আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

নীলাকাশ এর গল্প....

আজ একটা গল্প শুনাব। ঠিক যেন শেষ বিকাল এর মত ৬ সেপ্টেমবার ২০১১, রাত ১ টা বাজে। কানে ফোন টা ধরে শুইয়ে আছি। একটু আগেই ঘুমাইসিলাম। ঘুম এ চোখ এখনও লেগে আসছে।

কিন্তু এইটা চিন্তার বিষয় না। ফোন এর ওপার থেকে কান্নার শব্দ আসছে এটাই মূল চিন্তার কারন। কেও আমার জন্য কাদতে পারে এমন টা কখন ওই ভাবিনি। কাকের শহর ঢাকা। এই শহর এর অনেকেই হয়ত জানে না যে আমাদের বাংলাদেশে কাক ছাড়াও অনেক পাখি আছি।

সকাল বেলাই ঘুম ভাঙ্গল কোকিল এর ডাক শুনে। এখন সময়টা গ্রীষ্মকাল। কাঠ ফাটা রোদ এর এই সময় কোকিল এর ডাক শুনতে পাওয়াটা আশ্চর্যজনক। তা হলে পাখিরাও ভুলতে বসেছে কখন গ্রীষ্মকাল আর কখন বসন্ত। ।

আধো ঘুম চোখে বিছনা থেকে উঠলাম। ব্যাপারটা কি দেখতে হয়। অনেক হাতড়ে মোবাইল টা খোজার চেষ্টা করলাম। কোকিল টার একটা ছবি তোলা দরকার। আনাম এর ভালো ব্যাখ্যা করতে পারবে।

কিন্তু প্রয়োজন এর সময় কিছুই হাতের কাছে পাওয়া যায় না। হঠাৎ রাত এর কথা মনে পড়ল। এখন যে কি হইসে না রাত এ ঠিক মত ঘুমাতে পারি না। আনাম এর সাথে কথা বলতে হবে। আমি এখন আনাম এর বাসায় বসে আছি।

আনাম একটা বই এর দিকে তাকাইয়া আছে ওর ঠোটে কলম। কি জানি চিন্তা করছে। আমি ওকে না ঘাটায়ে আপন মনে বসে আছি। এর মধ্যেই একটা খেলা আবিষ্কার করে ফেলছি। এক বার হাত মুঠ করি একবার হাত খুলি।

আনাম হঠাৎ আমার দিকে তাকাল। দোস্ত, সরাসরি আমার চোখের দিকে তাকিয়ে আবার স্বপ্নটা দেখসিস। আমি কোন উত্তর দিলাম না। আজব এক স্বপ্ন ভর করছে আমার উপর। রাত এ ঘুমানোর পর একটা সময় পর হঠাৎ ঘুম ভেঙ্গে যায়।

এর মধ্যেই আমি আমাকে দেখি। আর ওকে এখন কেন যেন মাঝে মাঝেই দেখতে পাই। নীল শাড়ি আর নীল টিপ পরে আমার সামনে দাড়ায় আছে। আমি হাত বাড়ালে ও তাকে ধরতে পারি না। স্বপ্ন গুলো ও কেমন ত্যাঁদড় এখন আমার হাতে অফুরন্ত সময়।

জীবন কে উপভোগ করার সময়। কিন্তু রাত এ ঘুম না হলে কেমন লাগে। আমি আনাম এর সাথে আর কথা বাড়ালাম না। হু হ্যাঁ উত্তর দিয়ে বের হইয়ে এলাম। রিকশা নেব ভাবার পর কি মনে হল জানি না হাটা শুরু করলাম।

আমার অনেক অভ্যাস এর অনেক পরিবর্তন আসছে। আগে অনেক হাটাহাটি করতে পারতাম এখন পারি না। শরীর বিশেষ করে হার্ট দূর্বল হয়ে আসছে। বাইরে বের হইয়ে ২ টা জিনিস এর কথা মনে পরে গেল। প্রথমত এই গরম এ আনাম এর বাসা থেকে ছাতা নিয়ে বের হতে হত।

