আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

নিশি যে ভাবে আমার গার্লফ্রেন্ড হল !!!

আমার চোখে ঠোটে গালে তুমি লেগে আছো !! -ভাইজান দাড়ান । জুম্মার নামাজ পড়ে আসছিলাম । গলির মোড়ে আসতেই এলাকার কিছু ছেলেপিলে আমাকে কেন জানি ঘিরে ধরল । আমি কারন কিছুই বুঝলাম না । আমি সাধারনত নিরিহ টাইপের ছেলে ।

কারো সাথেও নাই পাছেও নাও । এই ছেলে গুলোর সাথে আমার আবার কি কাজ ! আমি বললাম -আমি ? -জি আপনি । কালো পাঞ্জাবী পরা ছেলেটা বলল । হাতে একটা সিগারেট জ্বলছে । -বলেন ।

-এই দিকে আসেন । আপনার সাথে কথা আছে । এই বলে ছেলেটা আমাকে মোরের এক পাশে যেতে ইশারা করল । আমি খানিকটা ভয় পেলাম । ঢাকা শহরে নাকি এরকম ভাবে নাকি ছিনতাই হয় ।

কিন্তু এরা তো সবাই পাড়ার ছেলে । সারা দিন কাম নাই খালি মোড়ের মাথায় বসে বসে আড্ডা মারা । কিন্তু ছিনতাই করবে না এটুকু ভরসা আছে । ঠিক তখনই আমার মনে অন্য আর একটা সম্ভাবনা দেখা দিল । পেদানী দিবে না তো ? কিন্তু আমি এমন কোন কাজ তো কখনও করিই নি ।

তাহলে ? মোড়টার একপাশে আরো কয়েকটা ছেলে ছিল । ঐ ছেলে গুলো মধ্যে রুমেল ছিল । পাড়ার মধ্যে এই ছেলেটার নাম কেবল আমি জানি । আমি যে বাড়িটাতে ভাড়া থাকি তার দুতিন বাড়ি পরেই এদের বাড়ি । নাম চেনার কারন হচ্ছে নিশি বলেছিল ।

নিশি আমাদের বাড়িয়ালার মেয়ে । সেদিন বিকাল বেলা ছাদে হাটছিল এমন সময় দেখলাম নিশিও ছাদে আসল । এমনিতে নিশির সাথে আমার খুব বেশি চেনা জানা নাই । ওর ছোট ভাইটাকে আমি ইংরেজি পড়াই সেই সুবাদে হাই হ্যালো বলি । এই পর্যন্তই ।

ছাদের থেকেই দেখলাম ঠিক দুই তিন বাড়ি পরে দুতিনটা ছেলে চিত্কার করে উঠল । ওদের চিৎকার করার কারন মনে হয় বুঝতে পারলাম । নিশিকে দেখে ওরা ওমন করছে । দেখলাম নিশি মুখটা কেমন বিরক্তিতে ভরে গেল । আমি বললাম -আপনার পরিচিত ? -পরিচিত ? ডিজগাসটিং ! আর সব থেকে বড় বিরক্তিকর ঐ রুমেল ছেলেটা ।

-কোনটা ? -ঐ যে লম্বা ফর্সা করে । আমি রুমেল কে দেখলাম । -ভালই তো দেখতে ! আমি হাসলাম । নিশি কিছু বলল না । আমি বললাম -সুন্দর মেয়েদের এই রকম টুকটাক সমস্যায় পড়তেই হয় ।

নিশি এই বারও কিছু বলল না । তবে ওর মুখে কেমন জানি একটা সুক্ষ হাসির রেখা দেখতে পেলাম । আসলে সুন্দরী কথাটা শুনতে সব মেয়েদেরই ভাল লাগে । -আপনি কতদিন এই এলাকায় আছেন ? রুমেলই বলল কথাটা আমি বাস্তবে ফিরে এলাম । -জি ? -আপনি কত দিন এই এলাকায় আছেন ? -এই বছর খানেক ।

