আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

বিডিআর তদন্ত কাজ ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার আরেকটি কৌশল

ধন্যবাদ

সরকারের একটি গোয়েন্দা সংস্থা পিলখানায় ঘটে যাওয়া ঘটনার ‘চুলচেরা বিশ্লেষণ’ করে একটি তদন্ত রিপোর্ট তৈরি করেছে। সেখানে দাবি করা হয়েছে, ‘ওয়ান-ইলেভেনে ক্ষতিগ্রস্তরাই হত্যাকাণ্ডে ইন্ধন জোগায়?’ (২৮ এপ্রিল ২০০৯)। ইত্তেফাক অবশ্য এটি সরকারের কোন গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্ট সেটি বলেনি। সাংবাদিকতার দিক থেকে এই অনুল্লেখ মারাত্মক নীতিগত ঘাটতি। সাংবাদিকরা অবশ্য অনেক সময় তথ্যের উৎস প্রয়োজনে গোপন রাখতে পারেন।

যিনি খবর দিচ্ছেন তাঁর পরিচয় লুকিয়ে রাখা অনেক সময় প্রয়োজন হতে পারে, কারণ তিনি হয়তো এমন অবস্থানে আছেন যাতে তাঁর জীবন যেতে পারে, চাকরি হারাতে পারেন, কিম্বা অন্য কোনো ক্ষতি হতে পারে। কিন্তু সরকারি গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্ট পত্রিকা যদি প্রকাশ করতে চায় তাহলে তাকে অবশ্যই সুনির্দিষ্ট ভাবে গোয়েন্দা সংস্থার নাম উল্লেখ করা জরুরি ছিল। যদি এটি গোয়েন্দা সংস্থারই প্রতিবেদন হয়ে থাকে তাহলে এ প্রতিবেদন তো এখনো সরকারি ভাবে প্রকাশিত হয়নি। তাহলে সরকারি ভাবে প্রকাশের আগে ‘গোয়েন্দা’ প্রতিবেদন পত্রিকায় প্রকাশ করে ফেলা ঠিক হিশাবে মেলে না। এ আবার কেমন গোয়েন্দা সংস্থা যে তাদের রিপোর্ট জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত হয়ে যায়! যদিও গত কয়েক বছর যাবৎ আমরা দেখছি অনেক নামীদামি পত্রিকা কোনো একটি বিষয়ে তদন্ত চলাকালীন অবস্থার মধ্যেই গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন ছাপিয়ে দিয়েছে।

ন্যায়বিচার প্রক্রিয়ার দিক থেকে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঘোরতর অপরাধ। কিন্তু এখানে খবরের উৎসের অনুপস্থিতি সাংবাদিকতার নীতিনৈতিকতার স্খলনই শুধু নয়, বরং পিলখানার মতো ভয়াবহ ঘটনার পেছনে যারা আসলেই জড়িত তাদেরই যেন আড়াল করবার চেষ্টা রয়েছে। যদি গোয়েন্দা সংস্থারই প্রতিবেদন হয়ে থাকে তাহলে কারা ইন্ধন জুগিয়েছে বা অর্থের জোগান দিয়েছে তাদের নামধাম গ্রামসাকিন পরিষ্কার ভাবে বলাই গোয়েন্দা সংস্থার কাজ। তারও আগে কারা ঘটনাটি ঘটিয়েছে তাদেরও সুস্পষ্ট ভাবে শনাক্ত করা প্রয়োজন। ‘ইন্ধন জোগানো’ আর নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটানো দুটো আলাদা ব্যাপার।

ইন্ধন জোগানো, অর্থ দেয়া, প্রতিশোধ তোলা ইত্যাদি গালগল্প এক কথা, আর তথ্যপ্রমাণসহ হাজির করা ভিন্ন বিষয়। অথচ গালগল্প বাদ দিয়ে সঠিক তথ্য হাজির করা গোয়েন্দা সংস্থারই কাজ। ওয়ান-ইলেভেনের ক্ষতিগ্রস্তরাই যদি এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকে তাহলে নামধামসহ কোথায় কিভাবে কে ঘটনা ঘটিয়েছে গোয়েন্দা সংস্থার অবশ্যই তা বলা উচিত। নইলে ঢালাও ভাবে অভিযোগ তোলার অর্থ হচ্ছে যারা এত বড় হত্যাকাণ্ডের পেছনে জড়িত এবং যারা ঘটনাটি আসলেই ঘটিয়েছে তাদের আড়াল করবার পুরানা গালগল্পই ‘তদন্ত’ হিশাবে হাজির করার চেষ্টা। যেটা ইন্টারেস্টিং সেটা হলো সরকারি গোয়েন্দা সংস্থার এ রিপোর্ট অভিযুক্ত করছে শুধু ওয়ান-ইলেভেনের ক্ষতিগ্রস্তদের নয়, বরং সরাসরি অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থাকেও।

