আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

বাণিজ্য মেলায় একদিন... কিলো পুস্ট!!!

অপ্রিয় এবং অবাঞ্ছিত... ইচ্ছে ছিল বিকাল থেকা নেট গুঁতায়া একাকার কইরা দিমু। আর সন্ধ্যা থিকা ল্যাপ্টপীয় সিনেপ্লেক্স চালু। লাঞ্চে বইসা স্টিমড রাইস (বুঝছেন তো? ) ভক্ষণ করতেছি, এমন সময় বেরসিক মুপাইল ইভা রহমানের সুরে কাঁদিয়া উঠিল। ফোনে বন্ধু আশিক (চাচামিয়া) এর হুগো চাভেজীয় তর্জন গর্জন এবং বন্ধু সাইফ (কাকাবাবু) এর হিটলারি বুদ্ধিতে লাঞ্চ-পরবর্তী খায়েশের আশার গুঁড়ে বালি ছেয়ে গেল। সাজুগুজুতে বইলাম।

বাট কাহিনী হোয়াট? মোর কোঁকড়া কোঁকড়া চুলগুলান লাইনে আহে না ক্যা? বহুত কষ্টে বাগে আনলাম আমার রুক্ষ চুলগুলানরে। যাই হোক, সোন্দর কইরা ফুল বাবুটি সাইজা বাইর হলাম। বাস কাউন্টারে ভাব লইয়া যখন খাড়াইলাম, তহন বাজে বিকাল ৩টা ৪৫। চাচামিয়ার অমোচনীয় দাড়ি আর কাকাবাবুর টিকি, কোনটারই দেখলাম না। ঝাড়া আধাঘন্টা দাঁড়ালাম, আশেপাশে চাইলাম।

এক দেশী পোলারে দেখলাম তার চেয়ে দুই ইঞ্চি লম্বা শেতাঙ্গিনী বান্ধুবীরে লইয়া আইছে। বান্ধুবী আবার সালওয়ার-কামিজ পড়ছেন। বান্ধুবীর খোমা দেইখা আমারো পরাণো যাহা চায় টাইপ অবস্থা হয়ে গেল। এহেন রোমান্টিক মোমেন্টে মিশা আর কাবিলা... থুক্কু, চাচামিয়া আর কাকাবাবু আইসা রোমান্স নষ্ট কইরা দিল। ঝাড়তে যামু, চায়া দেখি, এইডা ক্যাডা? ঠম ক্রুজ না? আরে নাহ।

আমাদের আরেক দুস্ত, নোয়াখাইল্ল্যা গাউস... থুক্কু, গিয়াস। তারে পুরাই হিরু হিরু নাগচিল। আমরা ৫ মিনিটের মাথায় বেঙ্গলে চড়িয়া ১ ঘন্টা ১৩ মিনিটের মাথায় আগারগাঁও এ ল্যান্ড করলাম। পথে আর্মি স্টেডিয়ামে একটা মলম কুম্পানীর "হাউ টু নট আ টাই" টাইপের প্রোগ্রাম চলছিল, তাই শুক্রবারেও বেশ জ্যাম লেগে গেছিল রাস্তায়। আমি ঢুকিলাম! আমি মেলায় ঢুকিলাম! ঢুকিতেই থতমত খাইলাম।

যেদিকে চোখ যায়, খালি মিস ইউনিভার্স!!! অস্বস্তিতে পড়ে গেলাম। আমার কাউয়ার এপার্টমেন্টের মত চুল আর দাড়ি এবং মোটা জ্যাকেটের তলে মৃদুমন্দ ভুঁড়িখানা ঢাকার ব্যর্থ প্রয়াস না জানি কোন রূপসীর চক্ষুশূল হয়। চোখ গেল বঙ্গবিলাইএর স্টলে। চার যুবক সেথায় ছুটিল। একে একে সবাই বেশ ভাব লইয়া ফডুকসেশন করলাম।

আজ আমার ফডুক দেইখা চোক্ষু চড়কগাছ হইল। ভাব লইছিলাম ব্র্যাড পিট, ছবিতে দেখায় রবি ঘোষ। কেলাসের চিচিংছা টাইপ মাইয়ারাও ক্যান পাত্তা দেয় না তার রহস্য উদঘাটন হইল। ছবির গড়মিলটা খেয়াল কইরেন। ঢুকিলাম বঙ্গবিলাইএর স্টলে।

