বাংলাদেশ আমার দেশ
২৬ মার্চ এককভাবে চট্টগ্রামের বেতার কর্মীরাই কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র চালু করেন। অন্যতম উদ্যোক্তা বেলাল মোহাম্মদ এই কেন্দ্রের নামকরণ করেন ‘স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্র’। একইদিন চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল হান্নান শেখ মুজিবের পাঠানো স্বাধীনতার ঘোষণা ঐ কেন্দ্র থেকে পাঠ করে প্রচার করেন। এটাকে বিচারপতি ‘ঘোষণা’ না বলে শেখ মুজিবের বাণী বলেছেন। আরো বলেছেন, তা নিয়ে ইতিহাসের ছাত্র গবেষণা করুক না! ঐদিন (২৬ মার্চ) সন্ধ্যা পর্যন্ত কেন্দ্রটির সুরক্ষার ব্যবস্থা করতে না পেরে বেলাল মোহাম্মদ রাতে টেলিফোনে বিভিন্ন জনের পরামর্শ চান।
তার অগ্রজতুল্য চট্টগ্রামের বিশিষ্ট ব্যক্তি চন্দন পুবার তাহের সোবহান তাকে জানান, নাম না জানা একজন মেজর ডিফেক্ট করে পুরো ব্যাটালিয়নসহ পটিয়া থানায় অবস্থান নিয়েছেন। বেলাল মোহাম্মদ পরদিন ২৭ মার্চ ১০টায় পটিয়া থানায় গিয়ে মেজর জিয়ার সাক্ষাৎ পান। মেজর জিয়া ২৬ মার্চ ঐ কেন্দ্রের প্রচার শুনেছেন বলে স্বীকার করেন। তারপর তিনি পুরো ব্যাটালিয়নসহ বেলাল মোহাম্মদকে সঙ্গী করে কালুরঘাটে আসেন এবং বেতারকেন্দ্রের সুরক্ষার সামরিক কর্মকাণ্ডের নির্দেশ দেন। একপর্যায়ে বেলাল মোহাম্মদ মেজর জিয়াকে ‘মেজর’ এবং নিজেদেরকে ‘মাইনর’ আখ্যা দিয়ে তাকে বঙ্গবন্ধুর পক্ষে কিছু প্রচার করার অনুরোধ রাখেন।
মেজর জিয়া কিছুটা ইতস্তত করে প্রশ্ন করেন, কী বলা যায়? অতঃপর বেলাল মোহাম্মদের সঙ্গে পরামর্শ করে তার ঘোষণা প্রস্তুত করেন,যা তিনি স্বকণ্ঠে পাঠ করেন। আমার বিবেচনায় এই বেতার ঘোষণার ব্যাপারে মেজর জিয়ার কোনো পূর্ব উদ্যোগ বা পরিকল্পনা ছিল না। তাৎক্ষণিকভাবে উপস্থিত বেতারকর্মীদের দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি ঘোষণাটি রচনা এবং স্বকণ্ঠে পাঠ করেছিলেন। তাই এটাকে কোনো যুক্তিতেই ‘নিজের উদ্যোগে’ করা হয়েছে বলা যায় না।
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।