কেবল সমুদ্র পারে শুষে নিতে সব, যা কিছু বিপ্রতীপ, ভেসে আসে নিদারুণ কষ্টের নীলজলে..
কিছু কিছু স্বপ্ন থাকে, যা কোন না কোনভাবে পূরণ হয়ে গেলে মানুষ খুব আনন্দে থাকে। আজ আমার তেমন এক আনন্দের দিন। অবিশ্বাস্য, অসম্ভব আনন্দের দিন....।
আনন্দ, এ কারণে যে, আইটি জগতের নানা রহস্যময় কোণ ঘিরে দীর্ঘ পদচারণার যে ইচ্ছে আমাকে পলে পলে আক্রান্ত করতো, আইটি জগতের সংস্পর্শে থেকে, আগামীদিনে, আইটি ভূবনে দীর্ঘ পথ চলার যে প্রাথমিক সোপানটি অন্ততঃ আমি ছুতে চেয়েছিলাম, সেটির প্রারম্ভিক সূচনা অন্তত সম্পন্ন হয়েছে।
শেষ হয়েছে আমাদের এক বছরের দীর্ঘ পরিশ্রমী এক কোর্স।
পোষ্ট গ্রাজুয়েট ডিপ্লোমা ইন ইনফরমেশন এন্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজী। কোর্সটি আমরা সম্পন্ন করলাম বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউসন্সিল ভবনে স্থাপিত অত্যাধুনিক আইসিটি ইনষ্টিটিউট “বাংলাদেশ-কোরিয়া ইনষ্টিটিউট অব ইনফরমেশন এন্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজী”-র আয়োজনে। কোর্সটি শুরু হতো প্রতিদিন বিকেল পাচটায় আর ক্লাশ চলতো রাত ন’টা অবধি। তারপর বাসায় ফিরতে ফিরতে রাত দশটা।
এভাবেই প্রতিদিন অফিস শেষে চলে যেতাম আগারগাওয়ের সেই স্বপ্ন-ভুবন বিসিসি ভবনে আর ক্লান্ত শ্রান্ত হয়ে ঘরে ফেরা হতো রাত দশটারো পরে।
এই এতোটা কষ্টের পরেও ছিল কিছু একটা অর্জনের আনন্দ। আইটি জগতের অসামান্য আকর্ষনের যে বহুমুখী স্রোত আমাকে নিত্য হাতছানি দিয়ে কাছে ডাকতো, গত এক বছরে যেন কাছে চলে এসে আরো নিবিঢ় করে ছুয়ে দেখলাম সে স্রোত। কি আশ্চয্য আনন্দের এক স্রোত। ...
সে স্রোত ছোয়ার মধ্যে কি প্রবল এক প্রাপ্তির আনন্দ। সে স্রোত স্পর্শের মাঝে যেন অজানা এক জগত আবিস্কারের পরম প্রাচুয্য।
এক বছরের দীর্ঘ পথচলায় কতো আনন্দের ঝিনুকই না কুড়াতে হলো আমাদের।
শুরু হয়েছিলো প্রগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ “সি” দিয়ে। তারপর একে একে ওরাকল ডাটাবেজ, ভিজুয়াল বেসিক ডট নেট, নেটওয়াকিং, মাল্টিমিডিয়া, ওয়েবেপজ ডিজাইন ও প্রগ্রামিং-নানা রঙএর আশ্চয্য সব ভুবন। নেই সব ভুবনে কষ্ট-শ্রম আর আনন্দময় বিচরণের দীর্ঘ পালা শেষে আজ সাটির্ফিকেট প্রদানের অনুষ্ঠান।
আর একটু পরেই যোগ দিতে যাচ্ছি সেই অনুষ্ঠানে।
যাওয়ার আগে ভাবলাম, সুনীল সমুদ্রের এই ছোট্ট স্বপ্ন পূরনের গল্পটা সামহয়্যার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করি। কেননা এ্টা একান্তই সত্যি যে, আমাদের চারপাশের বৈরী জগতে আজকাল যে কোন স্বপ্নপূরণের গল্প শুধু নিছক গল্পই মনে হয়। আমাদের অনেকেরই -স্বপ্নপূরণের মাত্রা- কঠিন বাস্তবতার আঘাতে- খুব আশংকাজনকভাবেই কমে গেছে। স্বপ্নপূরণের চেয়ে স্বপ্নভঙ্গের বেদনাই বোধহয় আমাদের আক্রান্ত করছে বেশী। ...
এই অপরিসীম নৈরাশ্য আর স্বপ্নভঙ্গের বেদনার পৌণঃপুণিকতার মাঝে হঠাত করেই আমার মনে হয়েছে এ কোর্স সম্পন্নের মধ্য দিয়ে আমার দীর্ঘ লালিত স্বপ্নের একটি ধাপ আমি অন্তত পেরুতে পেরেছি।
আমার স্বপ্নের কিয়দংশ অন্ততঃ পূরণ হয়েছে। ...
আমি জানি, সামনে আমার আরো কঠিন কঠিন দীর্ঘ সব পথ। ....
আমি থামবোনা কিছুতেই।
আমাকে হাটতে হবে আরো বহুদূর। .....
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।