আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

বাসন্তি ! বসন্তপুরে তোমার বসবাস [ কোন এক বাসন্তিকে ]

বন্ধ জানালা, খোলা কপাট !

বাসন্তি মেয়ে হে ! হৃদয়ের বসন্ত দিনে আমি গিয়েছিলাম, আমি হ্যাংলার মত, ক্ষ্যাপার মত তোমার কাছে ছুটে গিয়েছিলাম । নাহ্‌ ! আমার কাঁধে শান্তি নিকেতনি ব্যাগ (অশান্তি নিকেতনিও) ঝোলানো ছিল না, চুলে ছিল না জট, তবু তুমি দুর দুর করে তাড়িয়ে দিলে পটাপট ! মুখ কালি করে রাস্তার ধারে বসে নামিয়েছিলাম বিরহি কবিতা । নাম দিয়েছিলাম নিদয়া ! "হায় ! হায় ! নিদয়া!/ তোমাতে নেই এতটুকু মায়া...!" আচ্ছা বাসন্তি ! তোমার কি মনে হয়,-'ন্যাড়া একবারই বেলতলায় যায়' এ কথা কি ঠিক ? তোমরা নারীরাতো ঢের ভাল জানো, বারবার, কতোবার ন্যাড়ারা তোমাদের পানে ছুটে যায় ! তোমরা আমোদিত হও । আনন্দে আটখানার বদলে আটশ' খানা হয়ে দন্ত বিকশিত করো, হিঃ হিঃ হিঃ ! আমিও গিয়েছিলাম, দ্বিতীয়বার তোমার কাছে ছুটে গিয়েছিলাম । ওডিকোলনের সুবাস মেখে, আয়নায় নিজের চেহারা দেখে নিয়েছিলাম ।

নাহ্‌ , খালি হাতে যাইনি আমি সেবার, তাজা একখানা কোবতে ছিল হাতে, তোমাকে দেবার । আমাকে কৃতার্থ করে দিয়ে কবিতার কিছু অংশ পড়লেও তুমি,- "তোমার জন্য কোবতে লিখে হলাম কবি তোমার চোখের কাব্য দেখে হৃদয় আমার খাচ্ছে খাবি..!" কি আশ্চর্য ! এ-পর্যন্ত পড়েই তোমার ঠোঁট দু'খানি উল্টে গিয়েছিল ! কেন উল্টে গিয়েছিল গো, সোনা ? কেনইবা অমন পাষাণীর মত বলেছিলে,- "ফুহ্‌ ! দু'আনার কবি,এই তোর কবিতা ! No chance here-খুঁজে নে কোন ববিতা !" অথচ, তুমি জানতে চায়লে না মেয়ে, আমার হৃদয়ে কতো ইঞ্চি দাগ বসিয়ে ফাঁসিয়ে দিলে আমায় । আমার হৃদয় বসন্ত ধপ করে যেন গ্রীষ্মের খরতাপে পুড়ে ছাই হলো (ইচ্ছে হলো কোন বরফ পুকুরে গিয়ে ডুব দেই) ! সে এমনি ছাই যে, সেখানে আর বসন্তের বর্ণিল ফুল ফুটে সৌরভিত হয়না । বসন্তের কুকিলরা আর অজস্র কুহুতানে ছড়ায় না কুহ সুর । হৃদয়ে কেবল হৃদয় পোড়া গন্ধ ! তাতেইবা কার কি হয়; বসন্তপুরে চিরবসন্ত রয় ।

হ্যাঁ গো, বাসন্তি ! তোমার চিরবসন্তপুরের আকাশ কেন এত ডাকে আমায়,- আয় আয় আয়...! হ্যাঁ,গিয়েছিলামও । লজ্জা নারীর ভূষণ, নরের ওই জিনিষ থাকতে নাই মর্মে বিশ্বাস রেখে সকল লাজ-শরম নির্বাসনে দিয়ে তৃতীয় বারের মত আমি তোমার দ্বারে গিয়েছিলাম । ফিরেও এসেছিলাম নীরবে । তুমি জানলে না । এখন জেনে হয়তো বলবে,-'তোরে কি পাগলা কুত্তায় কামড়াইয়াছিল ?' কি জানি, কামড়িয়েছিল হয়তো (চৌদ্দটা ইনজেকশনের ভয়েই হয়তো প্রকাশ করি নাই তখন) নইলে এমন পাগল হয়ে...! তোমাদের সদর দরজার দু'পাশে দুইটা কলাগাছ পোঁতা ছিল সেদিন ।

ও দুটোর গায়ে লতিয়ে থাকা গেটফুলগুলো শোভা বর্ধন করেছিল বেশ । সেদিন বসন্তের ঝরঝরে হাওয়া গায়ে মেখে, গেটে ঝুলিয়ে রাখা বড় বড় হরফের লেখাটা পলকহীন দৃষ্টিতে পড়েছিলাম- 'শুভ বিবাহ । ' বলা বাহুল্য,বিবাহটা তোমারই ছিল । অভিমানে হৃদয় পূর্ণ হয়েছিল আমার । হায় বাসন্তি ! তুমি আমায় প্রেম দিলে না ভাল কথা, তা বলে তোমার বিয়ের দাওয়াতও দিলে না ! কেন দিলে না গো, পাষাণী ?!!


অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।