আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

কুরআন ও সুন্নাহর দর্পণে হজ্ব, উমরাহ ও যিয়ারত

স্বাগতম

কুরআন ও সুন্নাহর দর্পণে হজ্ব, উমরাহ ও যিয়ারত হজ্ব শব্দের অর্থ হজ্ব শব্দের অর্থ ইচ্ছা করা। আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য শরীয়তের নিয়ম অনুসারে নির্দিষ্ট সময়ে কা'বা শরীফ ও সংশ্লিষ্ট স্থানসমূহ যিয়ারত করাকে ইসলামের পরিভাষায় হজ্ব বলা হয়। হজ্বের হুকুম মহান রাব্বুল ‘আলামীন তার সামর্থ্যবান বান্দাদের উপর বাইতুল্লাহর হজ্ব ফরয করেছেন। আর একে করেছেন ইসলামের পাঁচ রুকনের এক রুকন। হজ্বকে আবশ্যক করে মহান আল্লাহ তা'আলা ঘোষণা করেছেন: “মানুষের মধ্যে যারা বাইতুল্লাহ যেতে সক্ষম তাদের উপর আল্লাহর জন্যে বাইতুল্লাহর হজ্বকে ফরয করে দেয়া হয়েছে।

আর যে তা অস্বীকার করে সে জেনে রাখুক যে আল্লাহ তা'আলা দুনিয়াবাসীদের মোটেই মুখাপেক্ষী নন। ” (সূরা আলে ইমরান: ৯৭) হজ্বের ফযীলত হজ্ব ইসলামের পাঁচ রুকনের এক রুকন। যে ব্যক্তি কোন প্রকারের পাপ, অন্যায় ও অপরাধ ব্যতীত খালেসভাবে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হাজ্জ করে তার জন্য জান্নাত অবধারিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “এক ‘উমরা থেকে অন্য ‘উমরা' তাদের মধ্যবর্তী অপরাধের মার্জনা। আর যথাযোগ্য হজ্বের প্রতিদান হল জান্নাত।

” (সহীব বুখারী) হজ্ব কার উপর ওয়াজিব? প্রত্যেক বালেগ, মুসলিম, আকেল, স্বাধীন ও সামর্থ্য ব্যক্তির উপর হজ্ব ওয়াজিব। হজ্ব কি অনতিবিলম্বে আদায় করা জরুরী? হজ্ব আদায়ে বিলম্ব না করে যথাসম্ভব তাড়াতাড়ি করা জরুরী। কুরআনে মহান আল্লাহ বলেছেন: “কিন্তু তিনি তোমাদেরকে যা দিয়েছেন তা দ্বারা তোমাদেরকে পরীক্ষা করতে চান। সুতরাং তোমরা সৎকর্মে প্রতিযোগিতা কর। ” হাদীসে এসেছে রাসূলুল্লাহ সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তোমরা যত তাড়াতাড়ি পার হজ্ব আদায় কর, কেননা তোমাদের কেউ জানে না তার উপর কখন কোন বিপদ এসে পরে।

” (মুসনাদে আহমাদ) বদলী হজ্বের বিধান শরীয়তে বদলী হজ্ব জায়েয আছে। আর তা একাধিক হাদীস দ্বারা সাব্যস্ত। ইবন আব্বাস থেকে বর্ণিত এক হাদীসে এসেছে, “এক মহিলা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে তার মৃত পিতার উপর আবশ্যক হজ্বের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলো যা তার পিতা আদায় করেনি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তুমি তোমার পিতার পক্ষ থেকে হজ্ব আদায় কর। ” (সুনান নাসাঈ) তবে বদলী হজ্বের জন্য কতিপয় বিধান রয়েছে।

আমাদেরকে সেসকল বিধান মেনে চলতে হবে। নিম্নে সংক্ষেপে তা আলোচনা করা হল: ১. যার হজ্বের সামর্থ্য আছে সে যদি অসুস্থতার কারণে অথবা বার্ধক্যের কারণে হজ্ব আদায় করতে না পারে তবে তার উপর অন্য কাউকে বদলী হজ্বের দায়িত্ব দেয়া জরুরী। ২. যাকে বদলী হজ্বের দায়িত্ব দেয়া হবে তিনি নিজের হজ্ব আদায় করেছেন এমন হতে হবে। ৩. পুরুষের হজ্বের দায়িত্ব মহিলা এবং মহিলার হজ্বের দায়িত্ব পুরুষকে দেয়া যাবে। ৪. যাকে বদলী হজ্বের দায়িত্ব দেয়া হবে তিনি দ্বীনদার ও আমানতদার হলে ভাল।

