বেঁচে থেকেও আমি মৃত; কিছু না লিখতে জেনেও কবি............
মাঝে মাঝেই নিজেকে বড় অচেনা লাগে; আমার হাত, পা, নাক, চোখ, মুখ সবই মাঝে মাঝে আমার চেনার গন্ডি পেড়িয়ে চেনাত্ব হারায়। অথচ দুই যুগ আগ থেকে স্বার্থপর এই দেহটাকে আমি বহন করে চলেছি। শত কষ্ট, দুঃখ ব্যাথার মাঝেও রাজপথে সাই সাই করে ছুটে চলা ট্রাকের চাকা থেকে বাঁচিয়েছি। রা করেছি রোদ বৃষ্টি থেকে। আজো পরম আনন্দে ওর দেহে সুগন্ধী মাখি।
আহাদে আল্লাদিত করি যখন তখন। অথচ আমার এত সাধের এই আমি টাকেই মাঝে মাঝে চিনিনা। চিনিনা মানে যেন এটা একেবারেই অন্য একটা পদার্থ। কোন জীবন্তহীন মানুষের নগ্ন কঙ্কাল বয়ে বেড়ানো গোড় খোদকের দায়িত্ব পেয়েছি আমি। আর কোন দায় নেই; সহাবস্থান বা ভালোবাসার লেশ টানা হইনা অনেক সময়।
আজ সকালটায়ও আমি আমাকে চিনতে পারলাম না। অদ্ভূদ আমি আমার চোখের দিকে তাকিয়েই খেই হারিয়ে ফেললাম। আমার মুখও আমার দিকে তাকিয়ে উপহাসের ভেংচি কাটল। অসভ্য জানোয়ার এই মুখটাই কাল রাতেই কত অসভ্যতার জন্য দিয়েছিল। নগ্নহীন এক লাল গোলাপের পাপড়ি ছিড়ে অশ্লীলতা করেছে।
সভ্য জগতে অসভ্যতার দোহাই দিয়ে সে রাতে আমি ওকে স্বাধীনতা দিয়েছি। আর এর মাত্র কয়েক মুহুর্ত পরই আমার ‘ভীতুর ডিম’ নিয়ে সে আমায় উপহাস করল। অবাক আমি মুখের উপহাস দেখে অবাক নই। আমি অবাক আমার নিজের উপর। এই নটার জন্য আমার কতকালের অপো; বোধকরি ওর ভ।
আজ অবশেষে যখন সেই সুযোগটা এলো আমি তখন ভীতুর ডিম খেয়ে বসে আছি। আমার প্রতিায় বসে থাকার আমার চাঁদের আলো মেঘ কালো মুখ নিয়ে সব মেনে নিল। এই তো ওর করার আছে। আমার মত ভাঙ্গা ঘরে চাঁদের আলো কতটা মানায়। ওর মেঘ কালো মুখ ও আগুনের ফুলকি ছড়ানো ওর চোখের দিকে তাকানোর সাহস আমার নেই।
আমার যা আছে তা শুধু ভালোবাসা; হতে পারে খাদহীন।
এই চাঁদের আলোটার জন্য আমার সকাল সন্ধ্যা রাত উৎসর্গ করা। আমার ঘুমহীন রাত ঘুমন্ত দুপুর সব। আমার যদি আরো কিছু থাকতো তাও। অথচ আজ সকালের আচরন আমাকেই আমার দ্বাড়া অবাক করল।
এই কি আমি চেয়েছি! আমি জানিনা আমার অকৃতিম এ অপারগতার ও কি মানে ধরল? আমি জানিনা এক অপারগতা একটি খাদহীন প্রেমকে কতখানি খাদে পরিপূর্ন করল? অসমাপ্ত আমি কোন সমাপ্তির দিকে যাচ্ছি জানিনা। জানিনা কাল রাতেও যে চাঁদটা আমায় আলো দিয়ে আলোকিত করে রেখেছিল আজ সে চাঁদটা আমার ঘরে আলো জ্বালবে কিনা? জানিনা একটা ভিতুর ডিম হয়ে কতদিন বেঁচে থাকা যায়?
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।