আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

গুরু, হঠাৎ করে তুমি তোমার লেজটা ছেটে দিলে কেন?



আমার ঘরে বসে ল্যাপটপে মুভি দেখতেছি হঠাৎ অন্জন এসে হাজির ল্যাপটপে চোখ রেখেই জিজ্ঞেষ করলাম -কিরে অন্জন কি খবর?বস :ভাল। কিছুক্ষন দুজনে বসে মুভি দেখলাম হঠাৎ ও বলল :আচ্ছা গুরু হঠাৎ করে তুমি তোমার লেজটা ছেটে দিলে কেন? চমকে উঠলাম মুভি পুশ করে সরাসরি ওর চোখের দিকে তাকালাম -কি বললি? :বলছি তোমার লেজটা কেটে ফেলেছ কেন? -আমার লেজ!! মানে কি? :মানে এই যে আগে ছিলে "মুনেম আহমেদ কিশোর" আর লেজ কেটে এখন হয়ে গেলে মুনেম আহমেদ। ঐ কথাই বলছি আর কি স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললাম -ওহ। আমার গুরু বলেছে তাই। :তোমার গুরু? -হুমম মানে হচ্ছে তোর গ্র্যান্ড গুরু :বাহঃ তো উনি বলল আর তুমি নামটা কেটে দিলে -হু যেমন আমি তোর নাম দিয়েছি অন্জন ঝনঝন তুই তো এখন সবখানে এটাই বলিস তাই না!হে হে হে অন্জন হঠাৎ লাফিয়ে উঠলঃ হ্যাঁ তোমার এই নামের জন্যই তো আজকে হুলুস্থুল কান্ড বেঁধে গেছে তাই তো বলতে আসছিলাম একদম ভূলে গেছি।

ভীত সংকিত হয়ে জিজ্ঞেষ করলাম বলিস কিরে? কি হয়েছে? তুমি তো জান আমরা তোমার তিন শিষ্যই প্রতিদিন সামনের বেঞ্চে বসি -হু। তো? আজকে ক্লাসে আমাদের নতুন হেডমিষ্ট্রেস এসেছেন এসে বললেন আজকে আর পড়াব না। তোমাদের সাথে পরিচিত হব -ভালো কথা তারপর প্রথম বেঞ্চ থেকে শুরু করলেন ইও ষ্ট্যান্ড আপ হোয়াটস ইওর নেম? আই অ্যাম সিগন্যাচার ম্যাম? অন্জনকে থামিয়ে দিয়ে বললাম তার মানে স্বাক্ষরকে জিজ্ঞেষ করেছে। হু তারপর বল পুরো ক্লাশের ছেলেমেয়েরা হেঁসে উঠল ম্যাডাম নাক মুখ কুচকে বললেন হোয়ায়াট? সিগন্যাচার ম্যাম রোল? এইট ম্যাম তারপর হাজিরা খাতা বের করে দেখে বললেন স্বাক্ষর হুসাইন? জ্বী তবে সিগন্যাচার বললে কেন? গুরু বলেছে এই নাম বলতে ম্যাডাম কতক্ষন রাগী চোখে তাকিয়ে থেকে বললেন বস। মনে মনে বললাম ভাল মাইর টাইর দেয়নি তারপর কি হল বল তারপর ম্যাডাম বললেন নেক্সট ষ্ট্যান্ডআপ তারপর জিজ্ঞেষ করলেন তোমার নাম কি বাবা? আই অ্যাম বর্ডার ম্যাম ম্যাডামের চোখ দুটা বেরিয়ে গেল তারপর চিবিয়ে চিবিয়ে বললেন তার মানে কি? - সীমান্ত।

তোমাকেও কি তোমার গুরু নিষেধ করেছে ? -জ্বী ম্যাম বসো অন্জনকে থামালাম বললাম -তারপর নিল্চয়ই তুই? :জ্বী জনাব -হু তারপর বল :ম্যাডাম আমার সামনে এসে দাড়ালেন আমি খেয়াল করলাম ম্যাডাম রীতিমত রাগে কাঁপছেন তাই উনি কিছু বলার আগেই বলে ফেললাম আমার নাম অন্জন ঝনঝন ম্যাম। আমার কোন দোষ নেই গুরু বলেছে সবখানে এই নাম বলতে -তারপর কি হলো রে অন্জন? অন্জন ক্ষোভে ফুলে উঠল :কি আর চটাশ চটাশ করে আমার দুই গালে চারটা থাপ্পড় মেরে দিল মহিলাটা। আমার দু চোখে অন্ধকার দেখলাম। কোন মহিলার গায়ে এত জোর থাকতে পারে আগে জানতাম না। বললাম -আহারে খেয়াল করিনিতো তুইতো পুরা লালটু হয়ে গেছিস।

তারপর বল। ম্যাডাম তখন চিৎকার করা শুরু করছে আমার কান ধরে বলল বলি তোদের এই কুও টা কে? আমরা অবাক হয়া বললাম কুও কি ম্যাম? আরে গাধার দল কাও মানে গরু আর কুও মানে গুরু তোদের এই গুরু টা কে? যথেষ্ট অপমানিত বোধ করে অন্জনকে থামিয়ে দিলাম আর বলা লাগবে না। আরে আসল কথাইতো এখনো বলা হয় নি কি? ম্যাডাম তোমাকে যেতে বলছে আমাদের তিন জনরে বের করে দিছে ক্লাশে যেতে হলে তোমাকে নিয়ে যেতে হবে। আমি যাব ক্যান? হে হে গুরু ম্যামরে চিন না নন্দিনী আপুর মা। না গেলে বাড়িতে এসে বিচার করে যাবে? আঁতকে উঠলাম খাইছে আমারে এ তো একদম ডাইনীর খপ্পরে পড়েছি।

এ মহিলা আরও একদিন রাস্তার মোড়ে সবার সামনে আমার কান লাল করে দিছিল। সে কাহিনী এখনও ভূলি নাই এরমধ্যেই আবার এর হাতে... ;( ;( ;(

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।