আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

বিশ্বের গণমাধ্যমে বাংলাদেশের সাথীর ‘রূপকথা’ (ভিডিও)

রূপকথার গল্প কি এর চেয়ে বেশি রোমাঞ্চকর হতে পারে? বাংলাদেশের মেয়ে শিউলি সাথী যে গল্পের জন্ম দিয়েছেন, তা হার মানিয়েছে রূপকথাকেও। কারণ, সাথী নিজের জীবনে যেভাবে অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন, জীবনের বাধা-বিপত্তি তুচ্ছ করে এগিয়ে গেছেন, তার কাছে রূপকথার গল্প বিপুল ব্যবধানেই পরাজিত। দারিদ্র্য, শারীরিক অক্ষমতা—সবকিছুই তিনি উড়িয়ে দিয়েছেন এক ফুঁত্কারে। সুস্থ দেহ-মন নিয়ে মানুষ যে স্বপ্ন দেখার সাহস পায় না, সাথী সেই স্বপ্ন পায়ের তলায় নিয়ে এসেছেন অবলীলায়।
শারীরিক অক্ষমতাকে তুচ্ছ বানিয়ে এই সাথী বিশেষ অলিম্পিকে দু-দুবার গর্বিত করেছেন বাংলাদেশকে।

বাংলাদেশের গর্বের ধন এই সাহসিকাকে সম্প্রতি সম্মানিত করেছে দেশের সবচেয়ে বড় মুঠোফোন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান গ্রামীণফোন তাদের একটি বিজ্ঞাপনচিত্রে ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে তুলে ধরে। ব্যাপারটি এখানেই শেষ নয়। সাথী এখন শিরোনাম আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও। বিশেষ অলিম্পিকে সাফল্য অনেক প্রতিবন্ধীই পান, কিন্তু সাথী যেভাবে বিপরীত স্রোতে সাঁতরে এই পর্যায়ে উঠে এসেছেন, তা নজর কেড়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের। চীনের বার্তা সংস্থা সিনহুয়া, ভারতের আইএনএস সাথীকে বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরেছে এক বিস্ময়কন্যা হিসেবে।


সিনহুয়া গ্রামীণফোনের হেড অব কমিউনিকেশন তাহমিদ আজিজুল হকের কাছে জানতে চেয়েছিল ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে সাথীকে ব্যবহার করার বিষয়টি। এর উত্তরটি তাহমিদ দিয়েছেন একেবারে সোজা-সরল ভাষায়, ‘আমরা মনে করেছি, শিউলি সাথীর অর্জনটি যদি বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে তুলে ধরা যায়, তাহলে আমাদের তরুণ প্রজন্ম জীবনের সব বাধা-বিপত্তি জয় করে এগিয়ে চলার অনুপ্রেরণা পাবে। ’
জীবনের একটা সময় পর্যন্ত সাথী যে চলাফেরা করতে পারবেন, এ নিয়েই সংশয় ছিল তাঁর পরিবারের অনেকের। কিন্তু সাথী এগিয়ে গেছেন নিজের ইচ্ছাপূরণের লক্ষ্যে। চলতে-ফিরতে প্রচণ্ড অসুবিধা হতো, কিন্তু সাথী চেষ্টা করে গেছেন।

চেষ্টা করতে করতেই একটা সময় আবিষ্কার করলেন, তাঁর অক্ষমতার ব্যাপারটি কেটে গেছে অনেকটাই। এর পরপরই তিনি নাম লেখান বিশেষ অলিম্পিকে। এর পরের ঘটনা তো ইতিহাসই। যে একসময় নিজ পায়ে ভর দিয়ে হাঁটতেই পারত না, সেই কিনা ছুটছে ট্র্যাকে!
২০০০ সালটি সাথীর জীবনে অন্য রকম হয়েই আসে। ওই বছরই তিনি প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য বিশেষ স্কুলে ভর্তি হন (এসডব্লিউআইডি)।

স্কুলে ভর্তি হওয়ার পর তাঁর শারীরিক ও মানসিক অবস্থার যে বিশেষ উন্নতি হয়, সেটা তিনি জানিয়েছেন নিজেই। এসডব্লিউআইডি থেকেই তিনি বউছি ও ব্যাডমিন্টন খেলাটা রপ্ত করে ফেলেন। বর্তমানে তিনি এসডব্লিউআইডিতে কাজ করছেন অন্যান্য প্রতিবন্ধী শিশুদের প্রশিক্ষক হিসেবে।
নিজে একজন প্রতিবন্ধী। জীবনের একটা অংশে অন্যদের মানসিক পীড়নে অতিষ্ঠ হয়ে বুঝেছেন, প্রতিবন্ধীদের জীবনটা আসলে কী রকম।

সেই উপলব্ধি থেকেই নিজের ভবিষ্যত্ জীবনটা তিনি উত্সর্গ করেছেন প্রতিবন্ধীদের জন্য, ‘আমি সব সময়ই প্রতিবন্ধীদের জন্য কাজ করে যাব। আমি তাদের জীবনমানের উন্নতি ঘটাতে চাই আমার মতো করে। তাদের বোঝাতে চাই, শেখাতে চাই, শারীরিক-অক্ষমতা মানুষ জয় করতে পারে নিজের ইচ্ছা আর চেষ্টার মাধ্যমে। ’
শিউলি সাথীকে যে একটা বড়সড় স্যালুট জানাতেই হচ্ছে!

সাথীকে নিয়ে বানানো গ্রামীণফোনের ভিডিওটি দেখুন:

সোর্স: http://www.prothom-alo.com

এর পর.....

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.