দ্বিতীয়ত আনাম কে কোকিলের কথা বলতে হত। কিন্তু এখন ফিরে যেতে ও ইচ্ছা করছে না। মানুষ এখন আমার আর ভালো লাগে না। নিজেকে সব কিছু থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে ইছা করে। বাসায় পৌঁছানোর পর আধ ঘণ্টা ধরে গোসল করলাম।

মাথা ঠাণ্ডা হওয়ার পর বিছনায় গা এলিয়ে দিলাম চোখ জুড়ে প্রশান্তির ঘুম নেমে এসেছে। বাবার চাকরির সুবাদে আজ পর্যন্ত অনেক জেলায় ঘুরসি। এইচএসসি পরীক্ষার পর বাবার বদলি আর ভর্তি পরীক্ষার জন্য ঢাকায় আগমন। এখন ও আমার মনে পরে প্রাকটিকাল পরীক্ষা দিয়ে বাসায় এসে দেখি বাসার সব জিনিস কার্গো তে তোলা শেষ। আমি খালি গায়েই কার্গো তে উঠলাম।

অনেক মজা করার পর রাত ১২ টার পর ঢাকায় আসলাম। তারিখটা আমার এখন ও মনে আছে ২৮ মে ২০১০। ঢাকায় দিন ভালোই কাটতেছিল। এর মধ্যে ওর সাথে আমার পরিচয়ই। পরিচয় থেকে ভালোবাসা।

আসলে কখন যে কি হল আমি নিজেও টের পেলাম না। তবে একটা জিনিষ মনে পরলে এখন ও হাসি পাই। রাত ১ টা কি ২ টা বাজে। ওরে আমি ফোন দিলাম। কিছুক্ষণ হাসি ঠাটা করলাম এবং এক সময় ভালবাসার কথা জানাইয়া ফোন কাইটা দিলাম।

এই দূর সাহসিক কাজ করার জন্য আমি ৪ টা সিগারেট টানসিলাম। তাও টেনশন কমে না। বন্ধু ছিলাম ভালোই ছিলাম কেন ভালবাসার কথা বলতে গেলাম। নিজের ইচ্ছা হছিল নিজেকে নিজেই একটা লাথি মারি। এমনটাই ছিল আমার ভালবাসার সূচনা।

আসলে আমার ভালবাসার কোন উপসংহার নাই। যখন ঘুম ভাঙল তখন প্রায় সন্ধ্যা। এক কাপ চা বানিয়ে ছাদে গিয়ে বসলাম। ওর ছাদ খুব ভালো লাগতো। আমার ও খুব ভাললাগে।

আকাশ দেখা যায় এখান থেকে। আমি স্বপ্নটা নিয়ে ভাবতে বসলাম। নীল এর রহস্য কি। আমার পছন্দের রং নীল না। আকাশের রং নীল।

আমার আকাশ দেখতে ভালো লাগে একারনেই নীল রং আমি পছন্দ করব তার কোন মানে হতে পারে না। স্বপ্নটা অদ্ভুত। আমি আমাকে দেখতে পাচ্ছি। কিন্তু সমস্ত কিছুর মধ্যে মজার ব্যাপারটা হল আমি কিছু ধরতে পারি না। আমি এক বার বিছনা থেকে উঠে ওকে ছুঁইয়ে দিতে চাই।

কিন্তু সেটাও পারিছি না। না স্বপ্ন নিয়ে চিন্তা কইরা কোন লাভ নেই। স্বপ্ন আমার দেখা উচিৎ না। আমার আশা করাও উচিৎ না। যাকে ভালবাসবো তাকে যেই দিন হারায়ছি সে দিন থেকে আমি স্বপ্ন দেখা আর আশা করা ছেড়ে দিছি।

ওর সাথে আমার দিন গুলো ভালোই কাটতেছিল । কিছুটা রাগ কিছুটা অভিমান সব মিলিয়ে বেশ চলছিল। কমপক্ষে এটা বলা যাই ও দূরে সরে থাকলেও ওকে হারানোর কোন ভয় ছিল না। সব গুড়ে বালি। এক দিন শুনলাম ওর বিয়ে ঠিক হইসে উমুক দিন আংটি আদান প্রদান হবে।

