পূর্নিমা চাঁদ যেন ঝলসানো রূটি বাঙ্গালির যেমন গৌরবজ্যল ইতিহাস রয়েছে, তেমনি রয়েছে স্বজাতির সাথে বিশ্বাস ঘাতকতার অপূর্ব নিদর্শন।
সাধে তো আর মানুষ বলেনা যে, নরকে যে স্থানে বাঙ্গালিরা থাকবে সেখানে দারোয়ানের দরকার হবেনা, এক বাঙ্গালি যদি বাহির হইয়া আসতে চায় তো বাকিরা পা টাইনা আবার নরকে নামই দিবে।
বেশ কিছু লেখা পড়লাম গত কয়েকদিনে "প্রাকৃতিক সপ্তাচার্য নিয়ে"। মোটামুটি আমাদের লেখকেরা ইহা বুঝাতে পারিয়াছেন যে, ব্যাপারটা পুরাই ভুয়া, আর টাকা কামানোর এক বিশাল ফন্দি।
এক্ষেত্রে আমি সাধুবাদ দিতে চাই সেই সমস্ত সাংবাদিক ভাইদের, যারা অক্লান্ত পরিশ্রমের দ্বারা এই সত্যকে উদঘাটন করিয়াছেন।
মনে পড়ে কয়েক বছর আগের কথা যখন এই প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছিল। নুতন ইমেইল আইডি খুলে ভোট দিয়েছিলাম। কি একটা চার্ম ছিল, পত্রিকার খবরে-মিডিয়ার আলোচনায় সবার ঐ একই কথা "ভোট দিয়া যদি সুন্দরবনকে ১ নম্বরে নিয়া আসতে পারি তবে বাংলাদেশের চেহারাটা পাল্টে যাবে। "
মাঝে কিছু দিন আগেও সুন্দরবন ৬ নাম্বারে চলে গিয়েছিল, তখন কি রকম টেনশন সবার। মনে হয়েছিল সোনার ডিম পাড়া হাসটা বোধ হয় এই বার মারা পড়ল।
সন্দেহাতীত ভাবেই এর অবদান আমাদের মিডিয়া ও সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের।
প্রথম দিকে যে ব্যপক প্রচারনা চালানো হয়েছে, যেমন ভোটিং এর আয়োজন, পত্র পত্রিকায় ব্যপক লেখালেখি, কত রকমের আশার আলো, আলোচনা-পর্যালোচনা। এসব করতে আমরা আমাদের প্রচুর সময় ও অর্থ নষ্ট করেছি। আর কিছু দিন পরেই তো ভোটিং এর টাইম শেষ। এই অবস্থায় এসে সাংবাদিক ভাইয়েরা আমাদের চোখ খুলে দিলেন, আমরাও অপপ্রচারে লেগে গেলাম।
মানুষ আজ ভোট দেবার ইচ্ছাকে হারিয়ে ফেলেছে। একটু হিসেব করে দেখি, এত দিনে যা কিছু হারিয়েছি তার চাইতে কি এই অল্প কয়েকদিনে আরও বেশী হারানোর ছিল? অবশ্যই না। কিন্তু যে সম্ভাবনা তৈরী হয়েছিল, ভোট না দেবার কারনে সেটা হারাতে পারি।
আজকে একটা পোষ্ট পড়ে View this link এক সাংবাদিক ভাইয়ের ওয়ালে পোষ্ট করে জানতে চাইলাম ব্যাপার টা কি? কিছুক্ষন পড়ে দেখি উনি পোষ্ট টি ডিলিট করেছেন এবং আরও কিছু পোষ্ট দিয়েছেন যেগুলো মানুষকে ভোটদানে বিরত রাখবে।
তখনই মনের মধ্যে একটা প্রশ্ন চলে এল, এরা এত দিন পড়ে কেন এই নিয়ে মাতামাতি করছে? নিত্য নুতন সংবাদ পেশ করাই তো তাদের কাজ, সত্যকে মিথ্যা আর মিথ্যাকে সত্য তো তারাই বানাতে পারে।
তাই বলে একটা প্রোগামের কোনো কিছু যাচাই বাছাই না করে এতদিন লাফালাফি করার পর, যখন ফল ভোগ করার সময় তখন ঘোর বিরোধীতা !!
আসলে এই স্টেজে আসার পর, সত্য যাই হোক, দেশের অকল্যান হয়, এমন কিছু নিয়ে মাতামাতি করাটা ঠিক হয়নি। কারন ১১/১১/২০১১ আর বেশী দুরে নয়। প্রোগামটি কারো কারো কাছে মুল্যহীন হলেও, এটা একদম ভেলুলেস নয়। বাংলাদেশের মত দেশের জন্য অনেক বড় পাওয়া। মেইলে ভোট দিতে তো আর পয়সা লাগেনা, সো সমস্যা কোথায় ছিল? কিছু কিছু ভাইয়েরা এমন ভাবে লেগেছেন যেন মনে হচ্ছে এই প্রোগামের নাম মুখে নিলেই মহা ভারত অশুদ্ধ হবে।
প্লীজ লোকের কথায় কান না দিয়ে, নিজের দায়ীত্বকে পালন করে যান, আপনার একটি মূল্যবান ভোটই পারে সুন্দরবনকে প্রাকৃতিক সপ্তাচার্য রুপে প্রতিষ্ঠা করতে। ।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।