দেহের শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত বলব, 'মা, মাতৃভাষা আর মাতৃভূমি...। ' বাংলাদেশে এমন কোন সরকারী প্রতিষ্ঠান এখন আর খুঁজে পাওয়া যাবেনা যা এখনও পঁচেনি বা গলেনি। এখন আসলে দুর্গন্ধ বেরুতে শুরু করেছে। যার নমুনা আমরা দেখতেও শুরু করেছি। আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করে বেরিয়েছি ১৯৯৮ সালে, পাস করার কথা ছিল ১৯৯৪ সালে! কি অদ্ভুত একটা দেশ! তাইনা? তখনই বুঝেছিলাম যে আমি একটা কত পঁচা প্রতিষ্ঠানে পড়তে এসেছিলাম! এটাই নাকি দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ! পাশ করার পর মনে হয়েছিল আমি একটা খচ্চরে পরিনত হয়েছি।
না গাধা, না ঘোড়া । নিজেকে না শিক্ষত, না অশিক্ষিত, না কুশিক্ষিত, না অর্ধশিক্ষিত, কোন দলেই ফেলতে পারছিলাম না! কি একটা চিড়িয়া! এমন বিদ্যার ভার আর বইতে পারছিলাম না!
যে কোন জিনিসের পঁচন নাকি মাথা থেকেই শুরু হয়। রাস্ট্রের মাথা যারা তৈরী করবে তাদের মাথাই যদি পঁচে যায়, যাওয়ার জায়গাটা আর কোথায় থাকে? গত দশ-বারো বছরে এর অবস্থা যে আরো কত ভয়াবহ হয়েছে তার নজীরও আমরা দেখলাম বিজিনেস স্টাডিস ডিপার্টমেন্টের ভর্তি পরীক্ষায়। হাই কোর্টের রায় লেগেছে স্যারদের(!) অবহেলা কে স্বীকৃতি দিতে। তাছাড়া সৎ পরামর্শক খুঁজতে হয়েছে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে, কারণ হাই কোর্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন শিক্ষককে হয়তো আর বিশ্বাস করতে পারছিলেন না।
ভাগ্যিস এই বিশ্ববিদ্যালয়েরই প্রাক্তন ছাত্র ডঃ জাফর ইকবাল এর জন্ম হয়েছিল এই দেশেই। তা না হলে এত বড় একটা অপরাধ করেও বিজিনেস স্টাডিস ডিপার্টমেন্টের স্যাররা পার পেয়ে যেতেন ! জেনেও না জানার ভান করা অবহেলার শামিল। ন্যায়ের বাইরে গেলে আমরা বলি অন্যায়, আর অন্যায় করে কেউ যদি কারও বড় ক্ষতি করে ফেলে তখনি সম্ভবত তা অপরাধে পরিনত হয়। অনেক অপরাধই পৃথিবীতে ক্ষমার যোগ্য, কিন্তু সবার অপরাধ কি ক্ষমা করা যায়? যেমন আমাদের শ্রদ্ধেয় এই স্যারদের! কি ব্যাখ্যা আছে তাদের কাছে এই অপরাধের? যে ছাত্র-ছাত্রীরা এই বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজিনেস স্টাডিস ডিপার্টমেন্টের বিভিন্ন শাখায় ভর্তি হবে তারা কি শিখবে? বিজিনেস? ন্যায়-নীতিহীন বিজিনেস? না কি মানুষ হবে তারা, সত্যিকারের মানুষ দেশকে এক ধাপ এগিয়ে নিতে।
বিজিনেস করে সার্টিফিকেট দেয়ার একটা ভাল উপায় বের করেছে এই বিজিনেস স্টাডিস ডিপার্টমেন্ট।