ওই দিন আমি কাঁদি নাই। চোখ দিয়ে এক ফোটা পানি ও বের হই নি। কিছুক্ষণ পর অনুভূতি পালটাতে শুরু করল নিজের ভেতর প্রচণ্ড রাগ ক্ষোভ জমা হল। এক বার ঠিক করলাম নিজেকে শেষ করে দেব। মিশাইয়া ফেলব।

কেও টের পাবে না। আমি ক্লাস এ শেষ ব্রেঞ্চ এর আগের ব্রেঞ্চ এর স্টুডেন্ট। আমার থাকা না থাকা ওর কাছে কোন ব্যাপার না। কিন্তু সাহস হল না। কেমন জানি বেচে থাকতে ইচ্ছা হল।

অন্তর ছাড়া আমার এই দ্বিতীয় জীবন মন্দ নয়। ঠিক করলাম পুরো বাংলাদেশ ঘুরে দেখব। এমন সময় ৫ সেপ্টেম্বার ও আবার এসএমএস দিল। আমি ঢাকায় কিনা জানতে চাইলো। ৬ সেপ্টেম্বার ওর সাথে কথা হল সারা রাত।

অনেক কথা। ও অনেক কাঁদছিল। এর পর সব ইতিহাস। চিন্তা ভাবনা করে সন্ধ্যায় ছাদ থেকে উঠলাম। নিজের রুম এ গেলাম।

অনেক বছর পর সামান্য একটা স্বপ্নের কারনে ওকে নিয়ে চিন্তা করতে শুরু করসি। ৬ সেপ্টেম্বার রাত এ যা কিছু হইসে তা নিয়ে চিন্তা করলাম। বাসার কাজের ছেলেটা কে দিয়ে ১ পাতা পিজোফেন নিয়া আসলাম। মাথা ব্যাথার খুব ভালো একটা ঔষধ। আমার মা ঔষধটা খেতেন।

উনি অনেক ভুগসেন মাথা ব্যাথা নিয়ে। শান্তির ঘুমের জন্য একটা ট্যাবলেট যথেষ্ট। আমি রাত এ ঘুমানোর আগে ১০ টা ট্যাবলেট হাতে নিলাম। আমি একটা পরিপূর্ণ একটা ঘুম ঘুমাতে চাই। ওকে আমি ভালবাসি।

ওকে ছাড়া আমার দ্বিতীয় জীবন এর কোন মানে খুজে পাই না। পাগলামি বলে অনেকেই এটা কে কিন্তু আমি ভাবি এটা কেমন করে সম্ভব। অন্তর ছাড়া বাঁচবো কেমনে। আজ সকাল এ ঘুম থেকে উঠলাম। হাত টা মুখের কাছে নিয়ে আসলাম।

ওর কাছ থেকে আঙুল গুলোর নাম শিখছিলাম। মনে মনে নাম গুলো একবার আউরালাম তর্জনী, মধ্যমা, আনামিকা, কনিষ্ঠা, বৃদ্ধাঙ্গুল। হঠাৎ কোকিল পাখিটার কথা মনে পড়ল। খুব আগ্রহ ছিল একবার হয়ত পাখিটা ডাকবে। আজ আর পাখিটা ভুল করে নি।

সে আজ আর ডাক দেয়নি। আমি বিছনা ছেড়ে উঠলাম। টেবিল এ ১০ টা ট্যাবলেট পরে আছে। সাহস হই নি খাওয়ার। ও যদি ফিরে আসে।

আমি স্বপ্নের সাথে বন্ধুত্ব করে নিছি। ওর অপেক্ষাই বসে আছি। এত বছর পর ও ওর আশা ছাড়িনি। ও যদি আমাকে ভালবাসে ও অবশ্যয় আসবে। আমি অপেক্ষাই থাকব।

সোর্স: http://www.somewhereinblog.net     দেখা হয়েছে ১৫ বার

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।