:)
কাল রাতে চাঁদ অত বড় ছিলোনা, আকাশে ছিল চলিষ্ণু মেঘ। অনেক দ্রুত গতিতে সরে সরে যাচ্ছিল ... ... ... আর পরিষ্কার করে দিচ্ছিল বিশাল আকাশটা, উজ্জ্বলতর তারা গুলোর বাইরেও কোটি কোটি তারা ঝিকমিকিয়ে উঠছিল, খানিকক্ষন এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকলে খুব সহজেই খালি চোখেই পৌছে যাওয়া যাচ্ছিল হাজার হাজার তারার রাজ্যে, সে এক অনুভূতি! জীবনটা তারাময় হয়ে যায় ... ... ... ভীষন ভালো লাগে!
কবে যেন প্রথম হাতে এসেছিল তারা-পরিচিতি আর আকাশপট, মনে নেই। সম্ভবত বিশ্বসাহিত্যকেন্দ্রের সদস্য যখন ছিলাম, তারপর আবার এস্ট্রোনমিক্যাল এসোসিয়েশ-এ যাবার পর। তারার জগৎ, সে এক বিশাল ব্যাপার, কী যে তার বৈচিত্র! কত বছরের সাধনা তারা চেনার, কতজনের জীবন কেটে গেছে তারার পিছনে ছুটে ছুটে! সত্যি ই !! জোতির্বিজ্ঞানের ইতিহাসতো তাই বলে!
একেকটা উজ্জল তারা স্বাক্ষী হয়ে আছে হাজার হাজার বছর ধরে বহু মানুষের অদম্য আকর্ষনের, তার প্রতি! অস্বাভাবিক না, তারায় তারায় কাটিয়ে দেয়া যায় ঘন্টার পর ঘন্টা, অমন দূরগামী মন থাকা চাই অবশ্য! তারার রহস্য মানুষকে অনেকদূর নিয়ে এসেছে, সভ্যতার সব গুলো স্তরে, সবগুলো এলাকায় প্রধানতম জ্ঞানের শাখা প্রাচীনকাল থেকে কিন্তু জোতির্বিজ্ঞানই!
ভয়ে ভয়ে পথ খুঁজি
চাঁদ তাই যায় বুঝি।
তারাগুলি নিয়ে বাতি
জেগেছিল সারা রাতি,
নেমে এল পথ ভুলে
বেলফুলে জুঁইফুলে।
(রবীন্দ্রনাথ)
...
এস্ট্রোনমিক্যাল এসোসিয়েশন-এ তারা দেখার উৎসব হতো, আগারগাঁওয়ে একবার কোন একটা তারা দেখার জন্য যেন ঘন্টার পর ঘন্টা রাতের বেলা অপেক্ষা করে ছিলাম আমরা! টেলিস্কোপে সুদূরের গ্রহ –নক্ষত্র দেখার ব্যাপারটাই আলাদা, নিজেকে কেমন যে টলেমী মনে হতে থাকে ... কখনো গ্যালিলিও গ্যালিলি! বড় শখ হয়েছিল একটা টেলিস্কোপের, ওরিওনের কিংবা টেসকো টেলিস্কোপ! কেউ যদি থাকতো শখ পূরণের (দীঈঈঈর্ঘশ্বাস ... ... ...
বৈচিত্রময় সব তারার নাম! কোথায় প্রাচীন ভারতবর্ষ ছিল, আর কোথায় গ্রীস, আরব, নীল নদের দেশ মিশর ... ... সেই সময় ছিলনা কোন যোগাযোগ! তারপরো অদ্ভূত মিল ছিল জোতির্বিজ্ঞানে, তারার নামকরণে কিংবা শ্রেনীকরণে। সেই তারামন্ডলীর হিসেবে রাশিচক্র নির্ধারণে। প্রাচীন জোতির্বিজ্ঞানের ইতিহাস তাই এতো টাশকি খাওয়ার মত! তার অনেক মিথ! আকাশের তারা নিয়ে কল্পচিত্র শত শত। তারাকে কেন্দ্র করে মানুষ তৈরী করেছিল প্রেমের গল্প, বিজয়ের গল্প, দেবতাদের গল্প, হিংসা-বিদ্বেষ আর যুদ্ধের গল্প, অমর করে রেখেছে তারা গুলোর আলোকময় অবস্থান। কয়েকটি তারার বিচ্ছিন্ন অবস্থানকে এক করে কল্পনা করেছে ছবি! দূরের তারাকে আপন করে নেবার এই প্রবণতা অতুলনীয় না?
