আমি আমার নিজেকেই খুঁজে বেড়াই, আমার মাঝে, তোমার মাঝে, আমাদের মাঝে :) আমি গ্রামের ছেলে, গ্রামেই বড় হয়েছি । গ্রামের স্কুলে আমার অনেক বন্ধু ছিল । সময়ের স্রোতে ভেসে এক এক করে সবাই কিভাবে যেন আস্তে আস্তে করে দূরে সরে গেল । কেউ অভাবের তাড়নায়, কেউ বা গ্রাম বদলের কারনে ঝরে পড়ল । আমার এখনও মনে পড়ে, আমার এক চাচা ছিল যার ক্লাশ রোল সবসময় ৪ হত, কোমতোও না বাড়তও না ।
কতদিন সেই চাচাকে দেখিনা । কিছুদিন আগে আম্মুর কাছে শুনলাম তিনি সৌদি আরব এ আছেন । স্কুলের অনেক ঘটনা আছে মনে পড়লে এখনো হাঁসি পায় – আমাদের স্কুলে প্রতি বৃহস্পতি বারে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হত । সপ্তাহের বাকি দিনগুলো শান্ত শিষ্ট থাকলেও এই একটা দিনে আমাদের বাঁদরামি যেন বেড়ে যেত । এক বৃহস্পতিবারে আমদেরই ক্লাসের এক ছাত্রিকে চোখ মারতে গিয়ে বন্ধুদের কাছে ধরা খেয়ে পরের এক সপ্তাহ টিজ খাইতে খাইতে পার করেছিলাম ।
আর এক বৃহস্পতিবারে আমাদের প্রধান শিক্ষক বৃক্ষরোপণে উৎসাহ প্রদান করে লম্বা একটা বক্তৃতা দিলেন এবং পরেরদিন গাছ লাগানোর কর্মসূচি ঘোষণা করলেন । তারপর আমাদের একে একে জিজ্ঞাসা করতে শুরু করলেন আমাদের বাড়ির আশেপাশে কন গাছ আছে কিনা যেটা তুলে এনে স্কুল মাঠে লাগানো যাবে । আমার পালা আসলে আমি বললাম “ স্যার, আমার বাড়ির পাশে একটা বরই গাছ আছে”, তিনি জিজ্ঞাসা করলেন “কতবড় ???” আমি তখন আমার ডানহাতের বৃদ্ধাঙ্গুলির মাথা তর্জনীর গোড়ায় নিয়ে আঙ্গুল তুলে দেখালাম আর বললাম “স্যার এতবড় । ” এরকিছুক্ষন পর আবিস্কার করলাম আমার পিঠে লম্বা লম্বা লাঠির দাগ, আমার চোখে পানি আর স্যার এর মুখে কথা “ আমার সাথে ফাইযলামি ??????????” আর কখনো ফাইযলামি করার দুঃসাহস করিনি । তারপর থেকে এমন সোজা হলাম যে সেই প্রধান শিক্ষকের প্রিয় ছাত্রে পরিনত হয়েছিলাম ।
স্যার আমাকে খুব ভালবাসতেন । আমার আব্বুর দোকানের সামনে বসে আমাকে প্রানভরে আশীর্বাদ করেছিলেন যেদিন তিনি চাকরি থেকে অবসর নিলেন । তখন বুঝিনি পরে যখন স্যারকে স্কুলে পেতামনা আর একটু বুঝতে শিখলাম তখন স্যার কে খুব মনে পড়ত । স্যার, যেখানে থাকবেন ভাল থাকেন আর আমার জন্য দোয়া করবেন সেদিনের মত । সপ্নের মত চোখে ভাসে সেই দিনগুলো ।
রবি ঠাকুরের একটা গান মনে পড়ে যায় “ দিনগুলি মোর সোনার খাঁচায়, রইলনা রইলনা সেই যে আমার নানা রঙের দিনগুলো......” ।
আর এক বৃহস্পতিবারে আমদের সবার কাছ থেকে জানতে চাওয়া হয়েছিল কে কি খেতে পছন্দ করি । আমার তখন আলুর প্রতি আলাদা আকর্ষণ ছিল ( কেন জানিনা) , আমি যথারীতি দাঁড়িয়ে বললাম “আলু” , সারা ক্লাসে হাঁসির রোল পড়ে গেল । তারপরের দিন ছুটি, শনিবারে ক্লাস শেষ হবার পর শুরু হল আসল ঘটনা । আমার এক চাচাত বোন পড়ত আমাদের সাথে, তার নেতৃত্তে সবাই আমাকে “আলুখেকো আলুখেকো আলুখেকো ” বলে খেপাতে লাগলো ।
প্রথম দিন কিছু না বলে চলে আসলাম । দ্বিতীয় দিনেও স্কুল ছুটি হবার পর একি ঘটনা । সেদিনও সাধারন ক্ষমা ঘোষণা করলাম । কিন্তু তৃতীয় দিনে নিজেকে আর নিয়ন্ত্রন করতে পারলামনা, দৌড়ে গিয়ে আমার সেই চাচাত বোনের হাত ধরে দিলাম একটা কামড় (রাগের মাথায়) , হাতের মাংস সহ চামড়া কেটে রক্তপাত করে বাসায় ফিরলাম । আর এর প্রতিদানে আব্বুর বেতের লাঠি রাতের বেলা আমার পিঠ আর পেছন দিকের সাথে মোলাকাত করল ।
পরবর্তী এক সপ্তাহ স্কুলে যাইনি । তারপর থেকে সেই চাচাত বোন আমার সাথে কথা বলতনা । তাঁর এই মান ভাঙতে ৫ বছর লেগে যায় । যখন ৮ম শ্রেণীতে উঠলাম তখন কি এক প্রয়োজনে কথা বলা শুরু করে আবার । এখন স্বামী সংসার নিয়ে অনেক সুখে আছে ।
পরবর্তী ঘটনা নিচের লিংক এ ------
আমার বাল্যকাল ২ ।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।