবলীর অধিকারী মানুষ আবেগপ্রবণ জাতি হিসেবে চিহ্নিত। মূলতঃ মায়ের গর্ভ থেকে ভূমিষ্ঠ শিশুর এক বছর পূর্তিতে জন্মদিনের আয়োজন করা হয় মহাআড়ম্বরে।

জন্মদিনে মোমবাতি, বেলুন ও কেক অত্যাবশকীয় উপকরণ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে অনেক আগ থেকেই। অর্ডার দিয়ে তৈরীকৃত কেকে সাধারণ ব্যক্তির নাম থাকে এবং এর চতুর্দিকে কিংবা অভ্যন্তরে বয়সের সাথে মিল রেখে মোমবাতির সংখ্যা নির্ধারিত হয়। জনপ্রিয় গান হিসেবে জন্মদিনে “হ্যাপী বার্থ ডে টু ইউ” গানটির বহুল ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। এছাড়াও ভারতীয় বাংলা সঙ্গীত হিসেবে “জন্মদিনে কি আর দেব তোমায় উপহার / বাংলায় নাও ভালোবাসা, হিন্দিতে নাও পেয়ার”; “জন্মদিন আজ, গলাটা ছেড়ে গা” অথবা “এলো এক অচেনা বছর”; কিংবা বাংলাদেশে, বাংলায়, মাইলস ব্যান্ডের "আজ জন্মদিন তোমার" ইত্যাদি গানের ব্যাপক ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এসকল গান ঘরে বাজানো ছাড়াও ইদানিং অনেকেই রেডিও বা অন্যান্য গণমাধ্যমের দ্বারা একজন অন্যজনকে উপহারস্বরূপ শুনিয়েও থাকে।

১ অক্টোবর প্রবীণ দিবস। সর্বপ্রথম ১৯৬৯ সালের ১ অক্টোবর প্রবীণ দিবস নিয়ে আলোচনা হয় জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে। ২ অক্টোবর অহিংস দিবস। জাতিসংঘ মহাত্মা গান্ধীর জন্ম দিনটিকে ‘অহিংস দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। এই দিন অহিংস আন্দোলনের প্রবর্তক শান্তিকামী নেতা মোহন দাস করম চাঁদ গান্ধীর (মহাত্মা গান্ধী) ১৪২তম জন্মদিন।

১৮৬৯ সালের এই দিনে ভারতের গুজরাটে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। ৪ অক্টোবর প্রাণী দিবস। জনসংখ্যা বাড়ার কারণে বনাঞ্চল কমে যাচ্ছে। ফলে বণ্যপ্রাণীর অভয়ারণ্য দখল হওয়ায় তারা অন্যত্র ছুটছে। প্রায় ২ যুগ আগেও পার্বত্য চট্টগ্রামের বনাঞ্চলে হাতি, বাঘ, ভাল্লুকসহ অনেক প্রজাতির প্রাণী দেখা যেত, কিন্তু বর্তমানে এসব প্রাণী খুঁজে পাওয়া কষ্টকর।

বন বিভাগের অসচেতনতা, ক্ষমতার দাপট আর গাছখেকোদের অত্যাচারে বনের গাছপালা কেটে উজাড় করা হচ্ছে। এতে প্রাণীকুল তাদের আশ্রয় হারাচ্ছে। ৫ অক্টোবর বুধবার শিক্ষক দিবস। গত শতাব্দীর নব্বইয়ের দশক থেকে বিশ্বব্যাপী এ দিবসটি যথাযথ মর্যাদার সঙ্গে পালিত হচ্ছে। সর্বত্র শিক্ষক সমাজ মর্যাদার আসনে থাকলেও শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিতে উত্তরোত্তর উন্নতি ও সমৃদ্ধি ঘটার কারণে কালভেদে শিক্ষকদের সম্মান জানানোর প্রথা ভিন্নভাবে হচ্ছে।

