আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

কিছু ভিন্ন রকম দূর্নীতির ইতিকথা ও এ নিয়ে কিছু টক-ঝাল বাতচিত [ঈষৎ সংক্ষেপিত]

জাগো মানুষ আজ জাগো, ভেবনা তুমি বাঙালী কি বাংলাদেশী....কেটে যাবে রোদ ভাঙ্গবে আঁধার, আমি দেখব মাগো তোমার মুখের হাসি

গত কয়েক বছর ধরেই আলোচিত হচ্ছে দুর্নীতি দমনের প্রসঙ্গ। একজন সরকারী কর্মকর্তা, যার বেতন সর্বোচ্চ বিশ পঁচিশ হাজার টাকা তার বালিশের ভেতর সতের লক্ষ টাকা, ড্রামের ভিতর এক কোটি টাকা ব্যাংকের লকারে তিনশ’ ভরি সোনা উত্তরা কাফরুল গুলশানে বাড়ি- ফ্লাট, দেশের বিভিন্ন যায়গায় ২৫০ বিঘা জমি, শ্বশুরের কোটি টাকার কাঠ জনগণকে হতবাক করে দিয়েছে। এর আগে আমরা অবাক হয়ে দেখেছি ত্রাণের টিন মাটির নীচে, বনের হরিণ বাগান বাড়িতে আর তিন কোটি টাকার গাড়ি ডাস্টবিনে। দুর্নীতির ফিরিস্তি দেয়া এ লেখার উদ্দেশ্য নয়। আমি খানিকটা গভীরে আলোচনা করতে চাই।

খুঁজে বের করতে চাই দুর্নীতির আসল উৎস। তবে তার আগে কয়েকটি ভিন্ন রকম দুর্নীতির কথা আলোচনা না করলেই নয়। ১. বাংলাদেশে মোল্লা-মৌলভীদের সমালোচনা বহুদিনের। বলা হয় তারা কোন উৎপাদনশীল কাজে জড়িত নয়। তারা ভাল কথা বলে, ওয়াজ নছিহত করে, কারণ সেটাই তাদের পেশা।

সমালোচকরা বলেন, এসব মোলা মৌলভীর যদি বেতন ভাতা বন্ধ হত অথবা ওয়াজ শেষে হাদিয়া দেয়া না হতো তাহলে তারা সদুপদেশ দেয়া বন্ধ করে দিতো। কিন্তু আমরা দেখি এসব মোলা মৌলভীর তথাকথিত কর্মহীনতার সমালোচনায় যারা মুখর তারাই দুর্নীতি দমনের উপদেশ দেয়াকে পেশা হিসাবে নিয়েছেন। টি আইবি, সিপিডিসহ বিভিন্ন এনজিওর যে সব বক্তা উপদেশ দেয়ার মহৎ কর্মটি করছেন তারা সবাই কি অন্য কোন বৈধ পেশায় আয় রোজগার করে দেশের কল্যানে ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়াচ্ছেন? নাকি কেউ কেউ বেতন ভোগী কর্মকর্তা-কর্মচারী হিসাবে বর্তমানে এ কাজটি করছেন (যারা অন্যত্র চাকরী করলে অন্য রকম কিছু করতেন)। যারা প্রফেশন হিসাবে উপদেশ দেয়াকে বেছে নিয়েছেন, তারা যখন একই প্রফেশনের অন্যকে (যেমন মোলা মৌলভীদের) সমালোচনা করেন তখন তা নীতির পর্যায়ে পড়ে না, দুর্নীতির পর্যায়ে পড়ে। ২. বাংলাদেশে কয়েকজন প্রখ্যাত সিভিল ব্যক্তি আছেন।

যারা কখনো সিভিল সোসাইটির হয়ে রাজনীতিবিদদের তুলোধূনো করেন আবার কখনো কখনো নিজেরাই রাজনৈতিক দলের সভাপতি হিসাবে মাঠ গরম করার ব্যর্থ চেষ্টা চালান। তাদের কেউ কেউ তেল গ্যাস রক্ষা আন্দোলনের পাশাপাশি লুণ্ঠনকারী বহুজাতিকের হয়ে দক্ষভাবে মামলা লড়েন এবং রাষ্ট্রের বেচারা আইনজীবিদের সাফল্যের সাথে ধরাশয়ী করেন। তাদেরকে প্রশ্ন করতেও মিডিয়া ভয় পায়। এ ধরনের ব্যক্তিরা যখন নিজেদেরকে সৎ ও দেশ প্রেমিক দাবি করেন তখন কি তা দুর্নীতির পর্যায়ে পড়ে না? অবশ্য যখন যে পাত্রে রাখা হয় তখন সেই পাত্রের আকার ধারণ করা যদি কারো নীতি হয় তাহলে তা ভিনড়ব কথা কেননা সেক্ষেত্রে দুর্নীতি সংজ্ঞায়িত করা বড় কঠিন। ৩. বাংলাদেশে সিগারেটের বিজ্ঞাপনের নীচে একটি কথা লেখা থাকে “ধুমপান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।

” ইদানিং লেখা থাকে “ধুমপানে ষ্ট্রোক হয়। ” এই কথা দুটো লেখায় সরকার, কারণ সরকার বিশ্বাস করে ধুমপান ক্ষতিকর। ধুমপান ক্ষতিক হলে স্বাভাবিকভাবেই তামাক ও তামাক জাতীয় পণ্যের উৎপাদন বিপনন ইত্যাদিও ক্ষতিকর। কিন্তু সিগারেট বিড়ির ব্যবসা বাংলাদেশের একটি বড় ও বৈধ ব্যবসা। সরকার এটা থেকে বড় অঙ্কের ট্যাক্স পায় বলে এটাকে বৈধতা দিয়েছে।

তার মানে দাঁড়ায় টাকা দিলে ক্ষতিকর কিছুও বৈধ। এটা নীতি হতে পারে না; এটা দুর্নীতি। অবশ্য পুঁজিবাদে নীতি আর দুর্নীতির মাপকাঠি খুবই আপেক্ষিক, অধিকাংশ ক্ষেত্রে ব্যবসায়িক লাভালাভ নীতির মাপকাঠি স্থির করে। পশ্চিমা দেশগুলোতে পতিতালয় ও মদের ব্যবসা এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ। ৪. তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে সরকারের একজন মুখপাত্র বলেছিলেন- বাংলাদেশের গ্যাস ২০১১ সালে শেষ হয়ে যাবে।

রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে সিএনজি স্টেশনগুলোতে গ্যাস পাবার জন্য ঘন্টার পর ঘন্টা লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। সরবরাহ লাইনে গ্যাসের চাপ না থাকায় গ্যাস নিতে প্রতিটি গাড়ির অনেক সময় লাগে তাই এই ভোগান্তি। এছাড়া প্রয়োজনের তুলনায় সিএনজি স্টেশনের সংখ্যাও অপ্রতুল। কেননা লাইনে চাপ না থাকায় সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা নতুন মেশিনের অনুমতি দিতে চান না। এরই মধ্যে একটি মহল বিদেশী কোম্পানীর কাছে গ্যাস বিক্রি করতে নানা তত্ত্ব হাজরি করছে।

দেশের বিশাল জনগোষ্ঠীকে বিপদগ্রস্ত করে যারা দেশের সম্পদ অন্যের হাতে তুলে দিতে চায় তাদের কাজ র্কম কথা র্বাতাও যে সুনীতি নয় তা বোঝার জন্য বিশেষজ্ঞ হবার দরকার নেই।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.