আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

অসহায় আক্রোশ

অলৌকিক আনন্দের ভার বিধাতা যাহারে দেন,তাহার বক্ষে বেদনা অপার; এসব নিয়ে লিখতে চাই না। কিন্তু তবুও কিছু কথা একেবারে না বললেই চলে না। তাই বাধ্য হয়ে লিখছি...যে সমাজ জীবনের,সম্ভ্রমের নিরাপত্তা দিতে পারে না সেই সমাজের একজন হতভাগ্য প্রতিনিধি হিসাবে লিখছি...সমাজের অন্যায়গুলোর বিরুদ্ধে এ এক অসহায় আক্রোশ... কয়েকদিন ধরেই পরিমলের ব্যপারটা একটা গরম খবর...তার সাথে উঠে এসেছে ভিকারুননিসার প্রিন্সিপাল হোসনে আরার কথা যিনি কিনা আমাদের প্রধানমন্ত্রীর সহপাঠিনী... যদিও জানি আমার এই লেখা কখনোই প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিগোচর হবে না...তারপরও বলছি,আমাদের দেশে একটা প্রবাদ আছে “দুর্জন বিদ্বান হইলেও পরিত্যাজ্য”...হতে পারে হোসনে আরা আপনার বান্ধবী...হতে পারে তিনি বিদ্বান...কিন্তু যার কাছে একটা শিশু ধর্ষন “মিউচুয়াল সেক্স” হতে পারে তার একটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রিন্সিপাল হওয়া সাজে না...তা সে যতই বিদ্বান হোক না কেন...আর পরিমলের মত লোকের নিঃসন্দেহে প্রকাশ্যে সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়া প্রয়োজন... আজকে কি মনে করে যেন সংবাদ দেখছিলাম...হঠাৎ দেখলাম ছাত্রলীগের একটা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ভাষণ দিচ্ছেন। তিনি বললেন, “দেশের অশিক্ষিত লোকজনই জঙ্গীবাদ কিংবা সন্ত্রাস ছড়াচ্ছে...এইট পাশ করা লোকদের কাছ থেকে এর থেকে বেশী কিছু আশা করা যায় না”। আমার প্রশ্ন হলো একাডেমিক কোয়ালিফিকেশান কি কখনো শিক্ষার পরিমাপক।

যদি তাই হত তবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা ঢাবির মুহসীন হলের ছাত্রলীগের সদস্যরা যেই সহিংসতা করেছে তা কি কখনো সংগঠিত হত...একজন শিক্ষকের প্রতি শ্রদ্ধা চলে গেলে তাকে আর শিক্ষক হিসেবে থাকা মানায় না। কাজেই হোসনে আরাকে শিক্ষকতা থেকে অপসারন করা হউক। আজকের ভিকারুননিসার এই মেয়েটি হতে পারত আপনারই মেয়ে। যেহেতু আপনি প্রধানমন্ত্রী কাজেই আপনিও মেয়েটির অভিভাবক। কাজেই অনুরোধ রইল বিষয়গুলো বিবেচনা করার... তাহলে হয়ত বাচবে সানজিতাদের মত অসংখ্য বোনের প্রাণ(নিচের লিঙ্ক দ্রষ্টব্য)...আর না হয় এই সব হত্যার দায়ভার আমাদেরও বহন কতে হবে...হ্যা আমি একে হত্যাই বলছি আত্মহত্যা নয়... কী ঘটেছিল প্রধান শিক্ষকের কক্ষে? প্রচণ্ড গরমে রোদে পুড়ে ভিএনএসসি'র মেয়েগুলো যখন তাদের এক অসহায় বোনের ধর্ষক ও সহযোগীদের বিচারের দাবিতে মানব-বন্ধন করছে, ঠিক তখন বগুড়ায় শহীদ জিয়া হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে লড়াই করছে ছোট্ট আরেকটি শিশু।

সাত বছরের এই মেয়েশিশুটিকে গতকাল ধর্ষণ করেছে ৫৮ বছর বয়সী আব্দুল গফুর। বগুড়ায় পুলিশ গফুরকে গ্রেফতারের কোনো উদ্যোগ না নিলেও ঢাকায় শিক্ষার্থীদের মানব-বন্ধন পণ্ড করতে মোতায়েন করা হয়েছে শত-শত পুলিশ। সত্যি বড় বিচিত্র এ দেশ সেলুকাস... দুর্ঘটনা ঘটানোয় পটু কানকো-ফিলিপসের সাথে দেশের জনগনের স্বার্থবিরোধী চুক্তি নিয়ে প্রতিবাদ করায় আনু মুহাম্মদরা হয়ে যায় রাজাকার-যুদ্ধাপরাধী। এ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী খুব সুন্দর একটা প্রশ্ন করেন... “কে আমার চেয়ে বেশি দেশ প্রেমিক??”। নিঃসন্দেহে প্রধানমন্ত্রী দেশপ্রেমিক...তবে প্রশ্নটা করার আগে উনার ভেবে দেখা উচিত ছিল ৭১ এ ৩০ লক্ষ লোক দেশকে ভালোবেসে প্রান দিয়েছিল...আজও দেশের জন্য প্রান দেবার মত মানুষের সংখ্যাটা ত্রিশ লাখের বেশিই হবে... লিঙ্কঃদূর্ঘটনার মহারাজা কনোকোফিলিপসের আরো গুনকীর্তন(চীনের ঘটনার লেটেস্ট আপডেট!) সেই মানুষগুলো যখন এই চুক্তির প্রতিবাদে রাজপথে বের হয় পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে...ঢাবির ছাত্রদের বেধড়ক লাঠিপেটা করে... আমার ছোটবোনগুলো আজ রাস্তায় নেমেছিল।

