আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

রূপবতী সন্ধ্যা কাব্য

"তবু দলছুট একদল স্বপ্নবাজ বাঁধে নতুন প্রভাতগীত; ভৈরবীর সুরে বাঁধা স্বপ্নে বাঁধে নতুন ভোর। ভোরের সেই হিমালোক শিশির স্নানে যাবে সকল যাপিত জীবন। তিমিরভেদী মিছিল নিয়ে; হিমাদ্রিসম স্বপ্নে বয়ে" রক্তে শিরশির কাঁপন এই মাঝ রাত্রিরে- মোহিনী একটা তান বেজে চলেছে বৈরাগী ধমনীতে। একটা শরীর - গন্ধ আমার আধোয়া জামায় । একটা হাঁসি - গন্ধ আমার স্নায়ুতন্ত্রে ।

শব্দ - গন্ধ শ্রবনেন্দ্রিয়ে । মনে আছে আমি প্রতিক্ষায় ছিলাম- কালো এক দীর্ঘ সন্ধ্যা মুঠোয় পুরে । কে জানে কৃষ্ণকায় সন্ধ্যার রূপ- হয়তঃ শুধু রাধাই জানে । আমি জানতাম একটুখানি বৃষ্টি হবে । যে বৃষ্টিতে ভিজবেনা নাগরিক জীবন ।

ভিজবেনা ইট কাঠ পাথর ব্যস্ত রাস্তার ধুলিবালি । শুধু আমি ভিজে যাব! ভিজে জবজবে হবে আমার শরীর ; যে উত্তাপে আবারও বৃষ্টি হবে- কেউ জানবেনা কোনোদিন । সিগারেট ছিল- ছিল- আগুন; ধোঁয়াও ছিল - ক্ষীণ দৃষ্টি চোখে ভারী কাঁচ- কালচে ধূসর গোলকের ভেতর চিত্রকল্প। মোনালিসা কিংবা ক্লিওপেট্রা নয়- বাঁশরিয়া কৃষ্ণের বাঁশি যার জন্যে- সে রাধাও নয় । না ভেনাসও নয় ।

সে অখণ্ড প্রতিক্ষা শেষে রূপবতী হয়েছিল সেদিনের সন্ধ্যা । সন্ধ্যা আমায় কৃতজ্ঞতাও জানিয়েছিল । অথচ রাত্রির সাথে অভিমান জ্যমিতিক হারেই বেড়ে চলেছে প্রতিদিন। ত্রিচক্রযানে যেন স্থির হয়েছিল পৃথিবী নামক অতিকায় গোলক । ক্লান্ত ঈশ্বর ঘুমিয়ে পড়েছিলেন যেন পৃথিবীকে নিয়ে ভাবার ঢের সময় রয়েছে ।

ছিল শরীর - শিহরন ; রক্ত তঞ্চনে একই তান । চোখ ছিল- ছিল সমুদ্র- ছিল ঢেউ ; ডুবও ছিল । জীবনের জন্য- ভালবাসার জন্য- হাহাকার ছিল- ছিল চিৎকার । শুধু শব্দ ছিলনা । আমি অনুভব করছি ; নিতান্ত অসাবধানতায় পাওয়া একটা স্পর্শ- গন্ধ - সংকোচে নিজেকে লুকিয়ে রাখা স্পর্শ- গন্ধ ; একটা নিবিড় স্পর্শ- গন্ধ ।

আমার বারান্দায় হিমশীতল গাঢ় অন্ধকার এখানে এখন আগুন- এখানে এখন ধোঁয়া - এখানে এখন বৃষ্টি । ।

সোর্স: http://www.somewhereinblog.net     দেখা হয়েছে ১০ বার

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।