আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

ভ্রমন : করমজল, সুন্দরবন - ২

হুশিয়ারি :- আমার ব্লগে কেউ সাহিত্য খুইজেন না । ইহা একটি মাকাল পরিবেশনা।

'বাঘ বলতি হয় না, মামা বলতি হয়' আমাকে সর্তক করে জানিয়ে দিলো ১৬/১৭ বছরের সহকারী মাঝি শাহীন। কেন মামা বলতে হয় ? 'মামা বললি মামা রাগ করে না' জানালো শাহীন। আরে বাবা সুন্দরবনে ঘুরতে এসে বাঘের ভয় করলে চলবে ? আমরা সগৌরবে এগিয়ে চলছি।

ট্রলার গিয়ে থামলো করমজলে। সুন্দরবনের মাটিতে প্রথম পা রাখলাম। বন বিভাগের অনুমতি পাশ নিয়ে বনে প্রবেশ করলাম। পথে দেখা হলো হরিন আর বানরের সাথে। এখানে বন বিভাগ বনে প্রবেশ করার জন্য কাঠ-বাঁশের দীর্ঘ রাস্তা বানিয়ে রেখেছে।

আমরা সে পথে এগিয়ে গেলাম। সুন্দরী, সিংড়া, বাইন, কাকড়া, গেওয়া, বলা, পশুর, গোলপাতা আরো কত ধরনের যে গাছ দেখেছি নাম মনে পরছে না। কাঠের রাস্তাটা শেষ হয়েছে বনের অপর প্রান্তে। তারপর ডানে চলে গেছে মাটির পথ। এদিকটা ঘোরা শেষ করে আবার সামনে ফিরে আসলাম।

করমজলে খাঁচায় বন্দি হরিন, বানর আছে। কিন্তু বনের ভেতর খাঁচা বন্দি প্রানী দেখতে ভালো লাগে না। এখানে একটা কুমির প্রজনন কেন্ত্র আছে। এখানকার কেয়ারটেকার আমাদের কুমিরের পুকুরে নিয়ে গেলো। কেয়ারটেকার কুমিরের মুখে একটা মাটির দলা ফেলতেই কুমির বিদ্যুত বেগে বিশাল হা করে পানির ভিতর থেকে লাফ দিয়ে উঠলো।

এই ভয়ংকর দৃশ্যের কথা ভুলতে পারবো না। ট্রলারে চলতে চলতে ২৩/২৪ বছরের স্মার্ট চালক ইস্রাফিল আর ওর ছোট ভাই শাহীনের সাথে অনেক কথা হল। ওদের মাধ্যমে জানতে পারলাম পশুর নদীর পানি শীত কালে মিঠা আর গরম কালে নোনা থাকে। আমরা এখন চলছি ডাইনমারির দিকে। ঢাংমারী স্টেশন থেকে মৌখিক অনুমতি নিয়ে আমার ডাইনমারি খাল দিয়ে যাচ্ছি।

ফরেস্ট অফিসার আমাদের বনের বেশী ভেতরে যেতে মানা করলেন। বনের ভেতরে বাঘ ছাড়াও দস্যুর ভয় আছে। তিনি জানালেন, মামা ২৫ হাত পর্যন্ত লাফ দিতে পারে, বেশ ভালো সাতার কাটতে পারে। আপনারা খালের মাঝ দিয়ে সাবধানে যাবেন। ডাইনমারি খাল দিয়ে এক কিমি পর্যন্ত গেলাম।

খুবই নির্জন আর অসম্ভব রকম সুন্দর বন। দূরের বন আমাদের যেন নিঃশব্দে কাছে ডাকছে। আমরা অনেক ভিতরে এসে গেছি, আর যাওয়া ঠিক হবে না। ট্রলার ঘুরাতে বললাম। বাঘ না দেখার আফসোস নিয়ে ফিরে যেতে হল।

হঠাৎ নদীতে দেখি ঝাকে ঝাকে পোনা মাছ পানির উপর দিয়ে লাফিয়ে লাফিয়ে ছুটছে। কি যে সুন্দর দৃশ্য বলে বোঝানো যাবে না। শাহীন জানালো এগুলো ভাটা মাছ। সুন্দরবন বেড়ানোর খুব সুন্দর একটা স্মৃতি নিয়ে আমরা মংলা বন্দরের দিকে আগালাম। ঢাকা থেকে করমজল (সুন্দরবন) যেভাবে যাবেন : ঢাকা থেকে বাসে খুলনা যাওয়া যায়।

ফেরী পারাপার বা লঞ্চ পারাপার দুই ধরনের বাস আছে। ঈগল, হানিফ, সোহাগ বিভিন্ন বাস সাভিস চালু আছে। আমরা ঈগল ননএসি বাসে খুলনা গিয়েছি, ভাড়া ৩৭০ টাকা। গাবতলি থেকে খুলনা সোনাডাঙ্গা পর্যন্ত যেতে প্রায় সাড়ে ছয় থেকে সাত ঘন্টা লাগে। সোনাডাঙ্গা থেকে যাবেন রূপসা ঘাট।

রিক্সা বা ভ্যানে যেতে প্রায় ৩০ মিনিটের মত লাগবে। ট্রলার দিয়ে রূপসা নদীর ওপারে যেতে হবে। এখান থেকে মংলা যাওয়া বাস ছাড়ে, ভাড়া ৩৫ টাকা। বীরশ্রেষ্ট রুহুল আমীন এর সমাধি আছে এখানে, দেখতে ভুলবেন না যেন। রূপসা বাস স্টান্ড থেকে এক ঘন্টা বাসে জার্নি করে মংলা পৌছাবেন।

মংলায় এসে আপনাকে আবারো ট্রলার দিয়ে পশুর নদীর ওপারে যেতে হবে। ওপারে দুইটা আবাসিক হোটেল আছে একটার নাম সিংগাপুর অপরটার নাম ব্যাংকক। রাতে হোটেলে থেকে পরদিন সকালে মংলা ঘাট থেকে ট্রলার ভাড়া করে করমজল যেতে পারবেন। এখানে হোটেল ভাড়া, রিক্সা-ভ্যান ভাড়া, খাওয়া খরচ বেশ কম। কবে যাবেন ঠিক করে নিন।

-সমাপ্ত- স্মৃতি : ১৯ অক্টোবর ২০০৭ইং / শুক্রবার। সুন্দরবন ভ্রমন - ১

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।