ঢাকার বিভিন্ন কৌশলগত এলাকায় বিডিআর "ন্যায্যমূলে" পণ্য বিক্রি করছে। কোথাও কোথাও কেবলই চাউল। কোথাও কোথাও সেগুলো শ্যাম্পু-সানান-কোলাপানীয় সমেত একেকটা মিনি শপিংমল। যেমন, মানিক মিয়া, শ্যামলী ... আরো ঘুরে দেখতে হবে।
দৈনিক পত্রিকা থেকে জানা যায় চাউলের বিক্রয়কেন্দ্রগুলো আশঙ্কাজনক দ্রব্যমূল্য থেকে আমজনতাকে রক্ষা করবার উদ্দেশ্যে নির্মিত।
তাই হবে নিশ্চয়ই। পত্রিকা যেহেতু বলেছে খবর নিয়েই বলেছে। তারা আরো বলেছে যে ইদানীং এই দোকান/কেন্দ্রগুলোর লাইনে নিম্নআয়ের পাশাপাশি মধ্যবিত্ত লোকদেরও সমাগম। এর থেকে এটাও বোঝা যায় যে আমজনতাকে রক্ষা করবার প্রশ্নে রাষ্ট্র এখন আরও বেশি বেশি জনগণকে টার্গেট করেছে। কেবল গরিব লোকদের প্রতি সুনজর-দেয়া বা চাউল-দান করে তারা যে পক্ষপাত করছেন না সেটা নিশ্চিত হতে চলেছে।
আমরা আরও বেশি লোক ব্যাগ হাতে এই লাইনে খাড়িয়ে গেলে ভাল।
তবে সন্দেহবশত এই বিক্রয়কেন্দ্রগুলোকে একটা নাট্যশালা হিসেবে দেখা আমি রপ্ত করে ফেলেছি। এর একপক্ষে প্রকৃত লোকজনেরা আছেন। ক্রেতারা। চাউল তারা খাবেনই।
জেনুইন। কিন্তু অন্যপক্ষে জনগণের রক্ষাবাহিনীর পক্ষে ন্যায্যভাবে চাউল খাওয়ানোর চাইতেও অন্য একটা ভূমিকা অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ বলে আমি মনে করি। সেটা হলো মধ্যবিত্ত সমেত সকল "চিন্তাশীল" লোককে বুঝতে দেয়া যে তারা কিছুতেই জনগণকে মরতে দিতে নারাজ। এবং দেশে একটা ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে তারা "ন্যায্য"তা বিলিবণ্টন করছেন। এই চাউল-দান দুর্ভিক্ষপ্রায় একটা পরিস্থিতির রূপক বটেক।
তাইলে ধানমণ্ডির ৬০ লাখের ফ্ল্যাট, নতুন নতুন বিএমডব্লিউ (কিংবা এমনকি টয়োটা) গাড়ি, বহুতল ভবনের ফ্লোর প্রতিদিন বেচাকেনা হচ্ছে কীভাবে?! কীভাবেই বা এতগুলো রেস্টুরেন্টে প্রতিদিন খাই-খাই করে খেয়ে আসে মানুষের দল। দুর্ভিক্ষটা কাকে দেখানোর জন্য মঞ্চস্থ?
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।