বলা হয়েছে, ‘সেনাকর্মকর্তা হত্যার পেছনে বেশ কিছু পরিকল্পনা ঘটনার আগেও ঘটনার সময় ঘটানো হয়েছে। এর পেছনে বিডিআর’র রাইফেল সিকিউরিটি ইউনিট (আরএসইউ), সেনাবাহিনীর ডাইরেক্টর জেনারেল অব ফোর্সেস ইনটেলিজেন্স (ডিজিএফআই), ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যান্ড ইনটেলিজেন্স (এনএসআই) ও পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) সোর্সদের সাথে পরিকল্পনাকারীদের যোগাযোগ ছিল। এ কারণে পিলখানার ঘটনা দমন করতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে। ’ অর্থাৎ যে গোয়েন্দা সংস্থার কথা বলা হচ্ছে তারা ছাড়া বাংলাদেশের অন্য সব গোয়েন্দা সংস্থাকেই এখানে ‘অপরাধী’ বানানো হয়েছে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনাকারীদের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধান প্রধান গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ‘যোগাযোগ’ ছিল বলতে কী বোঝানো হয়েছে? গোয়েন্দা সংস্থাগুলো পরিকল্পনাকারীদের সঙ্গে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত? বলা হয়েছে, পরিকল্পনাকারীদের সঙ্গে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর এই যে ‘যোগাযোগ’­ ‘এ কারণে পিলখানায় ঘটনা দমন করতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে’।

পরিকল্পনাকারীদের সঙ্গে গোয়েন্দা সংস্থার যোগাযোগের কারণে সরকার পিলখানায় ‘ঘটনা’­ অর্থাৎ নৃশংস হত্যাকাণ্ড দমন করতে ব্যর্থ হয়েছে? এই অভিযোগ ভয়ানক, এবং সব অর্থেই বিপজ্জনক। এই রিপোর্টে যে ইঙ্গিত দেওয়া হচ্ছে তার অর্থ প্রত্যেকটি গোয়েন্দা সংস্থাই পিলখানার ঘটনার জন্য দায়ী­ এমনকি হত্যাকাণ্ডেরও। তাই কি? এই সিদ্ধান্ত ছাড়া এই রিপোর্টে অন্য সারবস্তু কিছু নাই। এটা পরিষ্কার যে ক্ষমতাসীন সরকারকে রক্ষা করবার জন্য এই রিপোর্ট পেশ করা হচ্ছে, এবং পাঁঠার বলী হিশাবে এখন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে দায়ী করা হচ্ছে। প্রশ্ন ওঠে, কোন গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্ট এটা? কেন সেটা ইত্তেফাক সরকারি তদন্তের রিপোর্ট প্রকাশিত হবার আগে ছাপল? এই রিপোর্ট সত্য কি মিথ্যা সেই তর্ক আমরা তুলতে চাই না।

সরকার এই ঘটনার তদন্ত করবে, দোষী ব্যক্তিদের শনাক্ত করবে এবং আইনী প্রক্রিয়ায় শাস্তি দেবে। কিন্তু সরকারী ভাবে কোন রিপোর্ট প্রকাশের আগে কিম্বা তদন্ত শেষে সরকারের সুনির্দিষ্ট বক্তব্যের আগে এই ধরনের রিপোর্ট ছাপা হওয়া খুবই অস্বাভাবিক। এটা খুব বড় ধরনের ঝড়ের ইঙ্গিত মাত্র। এই ইঙ্গিতগুলো আমরা পিলখানার ঘটনা ঘটবার পর থেকেই পাচ্ছি। আওয়ামী লীগের অনুগত আবদুল কাহহার আখন্দ যখন তদন্তের ভার পেলেন তখনই ক্ষমতাসীনরা আদৌ এই ঘটনার তদন্ত করতে চায় কিনা সেই সন্দেহ দানা বাঁধতে থাকে।

