আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

মুক্তগদ্য: একটি রূপবতী সন্ধ্যার বিপরীতে তুমি কঙ্কবালিকা

ডুবোজ্বর

"তোমার বাড়ি, আমার বাড়ি-- মধ্যে সুরনদী, সে নদী কেমনে হইলো অকূল জলধি..." ০১. আমার মন কেমন করছে। আমি তোমাকে কেমন করে বলবো দেয়ালের যন্ত্রণা? আমি চাই আমার ডানা হোক। আমি পাহাড়ে উঠে আকাশে লাফ দেবো। তুমি কেনো আমার ডানা হবে না? তুমি আমার কাছ থেকে পালাতে চাও, বললে। কেনো পালাতে হবে? তুমিতো নিত্য যাওয়া আসা।

আমার যে হাত নেই, তোমাকে ধরে রাখি নি। যদি ভাবো, হাত আছেই। তাতে কী? হাতে আমার আঙুল নেই একটাও। আমার হাতের আঙুলগুলি তোমার হাতেই আছে, আমার চোখের অশ্রুদিঘি তোমার চোখেই বাঁচে। ০২. সে নিচে ধীরে নুয়ে পড়ার মতো অনুভব করে যে তার বোধ মুহূর্ত ঘটনা তার দেহ অধিগ্রহণ করতে পারে; দেহ তাকে থামতে নিষেধ করে।

সে একটি হাতে এর ডানার মধ্যে তার বাড়ি এবং একটি মৃতগানের পালক ছড়াতে ছড়াতে দৃশ্যচ্যুত। ০৩. আমি একটা নদীর উপর ছিলাম। কুয়াশা ঘিরে আসছিলো দশদিগন্ত জুড়ে। অসহনীয় জোছনার অত্যাচারে আমি মরে যাচ্ছিলাম। তোমাকে বললাম, তুমি কি এখন কুয়াশা হবে, ঢেকে দেবে জোছনার মড়ক? তুমি বললে জোছনা তোমার প্রিয়।

কী বলবো আর জোছনা সে তো আমারো প্রিয়। জোছনার দিগন্তে কুয়াশাকে মনে হচ্ছিলো শাদাশাড়ি শুকোচ্ছে দীঘল। বিধবা চাঁদ ফিরে গেছে আকাশে। রাতের আকাশে থাকে না নীল, থাকে কেবল নীলের স্মৃতি। বাঁশিটা যেমন অবশেষে হয়ে থাকে রাখালের দীর্ঘশ্বাস।

রাখাল যখন বাঁশি বাজায় মাঠের পর মাঠ শূন্য হয়ে যায়। ০৪. স্মৃতি আর তার বাহুতে ভোর ছিলো এবং পাতার মধ্যে প্রথম আলো রাস্তা বরাবর নিযুক্ত করা। গলবন্ধের সঙ্গে পদশব্দ হারিয়ে গেলে রাত্রি শিশিরের সোনালি বার্নিশ মেখে বুক খোলে দাঁড়ায় কদুলির বনে। ০৫. আমি একটা গল্প লিখবো। গল্পের নাম হবে কঙ্কবালিকা।

কঙ্ক মানে কাক। তুমিই আমার কঙ্ক। ভোরবেলা ঘুম ভাঙাবে... মিলু এসে বললো, জানিস, কাকের চোখ পৃথিবীতে সবচে সুন্দর? তুই কেমন করে জানলি? মিলু বললো, কঙ্কচু জল... ভালো আছো তুমি? অনেকদিন তোমাকে দেখি নি। শেষবার নতমুখে খাতার পাতা উল্টাচ্ছিলে। খাতার মধ্যে কিছু ছিলো না।

তুমি সুর খুলে দাঁড়িয়ে ছিলে পাহাড়ের গান। আমি কী করবো ভেবে পাচ্ছিলাম না আর। আমার খুব ইচ্ছে করছিলো তোমাকে সুর পরিয়ে বীণায় তুলি। আমার বীণার তারে দুইশোবছরের নৈঃশব্দ্য ছিলো নিবিড়। ০৬. মধ্যাহ্ণের বিন্দুর সঙ্গে প্রত্যেকে ফলমতি।

