দ্বিতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ান হবে কোন দল? ভারত না শ্রীলংকা। কে হবেন দশম বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারি? শচীন টেন্ডুলকার না তিলকারত্নে দিলশান। শাহেদ আফ্রিদির ২১ উইকেটই কি এবারের সর্ব্বোচ্চ, নাকি এগিয়ে যাবেন জহির খান। এমন নানা প্রশ্নের জবাব মিলবে ফাইনালে। তাইতো বিশ্ববাসীর দৃষ্টি মুম্বাইয়ে নিবিষ্ট।
এই বিশ্বকাপে রান সংগ্রহে এখন পর্যন্ত এগিয়ে আছেন শ্রীলংকার তিলকারত্নে দিলশান। ৮টি ম্যাচে তার সংগ্রহ ৪৬৭। শতরানের ইনিংস ২টি, অর্ধশতকও ২টি। দিলশান কানাডার বিপক্ষে ৫০, পাকিস্তানের বিপক্ষে ৪১, কেনিয়ার বিপক্ষে ৪৪, অষ্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৪, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১৪৪, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৩, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অপরাজিত ১০৮ এবং নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিতে করেন ৭৩ রান। ভারতের ক্রিকেট প্রভূ শচীন টেন্ডুলকার তার থেকে পিছিয়ে মাত্র ৩রানে।
সমান সংখ্যক ৮ খেলায় তিনি তুলেছেন ৪৬৪ রান। তারও শতরানের ইনিংস ২টি, অর্ধশতক ২টি। বাংলাদেশের বিপক্ষে ২৮, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১২০, আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ৩৮, নেদারল্যান্ডের বিপক্ষে ২৭, সাউথ আফ্রিকার বিপক্ষে ১১১, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ২, অষ্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৫৩ ও সর্বশেষ পাকিস্তানের বিপক্ষে ৮৫ রান তুলেছেন টেন্ডুলকার। ফাইনাল ম্যাচে যিনি ভাল করতে পারবেন সেরা ব্যাটসম্যানের পুরস্কার তিনিই জিতবেন। এই দৌড়ে এখনো টিকে আছেন শ্রীলংকার অধিনায়ক কুমারা সাঙ্গাকারা(৪১৭), ওপেনার উপাল থারাঙ্গা(৩৯৩) ও ভারতের ওপেনার বীরেন্দ্র সেবাগ(৩৮০)।
ক্ষীণ আশা যুবরাজ সিং(৩৪১)-এরও। বিশ্বকাপে সর্ব্বোচ্চ রানের রেকর্ড গড়েছেন টেন্ডুলকার আগেই। এখন তা পৌছে গেছে অনেক উচ্চতায়। ৪৪ ম্যাচে তার রান ২হাজার ২শ’ ৬০। ফাইনাল খেলায় এটি আরো কিছুদূর এগিয়ে নিতে চাইবেন নিশ্চয়।
নিকটতম অবস্থান অস্ট্রেলিয়ার রিকি পন্টিং-এর। ৪৬ খেলায় তার অর্জন ১হাজার ৭শ’ ৪৩ রান। এক বিশ্বকাপে সর্ব্বোচ্চ রানের রেকর্ডও টেন্ডুলকারের। ২০০৩ বিশ্বকাপে ১১ ম্যাচ খেলে করেছিলেন ৬৭৩ রান। ওয়ানডে ও টেস্ট ক্রিকেটের মতো বিশ্বকাপেও সর্বাধিক সেঞ্চুরিও তার।
