আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

কক্সবাজার এবং আদিনাথ মন্দিরের কথাঃ

সব কিছুর মধ্যেই সুন্দর খুঁজে পেতে চেষ্টা করি............

কক্সবাজার এবং আদিনাথ মন্দিরের কথাঃ নির্জন সুন্দর ঝাউবন পেরিয়ে স্বর্ণালী সৈকত, বালিয়াড়ির বুকে কাঁকড়ার গর্ত। তীর ঘেঁসে পাহাড়ের সারি। অস্তগামী সুর্য্যের স্বর্ণালী আভা গায়ে মেখে নিসর্গ হয় অপরুপ। ক্রমশ কচ্ছপ গতিতে সন্ধ্যা নামা, শহর জুড়ে জ্বলে ওঠা বিজলী আলোর সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে হলে বেড়াতে যান কক্সবাজার। বঙ্গোপসাগরের বিস্তীর্ণ বেলাভুমি, উত্তাল উচ্ছাস, দৃস্টিনন্দন ঝাউবন, উঁচু পাহাড়ের চুড়া, বৌদ্ধ মন্দির,মন্দির, প্যাগোডা এইসব কিছুর সমাহারে সৌন্দর্য্য সুসজ্জিত পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার।

ইংরেজ লেফটেন্যান্ট মিঃ কক্স’র নাম অনুসারে এই যায়গার নামকরন করা হয় কক্সবাজার। এখানকার ১২০ কিঃমিঃ দীর্ঘ সমুদ্র সৈকত পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। বর্তমানে নিউ সেভেন ওয়ান্ডার্স হিসেবে যে অনলাইন ভোট গ্রহন চলছে-আপনিও আপনার মুল্যবান সেই ভোট প্রদান করে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতকে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজের তালিকাভুক্ত করার জন্য অবদান রাখুন। রুপালী সৈকতের তীর ঘেঁসে গড়ে ওঠা সংরক্ষিত বনভুমি সমৃদ্ধ ১৬ কিঃমিঃ পাহাড় এখানকার অন্যতম বিরল প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য বলে বিবেচিত। কর্ম ব্যস্ত জীবনের ঘানি টেনে টেনে ক্লান্ত মানুষ অবসর সময়ে একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস নিতে, আনন্দ ভ্রমনে নির্জণতা প্রেমী মানুষের পর্যটক মনের আদর্শ ঠিকানার নাম কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত।

এযেন এক অনাবিল শান্তির নীড়। বাংলাদেশে অবকাশ যাপনের স্বর্গরাজ্য। সমুদ্র সৈকত ঘেঁসে গড়ে উঠেছে অনেক কটেজ, মোটেল, বিভিন্ন মানের হোটেল রেস্তোরা। যেখানে ঝাউবনের দমকা হাওয়ায় অস্থির হয়ে উঠবে আপনার মন। মনমাতানো অনুভুতি, মোটেলের সামনের বেলাভুমি মনে হবে যেন জীবনেরই বিচিত্র জলছবি।

অলস অবসর প্রহরে এযেন এক অপরুপ ভালোলাগা। কক্সবাজারের সন্নিকটেই বৌদ্ধদের তীর্থস্থান রামু। এখানে কালের সাক্ষী হয়ে আছে-অনেকগুলো মন্দির ও প্যাগোডা। কক্সবাজারের উত্তর-পশছিমে সমুদ্র, মাঝে রয়েছে মহেশখালী দ্বীপ। কক্সবাজার শহরের কস্তুরীঘাট থেকে ইঞ্জিন চালিত নৌকা লঞ্চ ও স্পীড বোট চলাচল করে মহেশহালী।

স্পীড বোটে গেলে ২০ মিনিটের ভিতর মহেশখালী পৌছানো যায়। এই দ্বীপের ছোট ছোট পাহাড় ও অরণ্যে পাখির কলকাকলীতে আর বন্যপ্রানীদের বিচরণ পাহাড় চুড়ায় অবস্থিত আদিনাথ মন্দিরের সৌন্দর্য্য দর্শনার্থীদের মুগ্ধতায় ক্ষনিকের জন্য হলেও মোহাচ্ছন্ন করে রাখে। সুন্দর এই দ্বীপের সুন্দরতম আকর্ষন আদিনাথ মন্দির। বংগোপ্সাগরের মোহনার সন্নিকটে একটি ছোট্ট পাহাড়ের উপড় আদিনাথ মন্দিরের অবস্থান। সঠিক হিসাব পাওয়া নেগেলেও ধারনা করা হয়-এই মন্দির তৈরীহয় প্রায় দুইশত বছর পুর্বে।

সমতল ভুমি থেকে অর্থাৎ মন্দিরের পাদদেশ থেকে ৬৯ টি সিড়ি ভেঙ্গে মন্দির প্রাঙ্গনে পৌছতে হয়। অনেকে এই মন্দিরকে শিব মন্দির নামেও অভিহিত করেন। প্রতি বছর হিন্দু রীতি অনুযায়ী শিব রাত্রির পর থেকে আদিনাথ মন্দিরকে কেন্দ্র করে ভক্তরা ৮ দিন ব্যপী শিব মেলার আয়োজন করে। তখন সারা দেশ থেকে অগনিত ভক্ত পুঁজা করতে ভীর জমায় এখানে। আদিনাথ মন্দির নির্মাণশৈলী দেখতে অন্যসব মন্দির থেকে কিছুটা আলাদা।

মুল মন্দির স্তম্ভ ছাড়াও আরো ৮ টি ছোট স্তম্ভ দিয়ে সাজানো, দারুন পরিস্কার পরিচ্ছন্ন মন্দিরটি ভক্তকুলের প্রার্থনার জন্য ভাবগম্ভীর পরিবেশ বজায় রাখে। দৃস্টির সীমানায় দাঁড়িয়ে থাকা ভক্ত দর্শনার্থীদের অনায়াসে কাছে ডেকে নিতে পারে আদিনাথ মন্দিরের মনমাতানো সৌন্দর্য্য।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।