স্বপ্নগুলো সত্যির প্রত্যয়ে পথচলা ............
জ্যোস্নার সেই রাত্ররির
রুপালি আলোয় তাকিয়ে ছিলাম
আনমনে একা বসে
তুমি এসেছিলে তখন
ধূসর আলোর কল্পো শহরে
বসে ছিলে তুমি আমার পাশে
তাকিয়ে ছিলে আমার দিকে একপলকে
তোমার হাতটি যখন ধরতে গেলাম
ভাবতে পারিনি চলে যাবে
ধূসর কল্পো শহর থেকে
তোমাকে ছুঁতে গেলে
আজ আমি একা বসে
জ্যোস্না রাতের
রুপালি আলোয়
তোমাকে হারানোর
বিশাল শূণ্যতাকে ঘিরে....
এই কবিতাটি আমি উৎর্সগ করলাম একজন ভালোবাসার মানুষ কে। আমার সেই ভালোবাসার মানুষ টির নাম মনে নেই। তবে সেই ভাইয়ার ভালোবাসার কথা গুলো শুনে আমরা সবাই কান্না করেছিলাম। ভাইয়া একটা মেয়ে কে পছন্দ করতো তার বিয়ে হয়ে যায়। পরবর্তীতে ভাইয়া বিয়ে করে।
ভাইয়া যে মেয়ে টা কে বিয়ে করে তাকে খুব ভালোবাস তো। ভাইয়ার স্যাটেল ম্যারেজ হয়। ভাইয়া অনেক ধনী এবং প্রভাবশালী ছিলো কিন্তু যাকে বিয়ে করে তার বাবা আর মেয়ের বড় ভাইয়ের বউ ছিল লোভী। আপুটা তার বাবার বাড়ি বেড়াতে গিয়েছিলো। ভাইয়া আবার আপুকে ছাড়া রাতে ডিনার করত না।
আপু ফোন করে ভাইয়া কে বলে আজ রাত বাবার বাসায় থাকবে। ভাইয়া আর না করতে পারে নি আপুকে থাকতে বলল। রাতে ভাইয়ার চোখে কোন ঘুম নেই। ভাইয়ার মাঝে অস্থিরতা কাজ করছে আপুর জন্য,বিয়ের পর সে দিন প্রথম আপুকে ছাড়া ঘুমাচ্ছে। সকালে একটা কল আসে আপুর ছোট ভাই ফোন করে।
ফোন করে বলে আপুর অবস্থা ভালো না আপনি তাড়াতাড়ি আসেন। ভাইয়া তাড়াতাড়ি গাড়ি নিয়ে চলে যায়। দেখে আপুর মুখে সাদা কাপড়। ভাইয়া কী করবে বুঝতে না পেরে কোলে করে নিয়ে যায় হাসপাতালে। ডাত্তার আপুকে মৃত ঘোষনা করে।
বাসায় আবার আপুকে কোলে করে নিয়ে ব্যাক করে। আপুর মার কাছে জানতে চায় কী হয়েছে। মা কান্না ছাড়া আর কোন কথা বলেনি। কেউ ভাইয়া কে কোন কথা বলেনি কি হয়েছিলো। ভাইয়া চুপ করে রইল আপুর মুখের দিকে তাকিয়ে,আপু যে বেচে নেই ভাইয়ার মেনে নিতে পারছিলো না।
আপুর এক হাত ধরে বসেছিল। আস্তে আস্তে আপুকে গোসল করানো হল,দাফনের উদ্দেশ্যে নিয়ে গেলো কবরে। ভাইয়ার চোখে কোন পানি নেই শুধু নিরবতা। ভাইয়া যখন আপুকে কোলে করে কবরে নামাচ্ছিলো শুধু এই কথা টুকু ভাবলো কাকে আমি কোলে নিয়েছি মাত্র ২২বছরের একটা নিষ্পাপ মেয়ে কে আমার এক মাত্রর জীবন সঙ্গী কে। ভাইয়া তাকে নামিয়ে উপড়ে উঠে গেলো।
