আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দুর্নীতি ও অনিয়মের চালচিত্র-১



দুর্নীতি আমাদের সব স্বপ্নকে ভেঙ্গে চুরমার করে দেয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘটিত বিভিন্ন দুর্নীতির কথা এখানে আলোচনা করার চেষ্টা করছি। প্রাচ্যের অক্সফোর্ড ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। বহু স্বপ্নের জন্ম দিয়ে গড়ে উঠেছিল এই বিদ্যাপীঠটি। বাংলাদেশের এবং তৎকালীন বাংলার অনেক মনীষী ব্যক্তিত্বের জন্ম এই বিশ্ববিদ্যালয়ে।

'৫২ ও '৭১ এ সকল কর্মকাণ্ড একে ঘিরেই পরিচালিত হতো। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছিল বাঙালি জাতি তথা আপামর বাংলাদেশিদের স্বপ্নের, শ্রদ্ধার ও ভালবাসার জায়গায়। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য এই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এখন স্বপ্নভঙ্গের এবং হতাশার জায়গায় পরিণত হচ্ছে। সকল রাজনৈতিক দলের প্রাথমিক হাতিয়ার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ক্ষমতা দখলের রাজনীতি এখান থেকেই শুরু হয়।

সরকারি ক্ষমতায় থাকা রাজনৈতিক দলের পোষা শিক্ষক, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা এখানকার সর্বময় ক্ষমতার অধিকারি। প্রথমেই আসে হল ওঠার প্রহসন। রাজনীতিবিদদের অসাধারণ আবিষ্কার এই হল। বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯০ শতাংশ অপরাধ এই হল কেন্দ্রিক। যাই হোক, দলে লোক ভিড়ানোর কায়দা হিসেবে নতুন বছরে ভর্তি হওয়া ছাত্রদের হলের ওঠার জন্য ক্ষমতাসীন দলে নাম লেখাতে হয় এবং নানা কার্যক্রমে বিশেষত রাতে অংশগ্রহণ করতে হয়।

এভাবে নিষ্পাপ একজন শিক্ষার্থী হয়ে ওঠে "লিডার" অথবা "ক্যাডার"। ক্ষমতার নোনা স্বাদ পাওয়া এই ছাত্র উন্মত্ত হয়ে বাবা-মার স্বপ্নের ইতি ঘটায় সূচনাতেই। এরপরে আসে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক দুর্নীতির কথা। হল এবং রেজিস্টার বিল্ডিংয়ে বসে থাকা কর্মচারীরা একেকজন হলেন একেক বাদশা। তারা যেন খুব সহজেই শিক্ষার্থীদের হাতে নিয়ে খেলতে পারে সে ব্যবস্থা বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষ খুব সুন্দর ভাবে করে রেখেছে।

বিশ্ববিদয়ালয়ের যেকোন প্রশাসনিক কাজ এতটাই সময়সাপেক্ষ যে তা করতে গিয়ে শিক্ষার্থীরা অসাধারণ এক ধৈর্য শিক্ষা গ্রহণ করে। কোন বিভাগে ভর্তি হওয়ার একাধিক পে-স্লিপ একাধিক বার পূরণ করতে হয়। সেই সাথে আসে হাজারো ফরম পূরণ। এরপর সেই কাগজপত্র নিয়ে হল, ব্যাংক এবং নিজের বিভাগে কতবার যে দৌড়াদৌড়ি করতে হয় তার কোন ইয়ত্তা নেই। পুরো প্রক্রিয়াটি এতটাই অযৌক্তিক এবং প্যাঁচালো যে গলদঘর্ম হবার যোগার হয় সদ্য ভর্তি প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করা শিক্ষার্থীর।

এখন প্রশ্ন থাকে যে কেন একই কাগজ একেক জায়গায় গিয়ে স্বাক্ষর করার জন্য হাজারবার ধরণা দিতে হয়? কেন এত বড় এক প্রক্রিয়া এই একবিংশ শতাব্দীতে টিকিয়া রাখা হয়েছে যেখানে খুব সহজেই প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে নিমিষেই কাজগুলো করা যেত? উত্তর হলো এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতাকে টিকিয়ে রাখার কারণ হলো বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত হাজার হাজার কর্মচারি ও কর্মকর্তাকে পোষা যারা নানাভাবে ছাত্রদের হয়রানি করে লাখ লাখ টাকা কামিয়ে নিতে পারবে। তাদের কাছে গেলে মনে হয় তারা যেন অতি দয়া করে কাজটি করে দিচ্ছে এবং তারা অতি ব্যস্ত। কাজ নিয়ে গেলেই শুরু হয় পরস্পরের মধ্যে খোশগল্প আর চা খওয়ার হিড়িক তো পড়েই। ধীরে-সুস্থে নড়াচড়া করা ঘণ্টা খানেক বসিয়ে রেখে তারা যেন এটাই বলতে চায়, "দেখেছেন আমাদের কত ক্ষমতা, ইচ্ছা হলেই আপনার কাগজপত্র আটকে দিতে পারি আমি, দয়া করে কাজটা করে দিচ্ছি। আমার হাতের কাজ শেষ হলে দেখব আপনার কাজ করার সময় হয় কিনা।

" এই বিশাল সংখ্যক কর্মচারীদের বাঁচিয়ে রাখতে শিক্ষার্থীদের মহা ভোগান্তিতে ফেলা হয়। আর কাজ শেষে "বখশিস"এর তো কোন শেষ নেই। আর হ্যান চাঁদা ত্যান চাঁদা তো আছেই। ছাত্র হিসেবে নিজের আত্নসম্মানবোধ পর্যন্ত লঙ্ঘিত হয় অনেক ক্ষেত্রে। শিক্ষার্থীরা সত্যিকার অর্থেই তাদের হাতে জিম্মি।


অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.