আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

ফার্স্ট ক্লাশ আপা(রম্য)

"আমার রঙ্গীন পাল নীল সাগরে, ভেসে যায় তরী আমার ঢেউ এর তরে, চলো স্বপ্ন বুনি নীল দরিয়ায়, অসীম নীলে তরী আমার যায় উড়ে যায়!" এস.এস.সি পাস করলাম! জীবনে প্রথম সত্যায়িতো করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলাম! সবাই শুনেছি নিজেরাই সত্যায়িতো করে! আমি ভাবলাম-জীবনের প্রথম সত্যায়িতো-তাই একটু সততার সাথে সম্পন্ন করি! তো শুনলাম সত্যায়িতো নাকি প্রথম শ্রেণির গেজেটেড অফসার দিয়ে করাতে হয়! তো বন্ধুকে নিয়ে বের হলাম প্রথম শ্রেণীদের খুজতে! তো বাংলাদেশের প্রথম শ্রেণি যেহেতু।সেহেতু তাদের ভাব টা ও প্রথম শ্রেনীর হবে-এটাই তো স্বাভাবিক! তো গেলাম উপজেলা কৃষি অফিসার এর কাছে! দাড়ি ওয়ালা ,চশমা পরা লোক টারে দেখে ভাবালাম-কত্ত ভালো লোক! উনি বললেন,একটু অপেক্ষা করো বাবা রা,আমি একটু লাঞ্চ করে নিই! অতঃপর এক ঘন্টার মত দাঁড়িয়ে থাকলাম!কিন্ত দেখলাম-আমাদের অফিসার বাবার কোনো খোজ নেই! একটু পর বের হয়ে তিনি বললেন,বাবারা আমি একটু ব্যস্ত-এখনি আমার বের হতে বের হতে হবে! আমরা বললাম, আঙ্কেল মাত্র ২ মিনিটের কাজ-প্লিজ একটু করে দিন! উনি তৎক্ষনাত আমাদের দিকে ক্রুদ্ধ দৃস্টিতে তাকালেন! এবং বললেন,তুমি আমারে আঙ্কেল বললা কেনো? ওভার স্মার্ট হওয়ার চেস্টা করবেনা! এখন আমি সাইন করতে পারবোনা! আমরা ঠিক বুঝে উঠতে পারলাম না –তিনি কেনো এমন এটিচিউড করলেন! যাই হোক আমরা তার আশা ছেড়ে দিয়ে গেলাম এক ডাক্তার এর কাছে! ডাক্তার আমার গ্রেড শিট আর সার্টিফিকেট দেখলেন কিন্ত তারপর বললেন,যে কলেজে ভর্তি হবেন তার ডকুমেন্ট কই! আমি বললাম আমি সিটি কলেজে ভর্তি হবে-এমন কোনো ডকুমেন্ট তারা আমাকে দেয়নি! উনি তখন ডকুমেন্ট ছাড়া সত্যায়িতো করবেন না বললেন! আর আমি বুঝলাম যে সবাই নিজে নিজে সত্যায়িতো করে কেনো! তারে অনেক বুঝলাম যে আমার পরের দিন কলেজে ভর্তি তবু ও সে আমারে সত্যায়িতো করে দিলোনা! শালার বাঙ্গালি সৎ পথে চলতে যত বাধা! এরপর ভাবলাম জীবনের প্রথম সত্যায়িতো তাই একটু সততার সাথে করা উচিত! তাই আমরা গেলাম উপজেলা শিক্ষা অফিসার এর কাছে! তার রুমে ঢুকতেই জানালা দিয়ে আমি যে ফার্স্ট ক্লাশ গেজেটেড ম্যাডাম কে দেখলাম তিনি আমার এমন পরিচিত যে আমি আর তার রুমে ঢুকার সাহস পেলাম না! কিছুদিন আগে উনি আমার এক আত্মীয়ের বিয়েতে গেছিলেন! আমি দেখলাম তাকে বিশাল ভাব নিয়ে সারা বিয়ে বাড়ি টহল দিচ্ছে! কানে যে কত ওজনের কানের দুল পরেছিলো তাই আল্লহই জানে আর সবচেয়ে বড় কথা এতো ওজনের কানের দুল পরে মানুষ কেমনে চলে! আমি টিভির ঘরে বসা ছিলাম! সেই আপা বার বার ওখানে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে একবার চুল ঠিক করে,একবার শাড়ি ঠিক করে,একবার ব্যাগ থেকে কি যেনো বের করে মুখে মাখায়! বার বার তার এমন আচারণ দেখে অস্থির হয়ে গেলাম-ভাবলাম শায়েস্তা করা দরকার! যেই ভাবা সেই কাজ! তো আফা তখন একটি খাটের উপর বসে ছিলেন! আমি গিয়ে তার শাড়ির সাথে পিছনের দিকে অতি কস্টে একটি ইটের খোয়া লাল সুতা দিয়ে বেধে দিলাম! অতঃপর আফা হাটা শুরু করলেন আর তার শাড়ি এর সাথে ছোট্ট খোয়াটা ও দুলতে লাগলো সরল দোলকের মত! আফা হাটতেছেন আর তার পিছনের পিচ্চি গুলা হু হু করে হাসতেছে! আর আফা টের ই পাচ্ছেনা যে তার শরীরের সাথে কিছু বাধা! আফা আবারো আসলেন আয়না দেখতে- আয়নার পিছনে কনের বাবা দেখে মুচকি হাসে ! আফা যে জায়গায় যায় সেই জায়গায় সবাই হাসে! অবশেষে আফা একটু লজ্জা পেলেন এবং বরের পাশে গিয়ে বসিলেন! বর সাথে সাথে হি হি করে হাসলো ! আফা কিন্ত কিছুই বুঝলেন না তিনি ভাবলেন তার চেহারা দেখে সবাই হাসছে! তাই তিনি নিজেকে একটু আড়াল করলেন! এরপর আসল ঘটনা-বাড়ির সব পোলা-পাইন রে নাকি পুলিশে দেওয়া হবে ! আমি তো বুঝলাম কেস টা কি! আর খাওয়া-দাওয়া ও তখন শেষ-তাই আর এক মুহুর্ত ওখানে না থেকে সোজা বাড়ি চলে আসলাম! এরপর নাকি আফা যখন বিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়-তখন আর তার কোনো ভাব নাই!!!!!-কি শাড়ি,কি মেক-আপ! !!!!আফার দু চোক্ষে তখন আগুন জ্বলতেছিলো! যাই হোক ওই দিন আমার আর কোন প্রথম শ্রেণির দ্বারা আর সত্যায়িতো করা হয়নি! আমি বাজারে এসে ফারুক ভাই রে বললাম মামা সিল বানিয়ে দেন-সত্যায়িতো করুম! কি বুঝলেন? সীলটা কিন্তু আফার নাম দিয়েই করেছিলাম!

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.