আপুর কবরের উপর দিয়ে একটা একটা করে বাঁশ দিচ্ছে ভাইয়ার চারপাশে অন্ধকার নেমে আসছে,ভাইয়ার ইচ্ছে করছিলো আপুর পাশে গিয়ে শুয়ে থাকার। আপুর শরীরের উপর দিয়ে মাটি দিচ্ছে ভাইয়া ভাবছে আমার বউ টা কি করে এই অন্ধকারে থাকবে,মাটির মধ্যে কত পোকা-মাকড় আছে সব তো ওর শরীরে বেয়ে উঠবে, কী করে ও ওখানে থাকবে? যে মেয়েটা তেলাপোকা কে ভয় পায়,অন্ধকার ভয় পায় তাকে আমি কোথায় রেখে দিচ্ছি?? কোথায়? কবর দেওয়া শেষ হলে ভাইয়া নিজের বাসায় চলে যায়। ভাইয়া ঘরে ঢুকার সাথে সাথে দম বন্ধ হয়ে আসে, আপুর যত্নের সব কিছুতেই শুধু শূণ্য তা। ভাইয়া আপুর মৃত্যু কে মেনে নিতে পারচ্ছে না। কোন কিছু চিন্তা করতে পারছে না।
আপুর কিনা যত জিনিষ আছে সব কিছু তে ভাইয়া কে আপুর প্রতিচ্ছবি দেখাচ্ছে। ভাইয়া পাগলের মত হয়ে যায়। সব শো-পিজ কে বিছানায় নিয়ে আপুর স্পর্শতা কে খুঁজে ফিরে। বিছানায় শুয়ে আপুর শরীরে গন্ধ কে খুঁজে কিন্তু কোথাও আপুর স্পর্শতা নেই। আপুর সব শাড়ি জামা-কাপড় নামিয়ে আকড়ে ধরে রাখে আপুর অস্তিত্ব কে খুঁজে আর জোরে চিৎকার করতে থাকে কেন এমন হল? কি হয়েছিলো? ভাইয়া চিন্তা করে কিভাবে ও অন্ধকারে ঘুমিয়ে আছে, আমাকে ছেড়ে? সকাল হলে ভাইয়া কে তার শশুর ফোন করে।
ভাইয়া শশুর বাড়ী যায়, শশুর ভাইয়া কে কিছু দলিল দেয় সই করতে বলে। ভাইয়া বলে কিসের দলিল শশুর বলে তুমি আমার মেয়ের নামে যত জমি কিনেছো সব তো তার ভাইরা পাবে তার দলিল। ভাইয়া তখন দলিল সব সই করে দিলো। যে আসল মানুষ নেই অর্থ-সম্পদ দিয়ে কী হবে। এরপর শশুর বাড়ীর সাথে ভাইয়ার কোন যোগাযোগ নেই, প্রতিদিন রাত কাটতো ভাইয়ার ড্রিংস করে,আপুর কবরের পাশে।
কারণ কার পাশে ঘুমাবে রাতে, সেই মানুষ টি তো নেই। ভাইয়ার জীবন সব উল্টো-পাল্ট হয়ে যায়। প্রায় তিন মাস পর ভাইয়ার ছোট শালা,ছোট শালী আর আপুর মা ভাইয়ার সাথে দেখা করে এবং ছোট শালী জানায় আপুর বাবা এবং বড় ভাইয়ের বউ কে লোভ এমন ভাবে গ্রাস করেছিল যে আপুকে সে দিন রাতে তারা আমের সাথে বিষ মিশিয়ে দিয়ে সেই আম খাইয়ে মেরে ফেলে। শুধু সম্পত্তির কারনে। আর আপু আপনার কথা বলতে থাকে বিষের যন্ত্রনায় আপু ছট-ফট করতে থাকে।
আমাদের কারো কিছু করার ছিলো না। বাবা আর বড় ভাইয়া, ভাবী আমাদের মেরে ফেলার হুমকি দেয়। কারণ আপুকে না মারলে বাবা আর বড় ভাইয়া সম্পত্তি পাওয়া সম্ভব হত না। তাই বড় ভাবী আর বাবা মিলে আপুকে বিষ খাইয়ে মারার প্ল্যান করে।
ভাইয়া বলে তাদের কথা শুনে তখন আমি হাসছিলাম আর তারা সবাই আমার সামনে কান্না করছিলো।
আমার শাশুরি বলছিলো কেস করতে তারা সাক্ষী দিবে। কিন্তু কেস করলে কী মৃত মানুষ ফেরত আসবে? শুধু সম্পত্তির লোভে আমার ১ বছর ৪মাসের সাজানো সংসারের রাজ্যের নিষ্পাপ রানী টা কে মেরে ফেলে। আমরা ২২ বছরের বউ টা কে। আমার মাত্র তখন ২৯ বছর বয়স।
এটা আমার ১২ বছর আগের ঘটনা।
এখনো বিয়ে করিনি আসলে এখন আমি ওর স্মৃতি গুলো নিয়ে বেঁচে আছি। বাকী জীবন টা কে এভাবে কাটাতে চাই।
ভাইয়া কান্না করছিলো.......
