আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

জীবন নদীর বাঁকে বাঁকে-২



রাত বারোটা। মিরপুর সাড়ে এগারো যাব। সিটি কলেজের সামনে বাসের জন্য অপেক্ষা করছি । এত রাত বাস আর আসে না। সিএনজি ও পাওয়া যাচ্ছে না ।

পাশে এক বোরকা ওয়ালা মহিলা আর তার সাথে একজন তরুন ছেলে যানবাহনের জন্য অপেক্ষা করছে। ছেলেটির লম্বা চুল, হাতে ব্রেসলেট আর উদ্ভট পোশাক। যাইহোক অনেকক্ষণ পরে মিরপুর রুটের ঢাকেশ্বরী ৩৬ নম্বর বাসটা আসল। বাস ভর্তি যাত্রী। দু'টা সিট খালী ।

আমি জানালার পাশে বসলাম। আর পাশের সিটে ওই মহিলা বসলেন। আমি আমার মত বসে আছি। বাস চলছে। ভদ্র মহিলা মোবাইল টিপছেন।

কল মনে হয় যাচ্ছে না। হঠাৎ তিনি আমাকে বললেন ,"ভাই আপনার মোবাইলটা একটু দিবেন?" -কেন? -আমি বাসায় একটু কথা বলব। আমার মোবাইলে কল যাচ্ছে না। আমার সিটিসেল ১২০০ টাকার মোবাইল , দিলাম কথা বলার জন্য। কিন্তু তিনি ব্যর্থ হলেন।

ধন্যবাদ দিয়ে মোবাইলটা আমাকে ফিরিয়ে দিলেন। আমাদের বাস চলছে। আমি বাইরের দিকে তাকিয়ে আছি। উনি আবার বললেন ভাই আপনি সাড়ে ১১ কোথায় যাবেন? -কেন? -বাসের ভাড়া দেয়ার সময় জেনেছিলাম আপনি সাড়ে এগারোতে যাবেন। তাই বললাম।

-ও ডি ব্লকে যাব। -আমরা এক সঙ্গে যাব। -কেন রাত বেশি তো হয়নি সাড়ে বারোটা বাজে। অনেক লোক পাবেন রাস্তায়, তাদের সাথে যাবেন। -আপনি আমাকে মহিলা ছিনতাইকারী ভাবেন? -তা ভাবব কেন? আপনিতো তা হতেও পারেন ।

ইউ আর নট নোন টু মি ! -আরে বাবা ইংলিশও বলতে পারেন ! ওকে, ইউ ক্যান এহিড অফ মি দেন আই ইউল ফলো ইউ টু মাই আংকল হোম এট ডি ব্লক। --আপনি ও তো কম ইংলিশ পারেন না, হা হা হা । --লিটল বিট, আচ্ছা আমরা কথা বলেই যাচ্ছি । আমি মিনতি (ছদ্মনাম)। বুয়েটে পড়ি।

আর্কিটেক্চার। আপনি? -- আমি একটা সফটওয়ার ফার্মে আছি। --গুড। আপনি মনে হয় মেয়েদের ভয় পান না? --তা না ! আপনি আমার ফ্রেন্ড শুভকে চেনেন? আপনার সবজেক্টেই পড়ে। --চিনি না।

যা হোক অনেক ভাবেই সিউর হলাম উনি বুয়েটেই পড়েন। আব নরমাল হয়ে কথা বলছেন। সনদেহ বাড়ছে। আমরা বাস হতে অনিক প্লাজার সামনে নামলাম। আমি হাটা শুরু করেছি।

উনি বললেন এক সাথে যাই। আমরা এক সাথে হাটছি কথা বলছি । পরিচিত হওয়ার পর তাকে আর খারাপ মনে হলনা। কথার মধ্যে একটা অসংলগ্নতা আছে। সামনে একটা মোড়।

আমার বাসার সামনে । বিপদ কেটে গেছে। আমি এবার আসি বলাতে তিনি আমাকে চায়ের অফার দিলেন। বললেন পাশে একটা টা সপ আছে বেশ নাইচ। র টি।

চলেন খাই ক্লান্তি কেটে যাবে। চিন্তা না করে রাজি হয়ে যাই। চায়ের দোকান না। ফাস্টফুটের দোকান , কেউ নাই। আমাদের দেখে দোকানি এলেন।

আমরা সামনা সামনি বসলাম। চা আসল। ভদ্র মহিলা নেকাব খুললেন চা খাবার জন্য। আমি তার দিকে তাকানো মাত্র আক্কেলগুডুম। হতবাক।

আমি কার সাথে এতক্ষণ কথা বলছি ! নিজের জন্য খুব খারাপ লাগল। বললাম () আপু !!!!!!!! আপনি এতক্ষণ আসল পরিচয় দিলেন না কেন? আপনার নাটক আমার খুব প্রিয়। বিশেষ করে মঞ্চনাটকের ওই চিরত্রটি। --আপনি ভুল করছেন ্ আমার চেহারা তার মত দেখতে সবাই বলেন। বাট আমি তা না।

এজন্য আমাকে বিব্রত হতে হয়। --একই যায়গায় দুজন এমন মেয়ে পড়ে আর শুনলাম না তা হয় না। তাছাড়া আপনে র সাথে আমি আগে ও অল্প সময়ের জন্য কথা বলেছি আপনার মনে থাকার কথা না। --না না আমি সে না। আমি মিনতি।

যা হোক তাকে আমি ঠিকউ চিনেছি, তিনি আসলে তিনিই বাট অসংলগ্ন কথার মাঝে বেশকিছু অপ্রিয় সত্য বলেছে যা আমাকে আজো ভাবায়। উনাকে বাসায় পোছে দিলাম আর আমি বাসায় আসলাম। উনার ফোন নাম্বার চাইলাম, দিলেন না। উল্টো আমার নাম্বার নিলেন। আর বললেন "আমিই ফোন দিব।

" আজও উনি ফোন দেন নি। আমি অপেক্ষায় ছিলাম। আছি। পরে বন্ধুদের মাধ্যমে জেনেছি উনার মামার বাসা সেখানে। স্বপ্নের স্টারের বিয়ে হয়েছে।

পড়াশুনা শেষ। অভিনয় এখনও করছেন। তার নাটক দেখলেই ঘটনাটা মনে পড়ে। সত্য নাকি মিথ্যা। তিনি নাকি অণ্য কেই ? নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারি না।

আর তার নিজের সম্পর্কে অমন খারাপকিছু ভাবতেও মনচায় না। আজও আমি ব্যাপারটা পরিস্কার না যে আমি কার সাথে কথা বলেছি। কে ছিলেন তিনি? আপনারা বলতে পারবেন???

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.