আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

কে ক্ষমতায় আসবে?একজন তরুণের সরলমনা কিছু অনুমান

এডিটেড আগামীটার্মের ক্ষমতার পালাবদলটায় হয়ে রয়েছে দুইভাগে বিভক্ত। হয় বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট অথবা আওয়ামী নেতৃত্বাধীন জোট। বিএনপির ট্রামকার্ড হল বিদেশী আগ্রাসন মোকাবেলায় নিজউদ্ভূত জাতীয়তাবাদতত্ত্ব। উল্টোপথে আওয়ামীলীগের ট্রামকার্ডগুলো হল দেশকে আধুনিক যুগে নিয়ে যাওয়া এবং বিদেশী আগ্রাসন মোকাবেলায় সাহসী কিছু পদক্ষেপ। এসবকিছুর উর্ধে সবচেয়ে বড় প্রশ্নটা হল বাঙ্গালীর "অল্টারনেট চয়েস"-তত্ত্ব।

এবার কি আগের দলটি সরকারে লাগাতার ১০ বছরের জন্য প্রতিষ্ঠিত থাকবে নাকি আগের নিয়মে ৫ বছর অতিক্রান্ত হওয়ায় প্রধান বিপক্ষদলটি ক্ষমতায় আসবে? এবারের নির্বাচনে তরুণ ভোটারের সংখ্যা এক কোটির উর্ধে এবং গত নির্বাচনে যেমন তারা সরকার নির্বাচনে ভূমিকা রেখেছিল এবারও তার ব্যতিক্রম হবেনা এবং যুগের পর যুগ তাই হতে থাকবে আগামীতে। আর তরুণ প্রজন্মের চাওয়াটায় হল জামাত-শিবির যেন ক্ষমতায় না আসে। যদি সুষ্ঠু নির্বাচন হয় তবে এক জামাত-বান্ধব জোটের কারণেই ১৮ দলীয় জোটের ক্ষমতায় আসা একরকম অসম্ভব হয়ে পড়বে। এখানে বলে রাখা ভালো যে তরুণ মানে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া টিশার্ট,জিন্স,মোবাইল প্রজন্ম না বরং যে অনুর্ধ-৩০ যে মানুষটি হকারী করে কাপড়চোপড় বিক্রি করে সেও তরুণ,চায়ের দোকানে আপনাকে চা এগিয়ে দেয় সেও তরুণ। এদের সবার পালস কি?এরা এখন খুব সচেতন আর এরা চায়না জামাত-বান্ধব সরকার গঠিত হোক।

তরুণ প্রজন্মের যে পালস তা ধরতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে ১৮ দলীয় জোট যা সবর নজর এড়িয়ে যাচ্ছে। কারণটাও হল,শাহবাগ আন্দোলনের আবিষ্কারক দেশপ্রেমিক তরুণ প্রজন্ম। এরা আওয়ামীলীগ সরকারের পক্ষে বা বিপক্ষে অথবা ট্রাইব্যুনালের বিপক্ষে অবস্হান নিতে শাহবাগের নেতৃত্বে সারাদেশে নামেনাই। এদের একটাই দাবী রাজাকারের ফাঁসি এবং নৃশংস জামাত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধকরণ। এরা সেই তরুণ প্রজন্ম যারা গত নির্বাচনে যুদ্ধাপরাধীর বিচার আওয়ামীনেতৃত্বাধীন জোট শুরু করবে,যা অন্য কোন দল কখনই করবেনা,এই আশায় আশ্বস্ত হয়ে আওয়ামীলীগকে ভোট দিয়েছিল।

সুতরাং ১৮ দলীয় জোট ও তার মূখপত্র আমারদেশ আওয়ামীলীগের ভোটব্যাংক মনে করে আর আওয়ামীলীগ আন্দোলন ছিনতাই করেছে মনে করে মনে মনে আতঙ্কিত হয়েছিল এবং ফেব্রুয়ারীর ২য় সপ্তাহে "ফ্যাসিবাদ" ট্যাগ দিয়ে শাহবাগকে বিতর্ক করতে চেয়েছিল তা তরুণদের মনে ভালোই দাগ কেটেছে। প্রকৃতপক্ষে জয় বাংলা স্লোগান আওয়ামীলীগ ব্যতিত দেশের অন্যান্য রাজনৈতিকদলগুলো ধারণ করেনি বলে এটি শুধুমাত্র আওয়ামীলীগের স্লোগান হবে আর আন্দোলন,ভোটব্যাংক ছিনতাইয়ের রাজনীতি হবে-এধরণের অসংলগ্ন নীতি নৈতিকতাহীন বুলি দিয়ে একমাত্র শিবির মানসিকতার ভোটার ব্যতিত আর কাউকে প্রভাবিত করা সম্ভব হয়নি। কিন্তু বিএনপি নিজেদের রাজনীতির জন্য মরণঘাতি হিসেবে তরুণদের মনে যে আঘাতটা দিল তা হল,মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে বিশ্বাসী তরুণদের(নট আওয়ামী ভোটব্যাংক) আর জামাত-শিবিরের মধ্যে যুদ্ধের মাঝখানে লাফ দিয়ে অনধিকার চর্চা করা। অন্যদিকে ব্লগ,ফেসবুকের মত ওয়েবমিডিয়ার প্রচারণাও বিএনপির জন্য একটা অশনীসংকেত। মাঠের রাজনীতিতে বিএনপি জামায়াতের পক্ষ নিয়েছে কিন্তু ওয়েবমিডিয়াগুলোতে বিএনপি যেভাবে জামাত-বিরোধী অবস্হান নিয়েছে তা কিন্তু জামাত-শিবিরকে অসন্তুষ্ট করছেনা তাও কিন্তু নয়।