আমরা সব বন্ধুরা কান্না করছিলাম ওদিন রাজিব ভায়াও তার কথা বলার ভাষা খুঁজে পায় নি।
ভাইয়া যাওয়ার আগে বলে যায় উনি ড্রিংস খাওয়া ছেড়ে দিয়েছে ২ বছর পর। কারণ ড্রিংস করে কষ্ট কে কমিয়ে রাখা যায় না।
সব কিছুকে নতুন করে সাজিয়েছে। নিজে কাজের মধ্যে ডুবে আছে। আপুর কিনা সব শো-পিজ গুলো বিক্রি করে দিয়েছে। কারণ সে গুলো সারাদিন আপুর কথা মনে করে দিতো। এখন শুধু কাজ আর কাজ।
নতুন বাড়ী কিনেছে আপুর কবরস্থানের পাশে যাতে রাতে আপুর ঘুমিয়ে থাকা দেখে ঘুমাতে পারে। সকালে ঘুম থেকে উঠে আপুর ঘুমিয়ে থাকা দেখতে পারে। আর ভাইয়া বর্তমানে কাজ করছে ড্রাগ এডিক্টেট মানুষ দের নিয়ে। যারা ড্রাগ এডিক্টিটেড তাদের কে বুঝানো সাথে সেই পথ থেকে ফিরিয়ে আনার জন্য কাজ করছেন। কারণ জীবন অনেক সুন্দর মানুষের জীবনে আনন্দ আর সুখের সাথে কষ্ট আসবে দুঃখ আসবে এই নিয়েই তো জীবন......
রাজিব ভায়া শুধু জানতে চায় আপুর সাথে শেষ কি কথা হয়েছিলো?
ভাইয়া বললো- ও আমাকে বলে তার ভালো লাগছে না।
আর আমি যাতে ঠিক মত খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ি। খোদা হাফেজ।
জানেন লাভগুরু ও যখন খোদা হাফেজ বলে রেখে দেয় আমার কথা টা শুনে কেন জানি খুব কষ্ট লাগে। কে জানতো আর কোন দিন সে আমার পাশের বালিশে ঘুমাবে না,আমাদের আর এক সাথে ডিনার করা হবে না। আমি যেমন টি জানতাম না সেও মনে হয় তেমন টি হবে জানত না।
সমাপ্তি......
আর কিছু বলার নেই.......
ভাইয়া তার জীবনের ভালোবাসার গল্প টা আমার ভালোবাসা অনুষ্ঠানে ২০০৮ সালের ১০ইং এপ্রিল তারিখ বলে।
আমি কাহিনী টাকে অনেক সংক্ষিপ্ত করে উপস্থাপন করেছি কারণ ৩ ঘন্টার একটা জীবন কাহিনী বিশাল বড়।
জানি না কেমন লিখেছি?
এই তো আমাদের চারপাশের হাজার ভালোবাসার একটি ভালোবাসার উপন্যাস।
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।