সে কী! স্বর্গে এলাম নাকী? এত্ত হুর পরী!!! হাতে চিমটা খাইয়া বুঝলাম, নাহ, ধরাধমে আছি। সুন্দরী সুন্দরী আফামণিরা হইলদা শাড়ি পিইন্দ্যা মডেম বেচতাছেন। হিমি হিমি ভাব! খালি চাইয়া থাকতে মুঞ্চায়!!! কাকাবাবুর লেকচার খাইয়া বুঝলাম, ইহা স্রেফ মার্কেটিং ষড়যন্ত্র। বঙ্গবিলাইএর যা ফাপড় (FUP)! তাতে হুরপরীর খোমাধারী কঠিন ফিগারওয়ালী সেলসগার্লদের পারসোনা হইতে সাজাইয়া আইনা স্টলে না বসাইলে তরুণ প্রজন্ম আকর্ষিত হইবেক না, যার ফলে মডেম বিকোবে না! জানি কী ভাবতেছেন। কিন্তু মশাই, আমি লুল (অল্প একটু, বেশি না) হইলেও নীতিবান।

হলুদ বিলাইনীদের ফডুক তুলি নাই, যদি আঁচড় দেয়!!! চাচামিয়া আর কাকাবাবু মনের মাধুরী মিশায়ে ছবি তুলছেল আর আমি উদাস নয়নে কাপল দেখে দীর্ঘশ্বাস ফেলছিলাম। ঢুকলাম ইরানী স্টলে। বড় আশায় ছিলাম, ইরানী কোনও এক সুন্দরীর সাথে পরিচয় হবে, পরিচয়ডা নাম্বার দেওয়ানেওয়ায় গড়াবে, স্কাইপে চ্যাট হবে, প্রণয় শেষে বিয়ে হবে, কিউট কিউট কয়েকটা বাবু হবে ... কীয়ের কী? কয়েকটা টাকমাথার ইরানি আংকেল বসে আছেন ক্যাশে। সেইখানে বাঙ্গালীরাও দোকান খুলে বসেছে, যেখানে মোটেই ইরানি পণ্য নেই। বিক্রেতা পুলাডা চালু মাল।

চেয়ার অ্যান্ড হ্যান্ডচাম কাকাবাবুরে দেইখা কয় ঃ ভাইয়া, অফারটা কিন্তু আপনার জন্যই ছিল। একটা কিনলে একটা ফ্রি! আমার অবাধ্য মুখ কইয়া বসিলঃ রেজরের সাথে ব্লেড ফ্রি? লগে লগে পুলাডা কয়ঃ রেজরের লগে রেজর ফ্রি! ইরানি বাসন-কোসনা আর কার্পেট দেখে চোখ জুড়াইয়া বের হলাম। ওইগুলার ছবি নাই। চাচামিয়ার দোষ। সে ফডুগ্রাফার আছিল।

সামনে আগাইয়া ঢুকলাম ব্রাক নার্সারির স্টলে। নয়ন গেল জুড়িয়া! সুন্দর! ফডুক লন। দারুণ না?? জ্বী, ঠিকই ধরেছেন, শ্রেকের লাহান হাত দুইডা আমার। যে অভাগা হাত দেখে কেউ প্রেমে পড়ে না! ইশ! কী পার্ট লয়!!! কিনতে মুঞ্চায়!! ঢুকলাম ওয়াল্টনের শোরুমে!! দেশি পণ্য দেখতে ভালই লাগে। ফডুকডা দ্যাখেন।

এক্কেরে সনি-স্যামসাঙ্গের লগে টেক্কা দেওনের মত কোয়ালিটির HD ডিসপ্লে। গর্বে বুক ফুইলা গেল!!! পাশে চোখ পড়তেই বুক চিমসায়া গেল। লগে মাথার পিছনের ঘাড়ত্যাড়া রগটা উছলাইয়া উঠল। দেশী টিভিতে স্টার প্লাস চলতেছে!!! সেলসগার্ল মাইয়াডারে পাইয়া জিগাইলামঃ আফু, দেশী চ্যানেল নাই? থতমত খাইয়া সে কইলঃ আছে। জিগাইলামঃ তাইলে ইস্টার পিলাচ ক্যা? দেশীয় চ্যানেল ছাড়েন।