একজন সরকারী কর্মকর্তার নেতৃত্বে তদন্তেরও দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। আওয়ামী অনুরাগী বা মূলত আওয়ামী পন্থি হওয়া ছাড়াও এই ধরনের জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তদন্ত করবার যোগ্যতাও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। জনগণ শুরু থেকেই যে ইঙ্গিত পাচ্ছে সেটা হচ্ছে ক্ষমতাসীন সরকার পিলখানা হত্যাযজ্ঞের কোন তদন্ত চায় না। জনগণের মধ্যে সন্দেহ শুরু থেকেই দানা বেঁধেছে। ক্ষমতাসীনরা এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে জড়িত এই সন্দেহ যেখানে রয়েছে সেখানে ক্ষমতাসীনদের উচিত ছিল সুষ্ঠু ও পূর্ণ তদন্তের জন্য আগ্রহী হওয়া।

অন্য দিকে সেনাবাহিনী তার নিজের একটা তদন্ত করছে। সেই তদন্ত ঠিক কোন অবস্থায় আছে সেটা বোঝা এখন কঠিন। সেনাবাহিনীর তদন্তের দিকে জনগণের একটা আলাদা আগ্রহ আছে। সেনাবাহিনী নিজের প্রাতিষ্ঠানিক স্বার্থেই এই হত্যাকাণ্ডের গোড়া খুঁজে বের করবে, এই প্রত্যাশা অতিরিক্ত কিছু চাওয়া নয়। কিন্তু এখন ক্রমশ পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে যে সেনাবাহিনীর তদন্ত রিপোর্ট সম্পর্কে আমরা কিছুই জানব না।

কিম্বা জানলেও সেটা খণ্ডিত ভাবে জানব। হয়তো ইত্তেফাকের এই তদন্ত রিপোর্টই পিলখানা হত্যাযজ্ঞের তদন্তের কবর রচনায় প্রাথমিক পদক্ষেপ। সেনাবাহিনী প্রতিষ্ঠান হিশাবে, সেনা অফিসাররা তাদের সহকর্মীর প্রতি সহমর্মিতার জায়গায় দাঁড়িয়ে কিম্বা সৈনিকেরা সৈনিকের মর্যাদা পুনরুদ্ধারের খাতিরে সুষ্ঠু তদন্ত দূরে থাক, মূলত পুরা তদন্তকেই ধামাচাপা দেয়ার প্রক্রিয়াকে কিভাবে নেবে সেটাই এখন দেখার বিষয়। ইতিমধ্যে জিজ্ঞাসাবাদের পর বিডিআর জওয়ানদের লাশ পিলখানা থেকে বেরিয়ে এসেছে আমরা দেখেছি। তার দায়দায়িত্ব একশ ভাগই ক্ষমতাসীন সরকারের।

মানবাধিকারের ঘোরতর লঙ্ঘন ছাড়াও মূলত এইভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করতে গিয়ে কাউকে মেরে ফেলা মূলত তথ্য ও তথ্যের উৎস নিশ্চিহ্ন করারও একটি প্রক্রিয়া। এতে আমরা অবশ্যই নাগরিক হিশাবে উদ্বিগ্ন হয়েছি। এই ক্ষেত্রে আমরা বারবারই সেনাবাহিনীকেও সাবধান করেছি যে, মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে যদি কোনো ভাবে সেনাবাহিনী বা সেনাবাহিনীর কোনো সদস্য দায়ী হয় তাহলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর জন্য সেটা কল্যাণকর হবে না। সেনাবাহিনীকে ধৈর্যধারণ করতে হবে এবং তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে জিজ্ঞাসাবাদের সময় বিভিন্ন নির্যাতনমূলক পন্থা অবলম্বন দৃঢ় ভাবে পরিহার করতে হবে। মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা সেনাবাহিনীকে জনগণের কাছ থেকে দূরে সরিয়ে দেবে এবং এ ঘটনায় যারা আসলেই দায়ী তারাই শেষ অবধি পার পেয়ে যাবে।

