http://www.paybox.me/r/rihan
এরপর কাটিয়া গিয়াছে বহুকাল,
বৈশাখ থেকে চৈত্রে, গ্রীষ্ম থেকে বসন্তের ক্রমানুসারিক
ঘূর্নিপাকে আবর্তিত হইয়া পৃথিবীরও
বয়স বাড়িয়া গিয়াছে কয়েক গুণ,
গাছের পাতায় পাতায় মুকুল আসিয়াছে,
নতুন মুকুলদের জায়গা করিয়া দেবার লাগি--
সেই মুকুল ফুল হইয়া ঝরিয়াও গিয়াছে,
আবার মুকুল আসিয়াছে, আবার ঝরিয়া গিয়াছে,
এবড়ো থেবড়ো কর্দমাক্ত মেঠো পথ সুশোভিত হইয়া
পরিণত হইয়াছে পিচঢালা রাজপথে,
জায়গায় জায়গায় দো-চালা টিনের ঘরগুলাও অস্তিত্বের সংকটে
কাঁদিয়া ফিরিয়া অবশেষে ইট কাঠরের বিরাট দালানে রূপ নিয়াছে,
বৈদ্যুতিক বাতির চতুর্মূখী আলোকছটায় টিকিতে না পারিয়া
বিপথে চলিয়া গিয়াছে রজনীর আঁধারে ছিমছাম উঠোনে
নীলাভ জ্যোৎস্নার রথ-যাত্রা,
বৈশাখের তীব্র খরতাপে প্রশান্তির কোমল প্রলেপ বইয়ে দেয়া হঠাৎ আগুন্তক দখিনা বাতাসও এখন আর কারো বাড়িতে
আকাঙ্খিত অতিথি নয়,
বৈদ্যুতিক পাখার চতুর্মূখী ঘূর্ণিপাকে টিকিতে না পারিয়া প্রাকৃতিক বাতাসও এখন মানুষের বর্শীভূত হইয়া গিয়াছে,
ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় কাঁপাইয়া তোলা প্রেম নামক অতি মহার্ঘ অস্পর্শী সত্ত্বাখানিও কেমনে জানি সহজেই মানুষের মুঠোয় চলিয়া আসিয়াছে,
মুঠোফোনের তারে তারে এখন জমিয়া ওঠে প্রেম,
নীল খামে ভরা সেই আদিকালের কাগুজে প্রেম কখন যেন
উড়িয়া উড়িয়া হারাইয়া গিয়াছে কালের বাতাসে,
ছেলেবেলার সেই 'এক পায়ে' দাঁড়াইয়া থাকা তালগাছখানাও তার
শেষ সম্বল পাখানি খসাইয়া কোথায় যেন হারাইয়া গিয়াছে,
শুধু হারাইয়া যায়নি দেবদারু গাছখানি, সেই দেবদারু গাছ--
যার ছায়াপথ ধরিয়া ধরিয়া একদিন আমি হারাইয়া যাওয়ার সাহস করিয়াছিলাম তোমার হাতখানি ধরিয়া প্রেমের পথ থেকে পথে;
কালের বিবর্তনের হাওয়ায় সবই তো হারাইয়া গেল,
তুমিও একদা আমায় ছাড়িয়া জাগতিক নিয়মে হারাইয়া গেলে
অচিন আরেক পৃথিবীতে; শুধু আমিই হারাইলাম;
নিঃস্ব মুকুটহীন সম্রাটের মতো আমি এখনও ঠাঁয় দাঁড়াইয়া থাকি
সেই দেবদারুর ছায়ায়, আর
আমার নিথর পলকহীন দৃষ্টির সমস্তটা জুড়িয়াই তখন কেবলই
ভাসিয়া ভাসিয়া বেড়ায়--
হারাইয়া যাওয়া সেই সে ধূসর সাম্রাজ্যের প্রতিচ্ছবি।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।