#> গত পরশু প্রথম-আলোতে পড়লাম মুশফিক বলেছে, 'আজ মমিনুল আউট ছিলো না। সব দলের সঙ্গেই এমন হয়। তবে আমাদের মত ছোট দলের বিপক্ষে এমন ভুল হলে সেটার ধাক্কা আর আমরা সামলে উঠতে পারি না'।
প্রিয় মুশফিক, অধিনায়কের মুখ থেকে এতদিন পরেও 'ছোট দল' তত্ত্বটা শুনতে আর ভালো লাগে না। আগামীকাল প্রথম ওয়ানডে।
আশা করি এই তত্ত্বটা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলেই মাঠে নামবেন।
> তাকিব উল ইসলাম নামের এক ফেসবুক বন্ধু আজ লিখেছে ২০০৯ এর আজকের দিনে(২২শে মার্চ) তার বাবাকে হারিয়ে কেঁদেছিলো। ২০১২ এর আজকের দিনে এশিয়া কাপের ফাইনালে বাংলাদেশ পরাজিত হওয়ায় কেঁদেছিলো।
লিখে এসেছি, আশাকরি বাংলাদেশ ক্রিকেট দল আগামীকাল জিতে আপনার মন খারাপটা দূর করে দেবে।
# হাম্বানটোটা স্টেডিয়ামের একটা মজার ইতিহাস মনে পড়ছে।
স্টেডিয়ামটা বানানোর পর, ঠিক মনে নেই, তবে সম্ভবত: রানাতুঙ্গাই একটা পত্রিকায় লিখেছিলো, ক্রিকেটারদের বেতন দিতে নিয়মিতই গড়িমসি করা সরকার কোটি-কোটি টাকা দিয়ে মাত্র ১২০০০ লোকের একটা শহরে ৩৫৫০০ সিট সম্বলিত একটা স্টেডিয়াম তৈরি করে দিলো! এবং কটাক্ষ করে একটা লাইন সম্ভবত: এমন ছিলো, অ্যাডমিনিস্ট্রেশন রোলস ফানিয়ার দ্যান লাস্ট বল উইনিং ম্যাচ।
# ১) গ্রাহাম গুচ, মারভান আত্তাপাত্তু, সাঈদ আনোয়ারও অভিষেকে গোল্ডেন ডাক মেরেছিলেন। জিয়াউর রহমান, মন খারাপের কিছু নেই।
২) ২০১০ এর পর এটাই তামিম ইকবালের প্রথম সেঞ্চুরী। এবং নি:সন্দেহে সবচেয়ে পরিশ্রমী সেঞ্চুরী।
এভাবে ধৈর্য ধরে, স্ট্রাগল করে আর কোনো সেঞ্চুরী করেনি তামিম। আগের তিনটা সেঞ্চুরী ছিলো ১০৪, ১২০ এবং ৯৪ বলে। এবারেরটায় লাগলো ১২৯ বল। সবচেয়ে ধীর। তামিমের ১১২ যেকোনো বাংলাদেশী হিসেবে শ্রীলংকার মাটিতে সর্বোচ্চ।
আগের সর্বোচ্চ আশরাফুলের ৬৬। আর সব কাউন্ট করলেও শ্রীলংকার বিপক্ষে যেকোনো বাংলাদেশীর সর্বোচ্চ। আগেরটা মিরপুরে সাকিবের ৯২।
৩) উইকেটে স্পিনারদের জন্য কিছুই দেখলাম না। তাই ২৫৯ রান নিয়ে খুব আশাবাদী হতে পারছি না সত্যিই।
সঠিক জায়গায় বল রেখে ধৈর্য ধরতে হবে।
৪) ম্যাচের টার্ণিং পয়েন্ট অ্যাশ-মুশফিকের অল্প সময়ের ব্যবধানে আউট হওয়া। দুই বলের ব্যবধানে তামিম-জিয়ার বিদায়ে প্রায় ১৫-২০ রান কম হয়েছে। ২৮০ প্লাস যেকোনো স্কোরই দূর্দান্ত হতো। হাম্বানটোটায় হওয়া ৮ টা ওয়ানডের ৫ টাতেই ২৮৫ এর বেশি রান উঠেছে।
৫) রানিং বিটুইন দ্যা উইকেট খুব খারাপ পর্যায়ে। মাহমুদউল্লাহ-তামিম-নাসির-সোহাগ প্রত্যেকেই কল দিয়েও দো-মনা করেছে।
৬) দীর্ঘদিন ধরে ব্যাটিং পাওয়ার-প্লে আমাদের অন্যতম সমস্যা। আজও মাত্র ২১ রান এসেছে ব্যাটিং পাওয়ার-প্লে থেকে। এবং নিশ্চিত থাকতে পারেন, শ্রীলংকা ব্যাটিং পাওয়ার-প্লের সর্বোচ্চ ব্যবহারই করে নেবে।
২৮ তম ওভার থেকে ৩৭ তম ওভারে ৫৩ বলের মধ্যে একটা বাউন্ডারিও মারতে পারেনি টাইগাররা। দ্যাটস ঠু মাচ!
