I don’t think anything এর উত্তর খুব সহজ, একটু চিন্তা করলেই পাওয়া যায়।
১।
প্রথমত বিএনপিরঃ নির্বাচন কমিশনের হিসাবে জামাতের যে ৪২ লাখ ভোট তার পুরোটাই বিএনপি পাবে কোনরকম আসন ভাগাভাগি ছাড়াই ।
২।
দ্বিতীয়ত বিএনপিরঃ আওয়ামীলীগের পক্ষ থেকে যে প্রচার চালানো হচ্ছে বিএনপি যুদ্ধ অপরাধীদের সঙ্গী তা ঘুচে যাবে
৩।
তৃতীয়ত বিএনপিরঃ,
মারা মারির আর হত্যার রাজনীতিতে আওয়ামীলীগ কে মোকাবেলা করার ক্ষমতা জামায়েতেরই আছে।
যুদ্ধ অপরাধের চেয়ে বিএনপির কাছে বড় ইস্যু তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে আগামি নির্বাচন। মূলত যুদ্ধ অপরাধের ইস্যু বিএনপির কাছে কোন ইস্যুই না, সাইদি , নিজামিদের ফাঁসি নিয়ে তারা মোটেও চিন্তিত না । কিন্তু এটা জামাতের কাছে এখন সব। তাহলে বিএনপি কেন জামাত কে সমর্থন দিচ্ছে?
প্রতিপক্ষের লোকদের রাস্তায় পিটিয়ে মারার ক্ষমতা, দক্ষতা শুধুমাত্র ২টি দলের; জামাত এবং আওয়ামীলীগ।
জামাত কি ভয়ংকর তার প্রমান তারা গত কিছুদিন দিয়ে দিল। আর আওয়ামীলীগ ২৮ অক্টোবর থেকে শুরু করে নাটরে উপজিলা চেয়ারম্যান বিএনপির সানুউল্লাহ নুর বাবু কিংবা বিশ্বজিত হত্যায় ভালো ভাবেই প্রমান রেখেছে। তার সাথে বোনাস আছে পুলিশের গুলি করে মারার লাইসেন্স।
আওয়ামীলীগ কোনভাবেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবী মানবেনা। এমনকি মাঠের রাজনীতিতে বিএনপি কে যে কোন ভাবেই ছাড় দেয়া হবেনা , খালেদা জিয়াকেও প্রয়োজনে জেলে নেয়া হবে তার প্রমান ২ দিন পর পর মির্জা ফখরুল কে জেলে নেয়া।
আর মাঠের রাজনীতিতে বিএনপি সবসময়ই দুর্বল।
যার শেষ উদাহারন গত পরশু বিএনপির মিছিল। এত গুলো লোক থাকার পরও তারা সামান্য টিয়ারশেল সইতে পারেনি, গুলি অনেক দূরের কথা। গত ৪ বছর এ বিএনপির হরতালের কথা নাইবা বললাম।
তাহলে ছাত্রলীগ – যুবলীগ – পুলিশলীগ – সেই সাথে আওয়ামীলীগ কে মোকাবেলা করে বিএনপি কিভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবী আদায় করবে?
উপায় একটাই জামাত- শিবির।
গত কয়েকদিন যখন জামাত – শিবির তাণ্ডব চালাল কোথায় ছিলেন লীগের নেতা কর্মীরা? সরকারের সময় যত শেষ হয়ে আসবে এই অবস্থা আরও প্রকট আকারে দেখা দিবে। জামাত এখন চূড়ান্ত মার মুখি। আর বিএনপি এই সুযোগেই সরকারকে মোকাবেলা করিয়ে নিবে জামাত কে দিয়ে।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবী একটা জনপ্রিয় দাবী। শেষ পর্যন্ত ভোটের রাজনীতির এই জনপ্রিয় ইস্যুতে মানুষ বিএনপি কে সমর্থন দিবে, কিন্তু তা সত্ত্বেও আওয়ামীলীগ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবী মেনে নিবে এমনটা কোন ভাবেই আশা করা যায়না।
আর নির্বাচনে হেরে গেলে আত্মীয়তার জোরে বিএনপির কাছ থেকে আওয়ামীলীগ পিঠ বাঁচাতে পারলেও জামাত লীগ কে ছাড় দিবেনা, তাই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মত আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নিয়ে আওয়ামীলীগ হারতে চাইবেনা, আর তখনই রক্ত গড়াবে।
তখনই জামাত কে দরকার হবে বিএনপির। রাজাকার দের ফাঁসি দিলেই লীগ ক্ষমতায় আসবেনা, এটা তারাও ভালো করেই জানে, বরং ইস্যুটা জিইয়ে রেখে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবী চাপা দিতে পারলেই আওয়ামীলীগের লাভ।
খালেদা জিয়া তার অভিজ্ঞতা থেকেই এমন খেলা খেলছেন, অন্যদিকে শেখ হাসিনা ইতিমধ্যেই এই খেলায় তার অভিজ্ঞতার প্রমান রেখে এগিয়েও আছেন। দেখা যাক কার জয় হয়।
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।