সংখ্যা ৬টি। কিন্তু এক বিশ্বকাপে দুটির বেশি সেঞ্চুরি পাননি এই ব্যাটিং গ্রেট। এই রেকর্ড যৌথভাবে অষ্ট্রেলিয়ার ম্যাথু হেইডেন, মার্ক ওয়াহ ও ভারতের সৌরভ গাঙ্গুলির। হেইডেন ২০০৬ সালে, সৌরভ ২০০৩ সালে আর মার্ক ওয়াহ ১৯৯৬ সালের বিশ্বকাপে সেঞ্চুরি করেন তিনটি করে। এই রেকর্ড স্পর্শ করার সুযোগ রয়েছে টেন্ডুলকার, দিলশান ও থারাঙ্গার।
এবার এই তিন ব্যাটসম্যানই করেছেন দুটি করে সেঞ্চুরি। তবে আরেকটি আফসোস রয়েই যাবে টেন্ডুলকারের। তা হলো বিশ্বকাপে সর্বাধিক ম্যাচ খেলার গৌরব। এই রেকর্ডটি এখন রিকি পন্টিং-এর। তিনি খেলেছেন ৪৬ ম্যাচ।
আর ফাইনালে টেন্ডুলকার খেলবেন ৪৫তম ম্যাচ।
সেমিফাইনাল থেকে দল বিদায় নিলেও সব চেয়ে বেশি উইকেট নিয়ে বোলিং সাফল্যের শীর্ষস্থান এখনো ধরে রেখেছেন পাকিস্তানের অধিনায়ক শাহেদ আফ্রিদি। ৮ খেলায় তিনি সংগ্রহ করেছেন ২১ উইকেট। ম্যাচে ৫উইকেট নিয়েছেন দুইবার। কেনিয়া ও কানাডার বিপক্ষে।
৪উইকেটও তুলেছেন দুইবার। শ্রীলংকা ও ওয়েষ্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। নিউজিল্যান্ড, জিম্বাবুয়ে ও অষ্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পেয়েছেন ১টি করে। তবে সেমিফাইনালে ভারতের বিপক্ষে পান নি কোন উইকেট। সমান সংখ্যক ম্যাচ খেলে ভারতের জহির খান সংগ্রহ করেছেন ১৯ উইকেট।
তিনি ৫ বা ৪ উইকেট পান নি একদিনও। তবে প্রতিটি খেলায় উইকেট পেয়েছেন। তিন উইকেট পেয়েছেন ৪বার, ইংল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, নেদারল্যান্ড আর ওয়েষ্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। ২ উইকেট পেয়েছেন বাংলাদেশ, অষ্ট্রেলিয়া আর পাকিস্তানের বিপক্ষে। সাউথ আফ্রিকার বিপক্ষে পান ১টি উইকেট।
তিনি ধারাবাহিক উইকেট প্রাপ্তির মধ্যেই আছেন। ফাইনালে ২টি উইকেট পেলেই ছুয়ে ফেলবেন আফ্রিদিকে, আর একটি বাড়লেই এককভাবে চলে আসবেন শীর্ষে। এই দৌড়ে অনেক পিছনে মুত্তিয়া মুরালিধরন। তার ঘুর্ণি যাদুতে এসেছে ১৫ উইকেট। তবে আরেকটি সম্ভাবনার খুব কাছাকাছি দাড়িয়ে তিনি।
১৯৯৬ থেকে এ পর্যন্ত ৫টি বিশ্বকাপে মোট ৩৯টি ম্যাচ খেলে তিনি যা সংগ্রহ করেছেন, ফাইনালে তার সঙ্গে তিনটি উইকেট যুক্ত হলে তা হবে বিশ্বকাপে কোন বোলারের সর্ব্বোচ্চ উইকেট। মুরালির এখন সংগ্রহ ৬৮ উইকেট। রেকর্ডটি রয়েছে অষ্ট্রেলিয়ার গ্লেন ম্যাকগ্রা’র। সমান ৩৯টি ম্যাচ খেলে তার সংগ্রহ ৭১ উইকেট। শ্রীলংকা দলে চামিন্দা ভাসের ফেরার কথা শোনা যাচ্ছে।
যদি তা হয় তাহলে হতে পারে তারও একটি স্বপ্নপূরণ। একটি উইকেট পেলেই তার বিশ্বকাপ ঝুলিতে জমা পড়বে অর্ধশত উইকেট।
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।