রুমেল বলল -আগামী মাসে এই এলাকা ছেড়ে চলে যাবেন । -জি ? কেন ? ঠিক তখনই পিছন থেকে একজন আমার মাথায় বেশ জোরেই একটা থাপ্পর মারল । -যা বলেছি কর । তা না হলে হাত পা ভেঙ্গে দেবো । রুমেল বলল -ভাল ভাবে বললাম ।

এরপর কিন্তু এতো ভাল ভাবে বলবো না । যান বাসায় যান । এই সময় পেছন থেকে ঐ কালো পাঞ্জাবী পরা ছেলেটা আবার আমাকে ধাক্কা মারল । -যান ভাগেন । আমি চলে এলাম ।

আসলে আমার কিছু করারই ছিল না । কিছু বলতে গেলেই মার খেতে হত । আমি কিছুতেই বুঝতে পারছিলাম না যে আমার সাথে এমনটা করার মানে কি ? আমিতো এমন কিছু করি নি যে একেবারে এলাকা ছেড়ে চলে যেতে হবে । ভাবতে খুব খারাপ লাগছে । খুবই আরামে ছিলাম এখানে ।

কিন্তু কিছু করার নাই । ওরা সব স্থানীয় ছেলে । আর আমি ভাড়াটিয়া । কিছু বলার উপায়ও নাই । কিন্তু এটলিস্ট কারনটা তো জানার অধিকার আছে আমার ।

একবার ভাবলাম গিয়ে জিজ্ঞেস করি যে আমি এমন কি করলাম ? তারপর ভাবলাম থাক ! দরকার কি ? জিজ্ঞেস করতে গিয়ে আবার মারধোর খেতে হবে । কি দরকার ! সন্ধ্যার সময় টিভি দেখছিলাম । এমন সময় নিলয় এসে বলল -নিশি আপু আপনাকে একটু ছাদে যেতে বলেছে । -এখন ? -হুম এখনই । আমি খানিকটা অবাক হলাম ।

নিশি আমাকে ছাদে যেতে বলবে কেন ? আশ্চার্য । আজ কি হচ্ছে কে জানে ? আচ্ছা রুমেল আমাকে থেট দিল এর সাথে নিশি কোন ভাবে জড়িত নয় তো ? কিন্তু তা কিভাবে হবে ? আবার হতেও পারে ! আমার মাথায় কিছুই ঢুকছিল না । যা হোক আমি ছাদের দিকে পা বাড়ালাম । ছাদে গিয়ে দেখি নিশি এক কোনায় চুপচাপ বসে আসে । এখনও অন্ধকার হয় নি পুরোপুরি ।

আমাকে আসতে দেখে উঠে দাড়াল । ওর মুখে কেমন জানি একটা অপরাধী অপরাধী ভাব । বললাম -কি ব্যাপার ? এরকম জরুরী তলব ? -আই এম সরি । নিশি খুব অপরাধীর মত লাইনটা বলল । -কেন ? আপনি সরি কেন হচ্ছেন ? আমিতো কিছু বুঝতে পারছি না ।

নিশি বলল -রুমেল আজ আপনার সাথে খারাপ ব্যবহার করেছে না ? -আপনি জানলেন কিভাবে ? -আমি জানি । এলাকার মেয়ে না আমি ? খবর আমার কাছে চলে আসেই । আর ব্যাপারটা যখন আমাকে নিয়ে আমি তো জানবোই । -আপনাকে নিয়ে ? আমি ঠিক ব্যাপার বুঝলাম না । নিশিকে নিয়ে কিভাবে হয় ? -রুমেল আমার পিছনে অনেক দিন থেকেই ঘুরছে ।