যাতে করে ভালভাবে হজ্বের আহকাম পালন করতে পারেন এবং কোন প্রকার খেয়ানত না করে। ৫. যার উপর হজ্ব ফরয তিনি হজ্ব আদায় করার আগে মারা গেলে তার সম্পদ বণ্টন করার পূর্বেই তার মাল থেকে তার হজ্ব আদায় করা জরুরী। ৬. এক হজ্বকে দু'ই ব্যক্তির পক্ষ থেকে নিয়্যত করা যাবে না। কেননা হজ্ব খণ্ডিত হয় না। অনুরূপভাবে এক ‘উমরাও দু'ই ব্যক্তির পক্ষ থেকে নিয়্যত করা যাবে না।

তবে যদি একই বছর এক ব্যক্তির পক্ষ থেকে হজ্ব এবং অন্য ব্যক্তির পক্ষ থেকে উমরা করে তবে তা সহীহ হবে। শর্ত হল আগে নিজের হজ্ব ও ওমরা করা থাকতে হবে। হজ্ব জীবনে কতবার ফরয? হজ্ব জীবনে একবারই ফরয। একের অধিক করতে তা নফল হিসেবে হবে। তবে বেশি বেশি হজ্ব ও উমরা করা সুন্নাতের অন্তর্ভুক্ত।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “এক উমরা থেকে অন্য উমরা তাদের মধ্যবর্তী অপরাধের মার্জনা। আর যথাযোগ্য হজ্ব প্রতিদান হল জান্নাত। ” (সহীহ বুখারী) বেনামাজীর হজ্বের হুকুম বেনামাজীর হজ্ব সহীহ হবে না। কারণ ইসলামের রুকন তথা ঈমান, সালাত, সিয়াম, যাকাত ও হজ্ব এক অবিচ্ছিন্ন বস্তু। যে এসকল বিষয়ের উপর ঈমান আনে সে এসকল বিষয়ে আমল করে।

আর যে এর কোন একটিকে সামর্থ্য থাকা সত্বেও পরিহার করে সে যেন এগুলোর সবকটিকে পরিহার করলো। আর তাছাড়া সালাত হল ইসলাম নামক দেহটির মাথা। মাথাবিহীন দেহের যেমন কোন মূল্য নেই তেমনি সালাতবিহীন ইসলামের কোন মূল্য নেই। কাজেই বেনামাজী হজ্বে করার পূর্বে খালেসভাবে আল্লাহর নিকট তাওবা করে পাকাপোক্ত হয়ে হজ্বের নিয়্যত করতে হবে। সামর্থ্য থাকা সত্বেও হজ্ব না করার বিধান সামর্থ্য থাকা সত্বেও যদি কেউ অলসতা করে হজ্ব না করে থাকে তবে তা কবীরা গুনাহ হিসেবে সাব্যস্ত হবে।

এমনকি সেটি কুফরীও হতে পারে। প্রমাণ স্বরূপ সূরা আলে ইমরানের ৯৭ নং আয়াত যা ইতপূর্বে বর্ণিত হয়েছে। হাদীস শরীফে এসেছে, “হজ্বের সামর্থ্য রাখে অথচ হজ্ব করে না, সে ইহুদী অথবা নাসারা হয়ে মৃত্যুবরণ করুক। ” (সুনান তিরমিযী ও বায়হাকী) অপ্রাপ্ত বয়স্ক সন্তানের হজ্বের হুকুম অপ্রাপ্ত বয়স্ক সন্তান হজ্ব করলে তার হজ্ব সঠিক হবে এবং এ হজ্বের জন্য সে সাওয়াব পাবে। কিন্তু সেটি ফরয হজ্ব হিসেবে আদায় হবে না।

কারণ হাজ্জ ফরয হওয়ার শর্ত হল, প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়া। তাই প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার পর যদি তার হজ্ব করার সামর্থ্য থাকে তবে তাকে ফরয হজ্ব আদায় করতে হবে।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।