১০ অক্টোবর মানসিক স্বাস্থ্য দিবস। জন্মগতভাবে মানসিক সমস্যা নিয়ে খুব কম শিশু জন্মগ্রহণ করে। অস্বাস্থ্যকর সমাজ-পরিবেশ ধীরে ধীরে মানুষকে মানসিক রোগীতে পরিণত করে। ১৭ অক্টোবর আন্তর্জাতিক দারিদ্র্য নিরসন দিবস। ১৯৯৩ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী এ দিবসটি পালিত হচ্ছে।

জাতিসংঘ বর্তমান দশকটিকে (২০০৮-১৭) দারিদ্র্য নিরসন দশক হিসাব পালন করছে। ২০ অক্টোবর বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস ও বিশ্ব পরিসংখ্যান দিবস। ২০০৮ সালে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে ইউনিলিভার ও ইউনিসেফ যৌথভাবে দিবসটি উদযাপন করে। ক্রমে দিবসটি উদযাপনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সেভ দ্য চিলড্রেন, প্ল্যান বাংলাদেশ, মুসলিম এইড, কেয়ার বাংলাদেশ, সেফ, অক্সফাম, ওয়াটার এইড বাংলাদেশ। ২২ অক্টোবর বিশ্ব নিরাপদ সড়ক দিবস।

‘নিরাপদ সড়ক চাই’—এটা জনগণের মৌলিক অধিকার। প্রতি মুহূর্তে স্লোগান দিই ‘সময়ের চেয়ে জীবনের মূল্য বেশি’, কিন্তু বাস্তবে এর চিত্র থাকে আলাদা। ১৮ বছর ধরে নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) নামের সংস্থাটি বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। প্রতিবছর ১০-১২ হাজারের বেশি মানুষ সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ১ লাখ মানুষ।

২৪ অক্টোবর জাতিসংঘ দিবস হিসাবে পালিত হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পটভূমিতে জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠিত হয়। উদ্দেশ্য ছিল আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে স্থিতিশীল, সুসংবদ্ধ ও শান্তিপূর্ণ ভিত্তি স্থাপন করা। ১১ অক্টোবর দৃষ্টিহীন দিবস, ১৪ অক্টোবর মান দিবস, ১৫ অক্টোবর গ্রামীণ নারী দিবস ও সাদা ছড়ি দিবস ও ১৬ অক্টোবর এনেসথেসিয়া দিবস। ৬ অক্টোবর দুর্গাপূজার বিজয়া দশমী, ১১ অক্টোবর লক্ষ্মীপূজা, ২৬ অক্টোবর শ্যামাপূজা, ১১ অক্টোবর প্রবারণা পূর্ণিমা (আশ্বিনী পূর্ণিমা), ২২ অক্টোবর রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাসের মৃত্যুবার্ষিকী।

তেইশ অক্টোবর। জনপ্রিয় কবি শামসুর রাহমান এর আজ জন্মদিন। নিজ কর্ম দক্ষতায় নিজেকে যিনি প্রতিষ্ঠিত করেছেন বাংলাদেশের এক জন প্রধান কবি হিসেবে। নাগরিক জীবন, মুক্তিযুদ্ধ, গণ-আন্দোলন তাঁর কবিতায় নানা অনুভূতিতে রূপায়িত হয়েছে। তাঁর কবিতা তাই দেশপ্রেম ও সামাজিক সচেতনতায় সতেজ ও দীপ্ত।

এ পর্যন্ত তাঁর ৪০টিরও বেশি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। কবিতা অনুবাদেও তিনি ছিলেন সিদ্ধহস্ত। এছাড়া উপন্যাস, প্রবন্ধ, স্মৃতিকথাও লিখেছেন তিনি। শিশুদের জন্যও তিনি চমৎকার কবিতা লিখেছেন। ।

সোর্স: http://www.somewhereinblog.net     দেখা হয়েছে বার

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।