৯৯) বাসন্তি তোকে মনে পড়ে
খুব মনে পড়ে বাসন্তি তোকে ।
রেলওয়ে হাসপাতালের কোয়ার্টারে থাকতাম আমরা।
তুই ছিলি আমাদের বাগানের মালি নগেনদার মেয়ে,
আমার ছেলেবেলার খেলার সাথীদের একজন।
ছোটবেলায় আমি খুব রোগা ছিলাম।
প্রায়ই আমার জ্বর হতো।
টনসিল ব্যথা তো লেগেই থাকতো।
তুই এসে আমাদের বাসার সিঁড়িতে বসে থাকতিস।
আমি একটা বেতের চেয়ারে বসে থাকতাম।
তুই সারা পাড়ার গল্প করতিস।
কাদের বাড়ীর গাছে কতটা ফুল ফুটলো।
নাগলিঙ্গম ফুল গাছটার নীচে থোকা থোকা ফুল।
আমার জন্য কোঁচড় ভরে নানান ফুল আনতিস।
আমরা দুজনে মালা গাঁথতাম।
তোর ঝক ঝকে চোখ দুটো নাচিয়ে গুনগুন করতিস।
আমি ও তোকে গান গেয়ে শোনাতাম।
মাঝে মাঝে তোকে ভালোলাগার বই এর
গল্প ও শোনাতাম।
তুই নিজে একদম পড়তে চাইতি না।
আমি তোকে বই পড়ে শোনাতাম।
আমাদের ছেলেবেলা কেমন হুড়পাড় করে
একদিন শেষ হয়ে গেলো।
নাইনে উঠে আমি স্কুল পাল্টালাম।
তুই স্কুল যাওয়া বন্ধ করলি।
বিকাল হলেই প্রায়ই আমাদের সিঁড়িতে এসে বসতি।
তেল দেয়া ভেজা চুল বেয়ে পানি পড়তো।
ছাপানো কামিজে কালো তোর মুখটা
দারুণ মায়াবী দেখাতো।
এইসব বিকালে আমার ইচ্ছে করতো
তুই আমার ঘরে আসিস।
তোকে নিয়ে আমার ডাইরী দেখাই।
আমার জমানো কলম।
পুতির মালা।
গানের ক্যাসেট।
জার্মানী থেকে আনা ছোট মামার পারফ্যিউম।
এমন কি আমাকে দেয়া একজনের প্রথম ভালোলাগার চিঠি।
কিছুই দেখানো হয়নি তোকে।
বাসন্তী তুই কখনোই আমাদের বাসায় ঢুকিসনি।
আমি বহুবার বলেও তোকে আনতে পারিনি।
ছোট্ট একটা মানুষ কি করে একটা আড়াল তুলেছিলি।
তোরা ছিলি হরিজন।
হরিজন শব্দটা আমি বড় হয়ে শিখেছি।
তখন অন্য একটা শব্দ জানতাম।
ওই শব্দটা তোকে বলতে পারিনি কোনদিন।
খুব কম বয়সে বিয়ে হয়েছিলো তোর।
মার সাথে তোদের বাড়ীতে গিয়েছিলাম।
আনন্দে সারাবাড়ী দৌড়াচ্ছিলি।
আমাকে কাছে ডেকে আনন্দর কারণটা বলেছিলি।
প্রথম কারন হলো আর পড়তে হবে না তোকে।
আর দ্বিতীয় কারন হলো
তোর বর অন্য এক হাসপাতালের মালি।
ফুল ভালোবাসিস তাই ফুলের কাছেই থাকতে চেয়েছিলি।
তোর ইচ্ছেগুলোর সাথে আমার অনেক অমিল ছিলো।
তবু ফুল তো আমিও ভালোবেসেছি।
বাসন্তি জানিস এখনো শেষ বিকালের আকাশ দেখলে
আর ফুলের কাছে গেলে তোকে মনে পড়ে।
তোর মুখটা আজো চোখে ভাসে।
কে জানে কোন বাগানের পথ ধরে তুই হেঁটে বেড়াস।
ফুলের গন্ধে তোর ও কি আমাকে মনে পড়ে?
মনে পড়ে বাসন্তি ?
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।