যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থার (এনএসএ) গোপন ও বেআইনি গোয়েন্দা কার্যক্রম নিয়ে বিশ্বজুড়ে তুমুল হইচই হলেও, ভারত ও মার্কিন কর্মকর্তারা বরাবরই দাবি করে এসেছেন, এনএসএ ভারতে এ ধরনের কোনো কাজ করেনি বা করছে না। তবে আজ ‘দ্য হিন্দু’ যে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, তাতে দুই রাষ্ট্রের রাজনীতিক ও কর্মকর্তাদের মুখ দেখানো কষ্টকর হয়ে পড়বে।
এর আগে দেশ দুটির কর্মকর্তারা দাবি করেছিলেন, এনএসএ ভারতের ইন্টারনেট ও টেলিফোনে আড়ি পেতে কোনো তথ্য সংগ্রহ করেনি। বরং সন্ত্রাসবিরোধী তত্পরতায় ভারতের ‘যোগাযোগ পদ্ধতির’ ধরনটি কেমন, তা বুঝার চেষ্টা করেছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইএ) সাবেক কর্মী এডওয়ার্ড স্নোডেন যেসব অতি গোপন নথি ফাঁস করেছেন, সেগুলোর মধ্যে কয়েকটিতে ভারতে এনএসএর গোপন কার্যক্রমের তথ্য উঠে এসেছে।
‘দ্য হিন্দু’ দাবি করেছে, এনএসএর ‘প্রিজম’ নামের কর্মসূচির নথিপত্র তাঁরা হাতে পেয়েছে। ভারতে প্রিজম কার্যক্রমের অংশ হিসেবে দেশটির বড় সব প্রযুক্তি কোম্পানির সার্ভার থেকে অসংখ্য তথ্য সংগ্রহ করেছেন গোয়েন্দারা। বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ই-মেইল, ভিডিও আদান-প্রদান, ভয়েস ওভার ইন্টারনেট প্রোটকল (ভিওআইপি) ব্যবস্থা, অনলাইনে করা চ্যাট, ফাইল বিনিময় এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বিষয়ে প্রচুর তথ্য নিয়েছেন গোয়েন্দারা।
‘দ্য হিন্দু’ বলছে, ভারতীয় ও মার্কিন কর্মকর্তারা সব সময় দাবি করেছেন, ভারতে এনএসএর কাজকর্ম সন্ত্রাসবিরোধী তত্পরতা পর্যবেক্ষণের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু পত্রিকাটির হাতে প্রিজম কর্মসূচির নথিপত্র বলছে, মার্কিন গোয়েন্দারা ঠিক উল্টো কাজটিই করছেন।
তাঁরা সবচেয়ে বেশি মনোযোগ দিয়েছেন ভারতের ভেতরকার রাজনীতি, রাষ্ট্রীয় কৌশল ও বাণিজ্যিক স্বার্থের দিকে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রিজম কর্মসূচির মাধ্যমে বিশ্বের সবচেয়ে বড় গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা ভারতের অন্তত তিনটি বিষয়ের বিপুল তথ্য জোগাড় করেছেন। এগুলো হলো পারমাণবিক, মহাকাশ গবেষণা কর্মসূচি ও অভ্যন্তরীণ রাজনীতি।
‘দ্য হিন্দু’ বলছে, ‘আ উইক ইন দ্য লাইফ অব প্রিজম রিপোর্টিং’ শিরোনামের নথির ফাইলটির ওপর ‘স্পেশাল সোর্স অপারেশন্স’ সিল আঁটা ছিল। ফাইলটির ভেতরে একটি নথির শিরোনাম ছিল ‘স্যাম্পলিং অব রিপোর্টিং টপিক্স ফ্রম ২-৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩’।
এর ওপর আরেকটি সবুজ কাগজে লেখা ছিল ‘৫৮৯ অ্যান্ড প্রোডাক্টস রিপোর্টস’। এ কাগজে জি-মেইল, ফেসবুক, এমএসএন, হটমেইল, ইয়াহু, গুগল, অ্যাপেল, স্কাইপ, ইউটিউব, পালটক ডটকম, এওএলসহ অনেক কোম্পানির লোগো ছাপানো ছিল। ’ ‘এন্ড প্রোডাক্টস’ বলতে সাধারণত এমন সব গোয়েন্দা তথ্যকে বুঝায়, যেগুলোকে অনেক তথ্য থেকে বাছাই করে সংগ্রহ করা হয়েছে।
ভারতের এক গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে ‘দ্য হিন্দু’কে বলেন, ‘এসব নথিতে “এন্ড প্রোডাক্টস” বলতে দেশের রাজনীতি, মহাকাশ ও পারমাণবিক গবেষণাকে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাত্ এনএসএ এসব খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের ই-মেইল, বার্তা ও ফোনালাপ রেকর্ড বা সংগ্রহ করেছে এবং সেগুলোতে সারাক্ষণ নজর রাখছে।
... এর অর্থ হলো, আমাদের দেশের রাজনীতিক, আমলা ও বিজ্ঞানীরা পরস্পরের মধ্যে কী ধরনের আলাপ-আলোচনা করছেন, তা জেনে যাচ্ছে মার্কিন গোয়েন্দারা। ’
তবে, এর পরও ভারতের মন্ত্রী ও আমলারা এনএসএর কর্মসূচির কথা অস্বীকার করে চলেছেন।
ব্রিটেনের ‘দ্য গার্ডিয়ান’ গত ৭ জুন এক প্রতিবেদনে জানায়, প্রিজম কর্মসূচির অধীনে এনএসএ যোগাযোগসেবা প্রদানকারী যেকোনো প্রতিষ্ঠানের বা সংশ্লিষ্ট দেশের আদালতের অনুমতি ছাড়াই তথ্য সংগ্রহের কাজ চালাতে পারবে। এরপর যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মন্ত্রীরা এসব কর্মসূচির অস্তিত্বের কথা উড়িয়ে দিয়েছিলেন।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি গত ২৪ জুন ভারত সফরের সময় ‘ভারত-যুক্তরাষ্ট্র কৌশল নির্ধারণী আলোচনা’ অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
মার্কিন গোয়েন্দারা ভারতে গুপ্তচরবৃত্তি চালাচ্ছে, এমন অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।