আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

কেমন করে জয়ী হবো,এ যে অসম তরী, তবুও হায় দিতে হবে যে পাড়ি...



পড়াশুনা শেষে আমি শত ইচ্ছা থাকা সত্যেও , কত-শত পরিকল্পনা নিয়েও ব্যবসা শুরু করতে পারলাম না। বাবা-মা চাকরীর মাঝে নিরাপত্তা খুজে পায়। কিছুতেই ব্যবসা করতে দিবে না। আর এত টাকা পাবো কোথায়। বাড়ি থেকে ৫০ হাজার টাকা ও দিতে পারবে না।

অগত্য কি আর করা ...শুরু হলো আমার চাকরি নামের সোনার হরিণ খোজা। সে কি আর আমার মত অভাগার কাছে ধরা দেয়। আমার যে কোন এক্সপিরিয়েন্স নাই। পত্রিকার প্রতিটি শব্দের মাঝেও চাকরি খুজি আমি। শুরু হল ইন্টারভিউর পালা।

কোথাও শুধু সিভিটা দেখেই বলে দেয়...আপনি আসুন। পরে যোগাযোগ করবো। বুঝিনি কারণ টা কি? হায় আমি যে ছিলাম ১৮৯ তম আবেদনকারী। আর পোষ্ট ছিল যে ৩ টা। খেয়াল করিনি আগে।

ঘুরে ফিরে ৩ মাসের মাঝেই পেয়ে গেলাম সোনার হরিণের দেখা। ততদিনে আমার ৬ টি ইন্টারভিউ দেয়া হয়ে গিয়েছিল। আর সিভি পাঠিয়েছিলাম কম করে হলেও ১৫/২০ অফিসে। শুরু হল আমার নিরাপদ জীবিকার জন্য চাকরী। সকাল ৯-বিকেল ৬ টা।

এখনো চলছে। শুরু করেছিলাম মাত্র ৫০০০ টাকা দিয়ে। চাকরিটা তখন আমার কাছে প্রথমে মনে হত বিশাল বড় শিকল পায়ে মুক্ত এক পাখি। চলছিলো ভালোই। বাবা-মা খুশি।

বোনেরা খুশি। সবাই উৎসাহ দিতে লাগল। প্রথমেই নাকি কিছুদিন কষ্ঠ। তারপর সব ঠিক হয়ে যাবে। যাই হোক চলছিল............... _______________________________________ অনেকদিন পরে ভার্সিটির এক বন্ধুর সাথে দেখা।

ওর অফিসে যেতে বলল। গুলশানে ওর অফিস। ভাবলাম বড় চাকরী পেয়েছে। খুশি হলাম। কিন্তু এ কেমন হল........এক সাথে পড়া-শুনা করলাম, একই বই পড়লাম, একই টেবিলে ঘুরে-ফিরে বসেছি কত।

কিন্তু হায়..........আমি যখন ৫০০০ টাকা দিয়ে চাকরী নামক জীবন শুরু করলাম। আর ও তখন গুলশানে অফিস নিয়ে অন্যকে চাকরী অফার দিচ্ছে। ওর বাবা ওকে ১৫ কোটি টাকা দিয়েছে ব্যবসা করার জন্য। যে কিনা সময়ে-অসময়ে আসতো আমার কাছে পড়া বুঝে নেয়ার জন্য, এ্যাসাইনমেন্ট করে দেয়ার জন্য। আজ সে আমাকে অফার করল তার অফিসে চাকরি নেয়ার জন্য।

বলল ----তুই তো ব্যপারটা ভাল বুজবি,তুই সব দেখাশুনা করবি, তুই ঐখানে যা পাশ আমি তার চেয়ে বেশি দিবো। তুই না করিস না। আমি শুধু বললাম দেখি। আমি তোকে জানাব। বাসায় আসতে আসতে শুধু ভাবছি।

এ কেমন হল.....বাবাকে ব্যবসার কথা বললে বলে-আমি আর ২ বছর পরে রিটায়ারমেন্টে যাবো,তখন লাখ চারেক টাকা পাবো। তখন ঐ টাকা দিয়ে তুই ব্যবসা করিস। মনে মনে বলি- থাক বাবা, তোমার রিটায়ারমেন্টের টাকা দিয়ে আমি কোনদিন ব্যবসা করবো না। ওটা তোমার সারাজীবন কষ্টের রেজাল্ট। যাতে তুমি কিছুটা সুখ করতে পার।

........................... মনটা তাই আজ কিছুটা খারাপ, জানি না কেন। কোন কারণ ছাড়াই ...আমার মাঝে মাঝে এমন হয়। আমি ঠিক করেছি আমার বন্ধুর ঐখানে জবটা করবো না। দোয়া করি আমার বন্ধুটি দেশের অনেক বড় শিল্পপতি হোক। তাও বলতে পারবো ও আমার বন্ধু।


অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.