হু, তারারো নাম আছে! আছে শ্রেনী ... ... আছে সময়ও! স্বাভাবিক নিয়মেই পৃথিবীর ঘূর্ণনের সাথে সাথে আমরাও নতুন নতুন তারা দেখি! আবার বছর ঘুরে পুরণো তারা ফিরে আসে।
জানুয়ারী মাসের আকাশ খুজে পেতে অপেক্ষা করতে হয় নতুন বছরের। খুব রহস্যময় লাগতো যখন প্রাচীন মিথ আর জোতির্বিজ্ঞানের ইতিহাস পড়ে আকাশ কুসুম কল্পনা করতে পারতাম, তারা পরিচিতি পরে জেনেছিলাম সব নাম আর আকাশমন্ডলের সামগ্রিক পরিচিতি! বাংলা নাম গুলো অ-সা-ধা-র-ণ! যেমনঃ জানুয়ারী মাসে পূব আকাশে দেখা যায় সবচেয়ে উজ্জ্বল তারাটা , Sirius তার নাম, বাংলায় লুব্ধক । আমাদের থেকে সাড়ে আট আলোকবর্ষ দূরে , ক্যানিস মেজর তারামন্ডলীতে এর অবস্থান। এটা একটা শাদা বামন জাতীয় তারা। অবশ্যই এটি প্রথম শ্রেনীর তারা!
সেই অনুযায়ী আমি হলাম একটি প্রথম শ্রেনীর তারা! :-)
ফেব্রুয়ারী মাসের আকাশে দক্ষিনে দেখা যায় যে বড় তারাটি, সবচেয়ে উজ্জ্বল, এর নাম Canopus , সারা আকাশে তারার রাজ্যে উজ্জলতায় এর অবস্থান দ্বিতীয়।
লুব্ধকের পড়েই। যার বাংলা নাম অগস্ত্য আর আরবীতে সোহায়ল বা সোহায়লা। বিন্ধ পর্বতের মাথা নত করিয়ে অগস্ত্যমুনি সেই যে দক্ষিনে গিয়েছিলেন, সেদিক থেকে আর ফিরে আসেননি। দক্ষিন আকাশে থেকেই তিনি বিন্ধ্য পর্বতের দিকে লক্ষ্য রেখেছেন। এই হলো ভারতবর্ষীয় কাহিনী! আমি আছি অর্নবযান মন্ডলে।
ক্যানোপাসের চার পাশের ছোট বড় অনেক গুলো তারাকে একসাথে করে প্রাচীনলোকেরা কল্পনা করেছে বিরাট এক পালতোলা জাহাজ, যার নাম দিয়েছে Argonavis (অর্নবযান), আরবীতে সাফিনা। ভেড়ার (আরেক তারা মন্ডলী )সোনার চামড়ার খোঁজে জ্যাসনেরা এই জাহাজে করেই দক্ষিনে গিয়েছিল, ঠিক এমনটাই গ্রীক উপাখ্যান।
লেখাটা বড় হয়ে যাচ্ছে, নইলে কত তারার গল্প হতে পারতো! শাদা বামন আর লাল দৈত্য দের কাহিণী! কম মজার নয়...
মেঘমুক্ত রাতের বিশাল আকাশ দেখে আল্লাহর অসীমতায় নিজেকে এক্কেবারে বিলীন করে দিতে ইচ্ছে করবে, তাইতো- আমরা তাঁর সৃষ্টির কোন কোন নিয়ামতকে অস্বীকার করবো?
২৪/৯
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।