প্রতিবাদে মুখর হয়ে...তাদের প্রতি আমার কথা হচ্ছে... “ জাগো নারী জাগো বহ্নিশিখা। জাগো স্বাহা সীমন্তে রক্ত-টীকা। দিকে দিকে মেলি তব লেলিহান রসনা, নেচে চলে উন্মাদিনী দিগবসনা, জাগো হতভাগিনী ধর্ষিতা নাগিনী ...বিশ্ব-দাহন তেজে জাগো দাহিকা। ” কবি নজরুলের এই কবিতাটাকে অনুপ্রেরনা হিসেবে নিয়ে তোমরা এগিয়ে যাও...সমাজ থেকে নির্মূল করে দাও পরিমল-হোসনে আরার মতন বিষাক্ত ক্যাকটাসগুলোকে...মন থেকে তোমাদের সফলতার জন্য দোয়া করি... আমার এই ছোট বোনটির মত আর যেন কাউকে এ রকম ভাবে কষ্ট পেতে না হয়...বোন তোমরাই আগামী দিনের ভবিষ্যত...তোমরাই পার আগামী দিনগুলোকে আরো সুন্দর করে তুলতে...এই ঘটনাটাকে তোমাদের শিক্ষাজীবনের অনুপ্রেরনা হিসাবে নিয়ে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে তোল... "আমাকে একটি শিক্ষিত মা দাও...আমি তোমাদের একটি শিক্ষিত জাতি উপহার দেব..." তোমরাই হতে পার সেই শিক্ষিত মা...তোমরাই দিতে পার একটি শিক্ষিত জাতি...যে জাতিতে থাকবে না কোন হানাহানি...থাকবেনা কোন অন্যায়,দুঃখ জরা... “মেঘ দেখে কেউ করিসনে ভয়,আড়ালে তার সূর্য হাসে”…অন্ধকার কেটে গিয়ে একদিন আলো আসবে…সেই সোনালী সুদিনের প্রত্যাশায় রইলাম… “অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে তব ঘৃণা তারে যেন তৃণসম দহে” মহানবী(সাঃ) বলেছেন, “তোমরা যদি কোন অন্যায় দেখ শক্তি থাকলে তা প্রতিহত করবে,যদি না পার তবে তাদের বোঝাবার চেস্টা করবে...যদি তাও না পার তবে অন্তর থেকে কাজটিকে ঘৃণা করবে। ” আগামীকাল(১২ তারিখ-মঙ্গলবার) ঢাবির কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে পরিমলের বিচার এবং শিক্ষাঙ্গনে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরনের দাবীতে ঢাবি,ঢামেক,ঢাকা কলেজ,নটরডেম কলেজ,ঢাকা কমার্স কলেজ ও মাইলস্টোন কলেজসহ অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীরা সমবেত হচ্ছেন।

এই কর্মসূচীতে সবাইকে অংশগ্রহনের আহ্বান রইল... পরিশেষঃ ফেসবুকে কে বা কারা যেন “আমি পরিমল” নামের একটি ফেইক আইডি খুলেছে...যেখানে দেয়া আছে “ফেবারিট বুকঃ কামসূত্র...” “পিপল হু ইন্সপায়ার মিঃ হু মু এরশাদ” এমন একটা সিরিয়াস ব্যাপার নিয়েও আমাদের দেশে এ ধরনের ফান করা হয়... সবার শেষে দুর্ঘটনার শিকার ছোট বোনটির প্রতি কিছু কথা...তোমার সাহসের প্রতি জানাই শ্রদ্ধা...আজ যদি সানজিতার মত কিছু করতে তাহলে হয়ত সানজিতার মত নিঃশব্দেই হারিয়ে যেতে...যেহেতু প্রতিবাদটুকু করেছ মাথা উচু করে লড়াই চালিয়ে যাও...জেনে রেখো এই লড়াইয়ে তুমি একা নও...আমরা লাখো ভাই তোমার পাশে আছি...তোমার বাবার রোগমুক্তি কামনা করি...তোমার বাবাকে বলো তুমি এই কাজটা করায় হয়ত আরো হাজারো বোন এ ধরনের ঘটনা থেকে বেচে যাবে...দোয়া করি তুমি সাফল্যের শীর্ষে আরোহন কর...তোমার সামনে তোমার পুরোটা জীবন পড়ে আছে...তোমার কাজ হচ্ছে পড়ালেখা করা...সেটা ঠিকমত চালিয়ে যাও... ।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.