রিপোর্ট দাবি করছে, বিডিআর’র রেশন বৈষম্য, অপারেশন ডালভাত কর্মসূচি, বেতন ও পদোন্নতিতে বৈষম্য, চোরাচালান রোধ করতে গিয়ে আটক হওয়া মালামালের ভাগবাটোয়ারা ইত্যাদি বিষয় নিয়ে পিলখানার ঘটনা ঘটেনি। কিন্তু আবার বলা হয়েছে, ‘ঘটনা ঘটাতে এসব কারণকে পরিকল্পনাকারীরা ব্যবহার করেছে। ’ এটাও বলা হয়েছে যে, ‘বিডিআর’র বিভিন্ন দাবিদাওয়ার ব্যাপারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিডিআর যথাসময়ে গুরুত্ব দেয়নি। ’ স্ববিরোধিতা এখানে স্পষ্ট। বিডিআর’র দাবিদাওয়া ছিল ন্যায্য এবং সেই দাবিদাওয়া কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে ক্ষোভ ছিল।

কিন্তু সরকার বা বিডিআর জওয়ানদের দাবিদাওয়াকে আমলেই নেয়নি। বিদ্রোহের তাহলে একটি সুস্পষ্ট অর্থনৈতিক বা শ্রেণীগত কারণ রয়েছে। অথচ তারপরও বলা হচ্ছে, এই সশস্ত্র বিদ্রোহের শর্ত এই অর্থনৈতিক বা শ্রেণীগত কারণের মধ্যে নয়, বরং একে বাইরের পরিকল্পনাকারীরা ব্যবহার করেছে মাত্র। যদি বিদ্রোহের এটি কারণ না হয় তাহলে বাইরে থেকে উসকিয়ে দিয়ে পুরা একটি বাহিনীর মধ্যে বিদ্রোহ সঞ্চারিত করা অসম্ভব। অন্য দিকে ‘পরিকল্পনা’কারী­ বা বিডিআর’র বাইরে থেকে আসা বহিরাগতদের ‘কিলিং মিশন’-কেও আমরা সমান গুরুত্বের সাথেই দেখবার পক্ষপাতী।

কিন্তু এ অদৃশ্য গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্ট ছাড়া আমরা বাংলাদেশের বহু বুদ্ধিজীবী বা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দেখেছি যে তাঁরা পুরা ঘটনাকেই একটা ষড়যন্ত্র ছাড়া আর কিছুই ভাবতে রাজি নন। অর্থাৎ অর্থনৈতিক বা শ্রেণীগত বৈষম্যের প্রসঙ্গ তো থাকেই না, যদি থাকেও তার পরও বহিরাগতদের ষড়যন্ত্র এত প্রবল হয়ে ওঠে যে বোঝা যায় ষড়যন্ত্র ছাড়া ইতিহাস বা ঘটনাঘটন ব্যাখ্যা করবার অন্য কোনো পদ্ধতি সম্পর্কে তাঁরা ওয়াকিবহাল নন। এর বিপদ আছে। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে শান্তির সময় হোক কি অশান্তির সময় হোক অন্য দেশের তৎপরতা, চক্রান্ত, ষড়যন্ত্র ইত্যাদি থাকবেই। এ তৎপরতা, চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র যদি আমরা ব্যর্থ করে দিতে চাই তাহলে বিদ্যমান ব্যবস্থা, অন্যায়, অবিচার, শোষণ, বঞ্চনা, নির্যাতন অত্যাচারের বিরুদ্ধে আমাদের দাঁড়াতেই হবে।

