'""মহামান্য রাষ্ট্রপতি। স্বজন হারানোর ব্যথা কত দুঃসহ তা আপনি ও আপনার সন্তানরা প্রতিনিয়ত অনুভব করেন। আমাদের প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেত্রীও স্বজন হারানোর বেদনা বয়ে চলেছেন। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি, মাত্র চার মাস আগে আমার স্বামী আইনজীবী নুরুল ইসলামের খুনি বিপ্লব আদালতে আত্মসমর্পণ করে। মাত্র ৪ মাসের মাথায় এ রকম দুর্ধর্ষ একজন খুনি রাজনৈতিক বিবেচনায় রাষ্ট্রপতির অনুকম্পা পেতে পারে_ এটা ছিল আমার ভাবনার অতীত।
আমার স্বামীর হত্যাকারীর ফাঁসির দণ্ড মওকুফ ন্যায়ানুগ হয়নি বলেই আমার বিশ্বাস। বিপ্লবের দণ্ড মওকুফে আমি ও আমার পরিবার চরম হতাশা এবং নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আপনি আদেশটি পুনর্বিবেচনা করে যন্ত্রণাদগ্ধ হৃদয়ের কষ্ট লাঘব করবেন।
আপনজনের মৃত্যুর পর কবরের পাশে দাঁড়িয়ে স্মৃতিচারণ করে কিংবা ফুল দিয়ে ক্ষণিকের জন্য স্বজনরা সান্ত্বনা লাভ করে। কিন্তু দুর্ভাগ্য, আমি ও আমার সন্তানরা সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছি।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে_ 'আমার স্বামীকে অপহরণের পরদিন লক্ষ্মীপুরের ডিসি অফিসে গিয়ে আমার স্বামীকে মুক্তি দেওয়ার জন্য তৎকালীন ডিসি, এসপি ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও লক্ষ্মীপুর বারের সিনিয়র আইনজীবীদের সঙ্গে প্রকাশ্যে দরকষাকষি করেন বিপ্লব। ' এখন দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় নিয়োজিত ক্ষমতাধর মন্ত্রী মহোদয়রা বলছেন, বিপ্লবকে মিথ্যা মামলায় জড়ানো হয়েছে। বিপ্লব যখন বেরিয়ে মিডিয়ার সামনে দাঁড়িয়ে বীরদর্পে বলবে, আমাকে মিথ্যা মামলায় আটক রাখতে পারেনি। সেই দৃশ্য আমি ও আমার সন্তানদের অসহায়ের মতো দেখতে হবে। এর চাইতে যন্ত্রণা আর কী হতে পারে।
""
লক্ষ্মীপুরে নিহত নুরুল ইসলামের স্ত্রী রাশেদা ইসলাম রাষ্ট্রপতি বরাবর এমন মর্মস্পর্শী একটি চিঠি লিখেছেন। মোহাম্মদপুরের পোস্ট অফিস থেকে গত সোমবার রেজিস্ট্রি করে ওই চিঠিটি বঙ্গভবনের ঠিকানায় রাষ্ট্রপতি বরাবর পাঠানো হয়েছে। চিঠির সনদ নম্বর-৩৩২। ২০০০ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর লক্ষ্মীপুর শহরের বাসা থেকে অপহরণ করা হয় তৎকালীন লক্ষ্মীপুর জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও আইনজীবী নুরুল ইসলামকে। পরে হত্যায় জড়িত দুই আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জানান, তৎকালীন লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু তাহেরের ছেলে বিপ্লবের নেতৃত্বে নুরুল ইসলামকে অপহরণ করে লাশ টুকরো টুকরো করে মেঘনা নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়।
২০০৩ সালে এ মামলার রায়ে বিপ্লবসহ পাঁচ আসামির মৃত্যুদণ্ড ও নয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন আদালত। পরবর্তীতে রাজনৈতিক বিবেচনায় রাষ্ট্রপতি বিপ্লবদের ক্ষমা করে দেন। আহারে ক্ষমার কি মহৎ নিদর্শন। আমাদের ভালবাসা হয়ে গেল ঘাস,খেয়ে গেল গরু, দিয়ে গেল বাঁশ । আপনার একই ব্রাউজার এ ফেসবুক ওপেন থাকলে কমেন্ট করতে এই লিঙ্ক এ যেতে পারেন ।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।