সে তাকে বাড়িতে অতীতের কথা বলে যে জানলার হিশেবে পতন পর্যবেণ একটি দ্বিতীয় সংগঠন। প্রত্যেক রাত্রিদিন এটি অতিক্রম থেকে অবতরণ করে। সম্বোধন করা কাগজের একটি অংশে নিচে লেখা হয়। সেখানে বলা হয়, এইটি অবতরণ করে। আমি তার জন্যে দেখে যেতে পারি না, একটির সঙ্গে অন্যটির উত্তর দিয়েছিলাম যেটি তার মুখে রুটির শাদা স্বাদ।

০৭ তার দিকনির্দেশনাতে, বিদ্ধ করা আঁধার এবং আসছে বহুদূরে থেকে সে একটি কান্নারতি, শুনছিলো অথবা কল্পনা করছিলো। সে কোলাহল, ভীত বন্ধ করা কাঁচের জানলায় হাত প্রসারিত করে প্রার্থনা করে। ইহা তাকে প্রতিযোগিতার জন্য ব্যক্ত এবং কাল সম্বন্ধে অসহায় করতে পারে। ০৮. তারপর চিন্তার দ্বারা, যে যদি সে তার বিছানার সঙ্গে নিযুক্ত করে বন্ধ ইতোমধ্যে তৈরি করে কারখানা-- সমস্ত ফিরে আসে নিচে; অবস্থান করে হাটে। সে টুকরা এবং কম্বল সরিয়ে দিয়ে পরিচ্ছন্ন মেঝেতে স্তূপাকার শয্যা।

০৯. ছোট কামরার মধ্যে ছোট এবং নখরূপ শব্দ করার এই রাত্রিটির যোগান হচ্ছিল। তার পাতে আঁকা একটি অল্পস্বর বিড় বিড় বাজে। তাদের চোখের আলাদা করা উচিত। মেঝে এবং তার বিশালকার জাহাজে জায়গা অপ্রতুল। এর গহ্বরে অনিশ্চিত খেলা ভিজিয়ে রাখে পুবের সকল দুয়ার।

১০. কেউ জানলার মধ্য দিয়ে রাত্রি দ্রুত পর্যবেণ করেছিলো। দিবারাত্রির তারল্য তাকে বিরক্ত করেছিলো এবং প্রাতিষ্ঠানিক পোষাক আঁধারের সঙ্গে ছায়া এবং বাতি শুরু হয়েছিলো। কারো শয়নের ওপর একটি বালিশ ব্যতীত বিছানায় বিশ্রাম ছিলো। ১১. কেউ ঘুমানোর মধ্যে একটি কলকল সজারু। এর সঙ্গে কাঁটাযুক্ত লতা ভেবে নিচে পা রেখে উপরে চোখ রাখছিলো এবং ওজন করেছিলো।

সে বাথটাবে শুয়ে নীল উপরিতল অধ্যয়ন করেছিলো যেটি এখনও জল এইটির বৃত্ত হিশেবে যতো মনে হয়েছিলো-- বন্ধ করেছিলো। ১২. এই ঘুমন্ত পাড়ার পূর্বে যে মৃত ঘাসবৃন্দ নিচে সমাহিত-- মনে করা হচ্ছে সেইটি সমস্ত সর্বাপো আরামদায়ক অবস্থান। সময়ের যে কোনো দৈর্ঘ্যের জন্যে পরবর্তী প্রভাত বৃষ্টিবান। যা এতো ভারি যে এর উপর অন্ধকার রাখা আপত্তিকর। ১৩. প্ররোচিত বিশ্বাসে প্রলম্বিত করি দীর্ঘশ্বাস।

আমার শূন্যতা দেখে নি জোছনায় নিমগ্ন আধফোটা নরোম বকুল। আমি ভিড়ের মাঝে অতীত খুঁড়ে নিঙড়ে এনেছিলাম একটি সন্ধ্যার কবিতা। ভালো আছো তুমি? কেনো? ভয় পেলে? কোনো কারণ নেই। তোমাকে কোনোদিনও বলবো না আমার হাত ধরো। আমার হাতে যতো শূন্যতা আছে তুমি নিতে পারো না, আমার বুকে যতো আছে প্রান্তরের হাহাকার... বিশ্বাস ভিড় ঠেলে গলে পড়ে তার সমস্ত কোমলতা নিয়ে।

আর তুমি এসেছিলে সন্ধ্যার নিমগ্নতায়। আমি তোমাকে দেখে মনে আছে একটি রূপবতী সন্ধ্যাকে অস্বীকার করেছিলাম।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।