৭) শ্রীলংকা দলে ৩ জন উইকেটকিপার খেলছে আজ। সাঙ্গাকারা, চান্দিমাল এবং কুশাল পেরেরা। এর আগে তিনজন উইকেটকিপার একসাথে কোনো দলে খেলেছে বলে মনে পড়ছে না।
৮) নাসির 'মাইক হাসি' হোসেন আরেকটা ক্ল্যাসিক ইনিংস খেললো।
বলি না, এই ছেলেটা বিশাল কোনো ট্যালেন্ট তবে এই ছেলেটার মাঝে এমন কিছু একটা বিরল বৈশিষ্ট্য আছে যেটা হরহামেশা দেখা যায় না।
# ১) পেস বোলিং এর করুণ দশা দেখলাম গত রাতে। আবুল হাসান-রুবেল কোনো দিশা খুঁজে পেলো না দিলশান-পেরেরার সামনে। তারচেয়ে বড় লাগলো পরিকল্পনার অভাব। দিলশান অফ স্ট্যাম্পের বাইরের বলে বরাবর খুব স্ট্রং এটা সাধারণ দর্শকও খুব ভালো জানে।
অথচ ক্রমাগত অফ স্ট্যাম্পের এক হাত বাইরে বল দিতে দেখলাম পেসারদের। সেই স্পিনেই আস্থা রাখতে হলো মুশফিকের। অথচ শ্রীলংকা পিচের সুবিধা নিতে চার পেসার ব্যবহার করেছে। প্রায়ই ১২০ কিলোমিটারের নিচে বল করা ম্যাথুস শুধু মাত্র লাইন-লেংথ দিয়ে চেপে ধরে রেখেছিলো বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের তা প্রথম ইনিংসেই দেখেছি। অথচ বাংলাদেশি পেসারদের বলের উপর মিনিমাম নিয়ন্ত্রন নেই দেখে যার পর নাই হতাশ।
মাশরাফি-নাজমুলের অভাব বোধ হয়েছে নি:সন্দেহে।
২) সেনানায়েকে একটা কঠিন ক্যাচ ধরতে না পেরে অন্তত ছক্কাটা ঠেকিয়েছিলো বাংলাদেশ ইনিংসের শেষ বলে। আর রাজ্জাক একটা সহজতম ক্যাচ ঠেলে ছক্কা বানিয়ে দিয়েছে। এই হলো পার্থক্য।
৩) ডাকওয়ার্থ লুইসে ওভার কমে আসায় শ্রীলংকার সুবিধাই হয়েছে বরং।
৫০ ওভারে ৩০০ করা থেকে ৩০ ওভারে ২০০ করা বেশি সহজ বলেই মনে হয় আমার।
৪) সেঞ্চুরীয়ান তামিম হারাতে হলো এবার। তামিম-শাহরিয়ার-সাকিব-নাঈম-মাশরাফি-নাজমুল-এনামুল জুনিয়র, ইনজুরির লিস্টটা লম্বাই হচ্ছে দিনে দিনে। মনে হচ্ছে দ্বিতীয় একাদশ নিয়ে খেলছি। তবে সদ্যই আঙুলের চিড় ধরা থেকে ওঠা একজনকে পয়েন্টে ফিল্ডিংয়ে রাখাও কতটুকু যৌক্তিক হয়েছে, সেটাও প্রশ্নের।
৫) ইনজুরির জন্য গণহারে BPL কে দোষ দিতে দেখছি। বিপিএলকে বলির পাঠা করা হচ্ছে। হতে পারে। তবে একটা জিনিস খেয়াল করেন। অস্ট্রেলিয়া বিগ ব্যাশ খেলে ভারতে এসেছে।
বিগ ব্যাশের কারণে কেউকে তো ইনজুরি আক্রান্ত হতে দেখলাম না। আর চার ওভার বোলিং অথবা ২০ ওভার ব্যাটিং থেকে তো ফার্স্ট ক্লাসের টানা চারদিন ধরে ৯০ ওভারের ম্যাচে ইনজুরড হওয়ার সম্ভাবনা ঢের বেশি থাকে। কিন্তু বিপিএল যে 'নন্দ ঘোষ'!
৬) যেখানে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ নেই সেখানে ডে-নাইট ম্যাচ কেনো? আর হাম্বানটোটার শ'-দুয়েক দর্শক তো বাংলাদেশে যেকোনো গ্রামের কাবাডি খেলায়ও হয়।
৭) নাজমুলের ইনজুরিতে শাহাদাতকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। অতিরিক্ত রান দেওয়ার কারণে খুলনা রয়েল বেঙ্গলস তো ওকে কয়েকটা ম্যাচ পর আর খেলায়ই নাই।
আর ওকে ডাকলো ওয়ানডের জন্য। তাসকিনকে বাজিয়ে দেখা যেত। যার ভবিষ্যত নেই তাকে টানাটানি না করে ভবিষ্যতের দিকে তাকানোর বড় সুযোগ ছিলো। শাহাদাতকে তো আর পরের বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে না। সিলেকশন পছন্দ হয়নি মোটেও।
আকরাম-নান্নু-বাশার জানে তারা কী করছে!
৮) বাংলাদেশ হারলে ওইদিন আর কিছু লেখার মুড থাকে না। আর যেভাবে হেরেছে তাতে তো পুরোটা ম্যাচই দেখিনি গতকাল। সকালে দু'জন নক করলো, আমি ম্যাচ নিয়ে কিছু লিখিনি কেন বলে। সম্মানিত বোধ করেছি যে কেউ কেউ আমার লেখারও অপেক্ষা করে বলে। ।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।