দশম সংসদ নির্বাচনে রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ নিয়ে নির্বাচন কমিশন ও ইসি সচিবালয়ের মধ্যে টানাপড়েন শুরু হয়েছে। নির্বাচন কমিশনাররা চাচ্ছেন ডিসিদের রিটার্নিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ দিতে। অন্যদিকে ইসি সচিবালয়ের কর্মকর্তারা চাচ্ছেন নির্বাচন কমিশনের আঞ্চলিক অফিসার ও জেলা কর্মকর্তাদের রিটার্নিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হোক। এ নিয়ে নির্বাচন কমিশন ও সচিবালয়ের মধ্যে অনেকটাই মৌন দ্বন্দ্ব চলছে। এমনকি রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক বৈঠকে নির্বাচন কমিশনারদের সঙ্গে কর্মকর্তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটিও হয়েছে।
এদিকে রাজনৈতিক উত্তাপের মুখে দশম সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার প্রস্তুতি চললেও নির্বাচনে রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ দেওয়া নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছে ইসি। ইসি সূত্র জানিয়েছে, সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি সংক্রান্ত ইসির এক আনুষ্ঠানিক বৈঠকে রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ নিয়ে নির্বাচন কমিশনারদের সঙ্গে ইসি কর্মকর্তাদের কথা কাটাকাটি হয়। বৈঠকে একজন নির্বাচন কমিশনার ডিসিদের রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগ করার ঘোষণা দেওয়ায় ইসির কর্মকর্তারা তার পাল্টা প্রস্তাব দিয়ে বলেন, ইসির নিজস্ব কর্মকর্তাদেরও রিটানির্ং অফিসার নিয়োগ দেওয়া হোক। এ নিয়েই শুরু হয় কথা কাটাকাটি। এমন সময় অপর একজন কমিশনার ঘোষণা দেন (বিতর্কিত ষষ্ঠ সংসদ নির্বাচন ১৯৯৬) ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আদলেই দশম সংসদ নির্বাচন হবে।
তাই নির্বাচনের ফলাফল সংগ্রহ করা ইসির কর্মকর্তাদের দিয়ে সম্ভব নয়। এ জন্য ডিসিরাই যোগ্য। কমিশনারের এমন ঘোষণায় ইসির কর্মকর্তারা বলেন, সব সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ইসির নিজস্ব কর্মকর্তারা যদি রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করতে পারেন, তবে সংসদ নির্বাচনে পারবেন না কেন? তখন কমিশনার বলে উঠেন, সিটি নির্বাচন আর সংসদ নির্বাচন এক নয়। উত্তরে কর্মকর্তারা বলেন, সিটি করপোরেশন নির্বাচন সংসদ নির্বাচনের চেয়েও কঠিন। কেননা এক সিটিতে কয়েকটি সংসদীয় আসন থাকে।
আর নির্বাচন কমিশনার ও কর্মকর্তাদের এমন টানাপড়েনে রিটার্নিং অফিসার কাদের নিয়োগ করা হবে তা নিয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। বৈঠকে উপস্থিত একজন নির্বাচন কমিশনার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, একজন কমিশনার ডিসিদের রিটার্নিং অফিসার করার প্রস্তাব করেন। এরপর কর্মকর্তারা নিজস্ব অফিসারদের নিয়োগের প্রস্তাব দেন। এ নিয়ে আগামী বৈঠকে সিদ্ধান্ত হবে। বৈঠকে উপস্থিত ইসি সচিবালয়ের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, কমিশনাররা চাচ্ছেন না ইসির কর্মকর্তাদের রিটার্নিং অফিসার করা হোক।
তবে এ নিয়ে বৈঠকে একটু কথা কাটাকাটিও হয়েছে। ইসির কর্মকর্তারা জানান, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার নিয়োগের ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নিজস্ব কর্মকর্তাদেরও রাখার কথা ছিল। কিন্তু কমিশনাররা তা চাচ্ছেন না। তবে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের কর্মকর্তারা দাবি করছেন, এবারের নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হবে। তবে তা না হলে মিশ্র পদ্ধতিতে (ডিসি ও ইসি কর্মকর্তা) হলেও রিটার্নিং অফিসার নিয়োগে ইসি কর্মকর্তাদের রাখার দাবিও জানিয়েছেন তারা।
রিটার্নিং অফিসার নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার মো. শাহনেওয়াজ বলেন, এখনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে কমিশন বৈঠকেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত সবগুলো নির্বাচনেই জেলা প্রশাসকরা দক্ষতার সঙ্গে কাজ করেছেন। তারা প্রতিটি জেলার সব কিছুই অবগত থাকেন। নির্বাচন ব্যবস্থাপনা ও সমন্বয় শাখা জানিয়েছে, নির্বাচনী প্রস্তুতিমূলক কাজগুলো শেষ পর্যায়ে।
দশম সংসদে ৩০০ আসনে তালিকাভুক্ত ৯ কোটি ১৯ লাখ ৪৮ হাজারেরও বেশি ভোটার রয়েছে। এবার ৭০ জন রিটার্নিং কর্মকর্তা, ৬০০ সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা, ৩৮ হাজারের বেশি ভোটকেন্দ্র, ২ লাখের মতো ভোটকক্ষ, ৬ লাখের মতো ভোটগ্রহণ কর্মকর্তার (প্রিজাইডিং, সহকারী প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসার) প্রয়োজন হতে পারে।
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।