রাষ্ট্রের সম্পদ ব্যবহার করে পয়সা বানানোর এমন উপায় পৃথিবীর কোথাও আছে কি না কে জানে। ইভিনিং এম.বি.এ. নামক একটা কোর্স স্যারদের খুব বড় মাপের শিক্ষক না বানাক, বড় মাপের ব্যবসায়ীতে পরিনত করেছে। সরকার যদি মনে করে দেশে এম.বি.এ. ডিগ্রী ধারী লোকের ভুড়ি-ভুড়ি প্রয়োজন, তাহলে সরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে সান্ধ্যকালীন এম.বি.এ. কোর্স চালু করা যেতেই পারে। প্রয়োজনে সান্ধ্যকালীন এম.বি.এ. কোর্সের জন্য আলাদা শিক্ষক মন্ডলী নিয়োগ করা যেতে পারে। কিন্তু সেটা হতে হবে দিনের প্রোগ্রামের মতই, একই ছাত্র বেতনে।
ছাত্র প্রতি তিন-চার লক্ষ টাকা নিয়ে নয়। প্রতি ব্যাচে চারশত ছাত্র ভর্তি করলে যার পরিমান দাঁড়ায় প্রায় বারো কোটি টাকা! আর এই অর্থই হচ্ছে সকল অনর্থ, অবহেলা, অপরাধ আর গন্ডগোলের মূল! এই টাকার সামান্য একটা অংশ বিশ্ববিদ্যালয়কে দিয়ে পুরোটাই ভাগ যোগ করে নেন এই স্যাররা। জনগনের টাকায় গড়া এই সম্পদকে এভাবে লোটপাট করার অধিকার এই জ্ঞান পাপীদের কে দিয়েছে? নয়টার ক্লাশে যে শিক্ষক আসার কথা তিনি আসেন সোয়া নয়টায়, আর দশটায় যাবার কথা থাকলেও চলে যান পৌনে দশটায়! কি ভয়ংকর চরিত্র! অথচ এই শিক্ষককেই দেখা গেছে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের দশটার ক্লাশ নেয়ার জন্য সাড়ে নয়টায় উপস্থিত হতে! ঘরে ব্যবসা, বাইরে ব্যবসা, কোচিং এ ব্যবসা, ব্যসসাই ব্যবসা! টাকা আর টাকা, পেট আর ভরেনা, ক্ষুধা আর মরেনা! আর আমরা যারা পাঁচ টাকা বেতন দিয়ে পড়তে গিয়েছিলাম তাঁদের পড়ানোর কোন সময়ই যেনো তাদের নেই। ভর্তি পরীক্ষা, যাকে ভর্তি বানিজ্য বলাই ঠিক হবে, সেখানেও তারা লাখ লাখ টাকা বানায় অথচ একটা প্রশ্ন করার পর্যন্ত তাদের সময় নেই। গাইড বই দেখে তারা হুবুহু প্রশ্ন তুলে দিয়েছেন! হয়তো কোচিং সেন্টারে প্রশ্ন দিয়েও দিয়েছেন! সবই সম্ভব এই অসম্ভবের দেশে! ভর্তি কমিটি, প্রশ্ন কমিটি, মূল্যায়ন কমিটি, খাতা দেখা কমিটি, স্ক্রুটিনি কমিটি, রেজাল্ট কমিটি, গার্ড কমিটি, এডমিট কার্ড কমিটি, সিকুরিটি কমিটি…এরকম শত কমিটি মিলেই ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
আর এরকম কমিটিতে থাকা মানেই টাকা আর টাকা। এত টাকা কামাই করার পরও কেন ভুল থাকবে ভর্তি প্রক্রিয়ায়? কেনই বা রেজাল্ট হবে ভৌতিক আর অগ্রহন যোগ্য? ছাত্র-ছাত্রীদের জীবন হবে বিপন্ন? কেনো হাই কোর্টে যেতে হবে এই মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের? শিক্ষকতা কি তাহলে একটা চাকুরী? এটা কি কেবলই একটা ব্যবসা? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজিনেস স্টাডিস ডিপার্টমেন্টে তাহলে কি হচ্ছে, বিজিনেস না স্টাডিস? জাগো মানুষ জাগো! ।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।