এমপি পার্থর বিরুদ্ধে লুটপাটের অভিযোগ
ঢাকা, বুধবার , ১৮ এপ্রিল ২০১২ , ০৫ বৈশাখ ১৪১৯ , ২৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৩
বাংলাদেশ প্রতিদিন. Click This Link
ভোলা সদর উপজেলায় গত ৩ বছরে টিআর-কাবিখাস বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের প্রায় ৪৫ কোটি টাকার কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও লুটপাটের অভিযোগ তোলা হয়েছে জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায়। ওই সভায় উপস্থিত সদস্যরা উন্নয়ন প্রকল্পে লুটপাটের অভিযোগ এনে ভোলা সদর আসনের সংসদ সদস্য বিজেপি চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থের বিরুদ্ধে সমালোচনার ঝড় তোলেন। একপর্যায়ে জেলা প্রশাসক খোন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে ওই অনিয়ম তদন্তের নির্দেশ দেন। জানা যায়, গত রবিবার জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় উপস্থিত সদস্যরা ভোলা সদর আসনের এমপির কোটায় টিআর-কাবিখাসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কাজে বরাদ্দের টাকায় যথাযথ কাজ হচ্ছে না বলে অভিযোগ তোলেন। একপর্যায়ে উপজেলা চেয়ারম্যান জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ফজলুল কাদের মজনু এ নিয়ে অভিযোগ তোলেন ভোলা-১ আসনের এমপি আন্দালিভ রহমান পার্থের বিরুদ্ধে।
এ সময় অনিয়ম ও লুটপাটের অভিযোগ তুলে আলোচনায় অংশ নেন জেলা বিজেপি সম্পাদক আনোয়ার হোসেন, প্রবীণ সাংবাদিক আবু তাহের, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. অলিউর রহমান প্রমুখ। বক্তারা বলেন, এ বছর এমপির কোটায় বিশেষ কাবিখা বরাদ্দ ৫০০ টন, টিআর ৩০০ টন, সাধারণ কোটার ১৮২ টন, কাবিখা ৩১৪ টন চাল বা গমের বিপরীতে কোনো কাজ হচ্ছে না। এমপি নিজের দলের এক ব্যক্তিকে তার বরাদ্দের বিলি ব্যবস্থার দায়িত্ব দেন। ওই ব্যক্তি বরাদ্দকৃত চাল বা গম অগ্রিম বিক্রি করে ওই টাকার ৫ পার্সেন্ট এমপির নির্দিষ্ট তহবিলে জমা দেন। গত বছরও এভাবেই ৫ পার্সেন্ট জমা দেওয়া হয়েছিল।
ওই টাকা পরে বিজেপি নেতা-কর্মীদের মাঝে বণ্টন করা হয়। এ বছরও একই পদ্ধতিতে লুটপাট শুরু হয়েছে। এ ছাড়া এলজিইডির আমব্রেলা প্রজেক্টসহ গত ৩ বছরে সদর আসনের উন্নয়ন কাজের ৪৫ কোটি টাকা লুটপাটের অভিযোগ ওঠে। কেউ কেউ বলেন, গত বছর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে গম বরাদ্দ দিলেও বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানই বরাদ্দের গম বিক্রির নামমাত্র টাকা পেয়েছে। বিজেপির এক নেতা প্রতি টন গম ১৮ হাজার টাকায় বিক্রি করে ওই প্রতিষ্ঠানকে দিয়েছেন ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. অলিউর রহমান অনিয়মের বিষয় স্বীকার করে বলেন, বিশেষ কাবিখা, টিআর ও সাধারণ বরাদ্দের কাজে অনিয়ম দেখা যাচ্ছে। কোথাও কোথাও ৩০ ভাগের বেশি কাজ দেখা যায়নি। তিনি ইতোমধ্যে কয়েকটি প্রজেক্টের বরাদ্দ স্থগিত রেখে পুরো কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন। এ ব্যাপারে আন্দালিভ রহমান পার্থ জানান, তিনি টিআর-কাবিখার সুষ্ঠু বণ্টনের ব্যবস্থা করেছেন; যা আগে কখনো হয়নি। তিনি কোনো দুর্নীতির আশ্রয় নেননি।
তার প্রথম পর্যায়ের ২৫০ টন গম ২৫০টি প্রতিষ্ঠানকে ১ টন করে বরাদ্দ দিয়ে প্রকল্প জমা দেন। ওই সব কাজ হচ্ছে কি না তা দেখার দায়িত্ব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার। কাজ না হলে ইউএনও ওই প্রকল্পের সিপিসির বিরুদ্ধে মামলা করতে পারেন। কোনো পার্সেন্টিজ রাখা বা ঘুষ নেওয়া যেন না হয় তার জন্য সবাইকে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, কেউ যেন কোনো ধরনের ঘুষ না দেন।
দলীয় নেতা-কর্মীদের কোনো বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। তিনি তার দলের সম্পাদকের এমন বক্তব্যকে না-পাওয়ার ক্ষোভ বলে উল্লেখ করেন।
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।