আমার কুঁচকান ভ্রু দেইখা সে কইলঃ স্যার, আমার তো কিছু করার নাই। এইডা ছাড়ছে আমার বস। জিগাইলামঃ বস কই? সে অলরেডি চাচামিয়ার গলায় ডিএসএলআর ক্যামেরা দেইখা আমাগো ছাম্বাদিক ঠাউড়াইছে। বসের কথা জিগাইতেই তার খোমা আমসি হইয়া গেল। আমার বড় মায়া লাগল।

বাদ দিলাম আসলে সন্ধ্যার টাইমে বাংলার নারীকূল হিন্দী ছিঃরিয়ালে মজে থাকে। তাদেরকে আকর্ষিত করতেই... গেলাম ওয়াল্টনের বাইক দেখতে। শিরাকম শিরাকম। আর এই যে নিচে গিটার দেকতাছেন, বাচ্চারা এই জিনিশ গরম পিঠা (হটকেক) এর লাহান কিনতাছে। জিনিশডা হইল, গিটারের বেলুন।

ফুডা হইলেই শ্যাষ। আরেক যায়গায় চাচামিয়ার চোখে পড়ল মাইয়াদের ফেচওয়াশ। ওমনি ফটাফট পিক উডায়। রহস্য তখন বুঝি নাই। ছবি নিজের ল্যাপ্টপে আনার পর বুঝলাম।

লুল পুলাডারে নিয়া কই যে যাই!!! তুরস্কের স্টলে এলাম। সিমপ্লি দারুণ। ফডুক দেখলেই বুঝবেন। কিনবার মুঞ্চায়। সবচেয়ে পিচ্চিডার দাম কইল দেড় হাজার টেকা।

ভাগতে মুঞ্চাইছিল। ভাগি নাই। স্টলডা আসলেই দারুণ। বিউকির স্টলে গেলাম। একদম পিচ্চি স্টল।

পুলাপান ভীড় করছে। বোধ করি সেলসগার্লদের আকর্ষণে। তাহারাও বঙ্গবিলাইনীদের মডার্ন (মনে হয় মঙ্গল গ্রহের) পোশাক পড়িয়া পারসোনা হইতে সাইজা আইসে। চেহারায় শিশার ছাপ, তয় আমার ভুলও হইবার পারে। কখনও খাই নাই তো!!! পাকিস্তানের স্টলে ভীড় কম ছিল।

আমি এবং আমার সঙ্গীরা ইন্ডিয়ার স্টলে ঢুকি নাই। তাই ওইখানে ভীড় কিরাম, কইতে পারবাম না। এক পুলায় দেখি ডাকতাছেঃ আসেন, আসেন, টেলিব্র্যান্ড, ইন্ডিয়ান জিনিশ! আগাইয়া গেলাম। "কী জিনিশ?" - "ইন্ডিয়ান। " তার মুখের সামনে হাত নিয়া কব্জিটা ৯০ ডিগ্রী ঘুরাইয়া কইলাম, "দরকার নাই।

" ওই স্টলে দর্শনার্থী বড়ই কম আছিল। বহু স্টলে দেখলাম, ১টা কিনলে ১০টা ফ্রি। আরেক জায়গায় দেখলাম ১টা কিনলে ২০টা ফ্রি। এক জায়গায় জিগাইলাম, কীয়ের লগে কী ফিরি? বেডায় যে কী বুঝাইল, মাথার উপ্রে দিয়া গ্যাছে গা। বঙ্গবন্ধুরে নিয়া একটা প্রদর্শনী ছিল।

ঢুকি নাই। এখন টেনশনে আছি। যদি জেল জরিমানা হয়!! দেশী কোম্পানিগুলোর স্টল মুগ্ধ করার মত। ওয়াল্টন, মাইওয়ান, আখতার, পারটেক্স, ব্রাক, ফ্রেশ, ফাইনাল টাচ... ইত্যাদি ইত্যাদি। কিছুই কিনি নাই।

তয় খাইছি ব্যাপক। ভাপা, চানাচুর, ফুচকা,ছোলা- বাদ যায় নাই। আজ পর্যন্ত চার বান্দরের কারুরই পেট খারাপ হওয়ার সংবাদ পাওয়া যায় নাই। বুঝতে হবে, এখন যৌবন চলে, পেট হইল ইস্টিলের পেট, পচা-বাসি খাবারে সারেন্ডার করে না। শেষ করতাছি তুরস্কের স্টলে তোলা একখান ফডুক দিয়া।

কন দেহি, এইখানে কালো হিমু কোনডা? কালো হিমুর নোটবুক ...  ।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।