এ ব্যাপারটিও বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের জন্য ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনবে। বাস্তবে শাহবাগনেতৃত্বাধীন আন্দোলন নতুন করে আওয়ামীলীগের ভোটরাজনীতি করারও কোন ব্যাপার নেই। বিএনপি কখনই রাজাকারের বিচার কন্টিনিউ করবেনা। বিএনপির কতিপয় সাংসদ যেখানে ৩০ লক্ষ শহীদের হিসাব নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করতে পারে আর ৭ ই মার্চের ভাষণের প্যারোডি বানাতে পারে সেই দলের কাছ থেকে আর যাই হউক,তরুণরা কোনভাবেই রাজাকার বিচারের ইস্যুতে সততার অবস্হান আশা করেনা। আর তাছাড়া নাস্তিক ইস্যুতে যা বিএনপির অন্যতম প্রধান অস্ত্র-সরকারের তড়িৎ পদক্ষেপের কারণে তা খুব একটা ধোপে টেকেনি।

এ তো গেল তরুণরা,বাকীদের চিন্তাভাবনা কি?আসলে অর্থনীতির উন্নতি,অবনতি বাংলাদেশে এখনও বড় কোন ইস্যু হয়ে উঠতে পারেনি। বরং এরচেয়ে ধর্মানুভূতি,জাতীয় নিরাপত্তা,ব্যবসায়িক নিরাপত্তা এগুলোই প্রধান ইস্যু। এক্ষেত্রে কি দেখা যায়?জনগণ কাকে বেছে নেবে?আধুনিকপদ্ধতির দলের অধিনস্ত নির্বাচন নাকি বিএনপির পছন্দের তত্ত্বাবধায়ক বা অন্যান্য অগণতান্ত্রিক ব্যবস্হাগুলো। আধুনিক পদ্ধতি হল গণতন্ত্রের নিরবিচ্ছিন্ন স্হায়িত্ব আর অগণতান্ত্রিক ব্যবস্হা হল তত্ত্বাবধায়ক কিংবা এটাইপের ইস্যুগুলো। আওয়ামীলীগের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তাজনিত সাফল্যগুলো কি কি?মায়ানমারের বিরুদ্ধে সমুদ্রবিজয়।

এছাড়াও তিস্তার পানির ন্যায্যচুক্তিতে মমতার আপত্তির মুখে পাল্টা জবাব হিসেবে বাংলাদেশেরও ঢাকায় প্রবেশ করতেই গত সফরে মনমোহনকে ভারতের দাবীগুলোতে মুখের উপর না বলে দেওয়া জাতিকে আশাবাদী করেছে। এছাড়াও পাকিস্তানকে ৭১ এর গণহত্যার জন্য ক্ষমা ও ক্ষতিপূরণ চাইতে বলা এবং ডি-৮ এর আমন্ত্রণ বাতিল করে দেওয়া নি:সন্দেহে দূর্দান্ত সাহসিকতার পরিচয় রাখে যা নতুনভাবে আওয়ামীলীগকে জাতির সামনে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে এবং যা বিএনপি কখনও না ভারত না পাকিস্তান কাউকে কখনও এমন ধমক দেওয়ার নজির স্হাপন করতে পেরেছে। আর তাছাড়া আরেকটা ইস্যু হবে ২০০১-২০০৬ বিএনপি টার্মে ছাত্রদল,যুবদল,জামাত-শিবির পরস্পর একাকার হয়ে দেশব্যাপী যে সাম্প্রদায়িক রাজনীতি করেছে তা। আমাদের ভূলে গেলে চলবেনা ভারতেও গুজরাটে সাম্প্রদায়িক হানাহানির রাজনীতি করায় বিজেপি জোট প্রধান বিরোধীপক্ষ হয়ে নির্বাচন করেও জিততে পারেনি। উল্টো কংগ্রেস পরপর দুইবার ক্ষমতায় এসে গিয়েছে।

এ সাম্প্রদায়িক রাজনীতির ইস্যুটি বাংলাদেশেও ব্যাপকপ্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে কেননা বাংলাদেশ অসাম্প্রদায়িক রাজনীতিতে বিশ্বাস করে। অবস্হাদৃষ্টে তাই অন্তত অনুমাননির্ভর হিসাব করলেও বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের পুণরায় সরকারে অধিষ্ঠিত হওয়া সম্ভব। ।

সোর্স: http://www.somewhereinblog.net     দেখা হয়েছে বার

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.