এর কোনো বিকল্প নেই। যখন বলা হয় যে, বিডিআর’র রেশন বৈষম্য, অপারেশন ডালভাত কর্মসূচি, বেতন ও পদোন্নতিতে বৈষম্য, চোরাচালান রোধ করতে গিয়ে আটক হওয়া মালামালের ভাগবাটোয়ারা ইত্যাদি বিষয় নিয়ে পিলখানার ঘটনা ঘটেনি, তার মানে দাঁড়ায় আমরা অর্থনৈতিক বৈষম্য, সেনাবাহিনীর অধীনস্থতার বিরুদ্ধে বিডিআর জওয়ানদের ক্ষোভ, অপারেশন ডালভাতের ক্ষেত্রে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের দুর্নীতি ইত্যাদি বাস্তব বিষয়কে অস্বীকার করার চেষ্টা করছি এবং পুরানা ব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখার ফন্দি আঁটছি মাত্র। বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর প্রাতিষ্ঠানিক চর্চা ও অভ্যন্তরীণ সম্পর্ক এখনো কলোনিয়াল বা ঔপনিবেশিক আমলের­ এ সমস্যাকেও আমরা গৌণ করছি এবং অবিলম্বে তা সমাধানের কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছি না। সেনাবাহিনী হোক, পুলিশ হোক বা হোক বিডিআর­ কলোনিয়াল বিধিবিধান দিয়ে একটি স্বাধীন ও সভ্য দেশ চলতে পারে না। আমাদের নিরাপত্তাব্যবস্থা কিভাবে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে এ রিপোর্ট তার প্রমাণ।

এটি ভীতিকর অবস্থা। এই ক্ষেত্রে নাগরিকদের কর্তব্য কী সেই দিক নিয়ে আমাদের অবশ্যই ভাবতে হবে। এর আগে আমি বারবারই বলেছি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার ক্ষেত্রে বর্তমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ অকার্যকর, আমাদের জন্য বিপজ্জনকও বটে। কারণ এই ব্যবস্থা প্রতিরক্ষা দূরে থাকুক বরং এদের হাত থেকে নাগরিকরা নিজেদের কিভাবে রক্ষা করবেন সেই ভয়েই তটস্থ। প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দেশ বা রাষ্ট্র রক্ষার পরিবর্তে জনগণের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়।

জনগণের বিরুদ্ধেই সৈনিক ও পুলিশকে ব্যবহার যে মাত্রায় গিয়ে পৌঁছেছে তার পরিণতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে আমরা জানি না। এই পরিস্থিতির অবনতি যদি আমরা রোধ করতে চাই তাহলে ঔপনিবেশিক সেনা-কাঠামোর বদল ঘটানো এবং প্রচলিত সামরিক আইন­ অর্থাৎ প্রতিরক্ষা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বিভিন্ন কলোনিয়াল ‘এক্ট’ অবিলম্বে বদলানো দরকার। বাংলাদেশে শক্তিশালী গোষ্ঠি আছে যাদের দাবি বাংলাদেশের কোন সেনাবাহিনী না থাকুক। তারা আসলে বলতে চায় বাংলাদেশের কোন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থারই দরকার নাই, সেটা বরং ভারত দেখবে। আমরা তাদের বিরোধী এবং তাদের সন্দেহ করি।

বিপরীতে আমরা বলি, বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিককে সৈনিকে পরিণত করা হোক। দেশরক্ষার দায় দায়িত্ব আমরা গণবিচ্ছিন্ন সেনাবাহিনীর ওপর ন্যস্ত রাখতে চাই না। পেশাদার সৈনিকের ভূমিকা প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে কেন্দ্রিয় ও মৌলিক বলে গণ্য হতে পারে, কিন্তু একই সঙ্গে প্রতিটি নাগরিককে দেশরক্ষার ক্ষেত্রে সরাসরি সম্পৃক্ত করবার ব্যবস্থা দরকার। যারা বাংলাদেশে কোন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা না থাকুক সেই স্বপ্নে বিভোর তারা দাবি করে আমাদের সেনাবাহিনীরই দরকার নাই। এর বিপরীতে আমরা ‘গণপ্রতিরক্ষা’-র কথা বলি­ বলি যে বরং সমগ্র জনগণকে কিভাবে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা যায় সেই দিক নিয়েই আমাদের ভাবতেই হবে।

পিলখানার হত্যাযজ্ঞের তদন্ত ও দোষীদের শনাক্ত ও ন্যায়বিচার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে শাস্তি কি আমরা দেখব? আমি সন্দেহ করি। আমরা সম্ভবত আরো বড়ো ধরনের জাতীয় বিপর্যয়ের দিকে দ্রুতবেগে ধেয়ে চলেছি। ১৫ বৈশাখ ১৪১৬। ২৮ এপ্রিল ২০০৯। শ্যামলী।


অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.