-তা তো বুঝলাম । রুমেল আপনার পেছনে ঘুরছে । কিন্তু ও আমাকে এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বলবে কেন ? -আসলে আপনি ওর মুখের গ্রাস কেড়ে নিচ্ছেন তো ! -মানে ? কি বলছেন এসব ? আমি ওর মুখের গ্রাস কেড়ে নিলাম কখন ? আর .... নিশি আমাকে কথা শেষ করতে দিলো না । বলল -একটু শান্ত হোন । আমি ব্যাপারটা বুঝিয়ে বলি ।

আসলে গত পরশু দিন ও আমাকে রাস্তার ধরেছিল । জানতে চাইছিল আমি কেন ওর সাথে রিলেশন করছি না । আমি বললাম যে আমার অন্য একজনের সাথে রিলেশন আছে । এই বলে নিশি খানিকটা চুপ করে গেল । আমি বললাম -কিন্তু রুমেল আমার সাথে এমন করলো কেন ? আমি কি করলাম ? এবার নিশির চেহারায় কেমন একটা অধর্য্যের ছাপ দেখলাম ।

নিশি বলল -আপনি এতো গাধা কেন ? -গাধা ? আরে বলে কি এই মেয়ে ? -গাধা হবো কেন ? -সিম্পল এই বিষয় টুকু বুঝতে পারছেন না । রুমেল মনে করেছে যে আপনার সাথে আমার রিলেশন আছে । আমি খানিকটা বিষম খেলাম । -এমনটা মনে হবার কারন কি ? এবার নিশিকে খানিকটা সংকুচিত মনে হল । -আসলে আমি বলেছি ।

আমি বলেছি যে আপনি আমার বয়ফ্রেন্ড । -কেন বলেছেন ? এই মেয়েটার এই টুকু বলার জন্য এখন আমাকে এলাকা ছেড়ে চলে যেতে হবে । কোন মানে হয় ? আমি আবার বললাম -কেন বলেছেন ? -আমি মিথ্যা কথা বলতে পারিনি । -আরে মিথ্যা কথা বলতে পারি নি মানে কি ? এই কথা কেউ বলে ? এমন ..... ওযেট এ মিনিট !!! আমি ঠিক শুনলাম তো ? নাকি ভুল শুনলাম ? আমি আবার বললাম -কি বললেন আপনি ? নিশি মাথা নিচু করে দাড়িয়ে থাকল । কোন কথা বলল না ।

তবুও সব কিছু বুঝতে আমার বেশ খানিকটা সময় লাগল । আমি কাপা হাতে ওর মুখটা তুলে ধরলাম । ওর চোখের সাথে চোখ পড়তেই বুকের মাঝে কেমন যেন এক শিহরন বয়ে গেল । এতো দিন আমি ভাল করে দেখি নি । কিন্তু আজ একি দেখলাম ।

আমি ওয় সামনে থেকে সরে এসে ছাদের এক পাশে বসলাম । কি বলব অথবা কি বলা উচিত্ আমি কিছুই বুঝতে পারছিলাম না । একটু পর নিশি নিজেই এসে আমার পাশে বসল । বলল -আপনি চিন্তা করেন না । বাবাকে বলেছি ।

উনি রুমেলের ব্যাপারটা দেখবেন । -আসলে আমি চিন্তা করছি না । একটু আগেও হয়তো চিন্তা করছিলাম কিন্তু এখন আর চিন্তা করছি না । তোমার চোখের দিকে তাকিয়ে আমি যা দেখেছি তার অন্য সব কিছু বড় তুচ্ছ ! নিশি হাসল । -কি দেখেছেন ? -সেটাতো বলবো না ।

আমি যেমন বুঝে নিয়েছি তুমি বুঝে নাও । -আহ্ ! কি আমার বোঝন দার রে ! তুমি যদি এতোই বুঝতে তাহলে অনেক আগেই বুঝে যেতে ! আমাকে মুখ ফুটে বলতে হত না । নিশি আমার দিকে আর একটু সরে এল । গল্পটা এখানে আছে ।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।