বিতর্ক চলতে পারে দীর্ঘ সময় ধরেই। কিন্তু সম্ভবত শেষ পর্যন্ত বিতর্কের ইতি টানতে হবে এই সিদ্ধান্তে এসেই; বিশ্বের বহুল ব্যবহূত কম্পিউটার অপারেটিং সিস্টেমের নাম উইন্ডোজই। এর নির্মাতা মাইক্রোসফট করপোরেশন।
ব্যবহারকারীদের স্বাচ্ছন্দ্যের হিসেবেই হোক কিংবা অভ্যস্ততা, হিসাব-নিকাশের সবচেয়ে চলতি সফটওয়্যারও তো মাইক্রোসফটেরই সৃষ্টি; মাইক্রোসফট এক্সেল! উইন্ডোজে চলা কম্পিউটারগুলোয় তো এক্সেল থাকা রীতিমতো বাধ্যতামূলক; হিসাব-নিকাশের কাজ থাক বা না-ই থাক। আর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কম্পিউটারে তো রীতিমতো বাইবেল করে রাখা হয় এক্সেলকে! কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি সম্পর্কে নিদেন জ্ঞান যাঁদের আছে, তাঁরা খুব ভালো করেই জানেন; সাধারণ হিসেবে শুধু উইন্ডোজ কম্পিউটারেই থাকে এক্সেল।
অথচ দেখুন, কী অবাক কাণ্ড! এক্সেল প্রথম তৈরি হয়েছিল ব্যবসার হিসেবে বিল গেটসের ‘শত্রু প্রতিষ্ঠান’ অ্যাপলের ম্যাকিনটোশ কম্পিউটারের জন্য! অর্থাৎ, মাইক্রোসফটের এক্সেল সফটওয়্যারের প্রথম স্বাদ পেয়েছিলেন অ্যাপল ম্যাক ব্যবহারকারীরা!
বিশ্বের বহু নামীদামি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান তাদের অফিস কম্পিউটারে অ্যাঙ্গেল অ্যাপ্লিকেশন (সফটওয়্যার) ব্যবহার করে গাণিতিক জটিল ধাঁধার সমাধান করেছে। বোধ করি, এতটা বর্ণনা না দিলেও চলত! এক্সেল এতটাই জনপ্রিয় যে এর সম্পর্কে এতটা না বললেও চলত। আর সেই জনপ্রিয় সফটওয়্যারকে উইন্ডোজ কম্পিউটারে দেখেই অভ্যস্ত মানুষ।
১৯৮৫ সালে তৈরি মাইক্রোসফটের ‘এক্সেল ১.০’ সংস্করণটি ব্যবহারের অনুমতি ছিল কেবল ম্যাক ব্যবহারকারীদের জন্য। আর ততক্ষণ পর্যন্ত উইন্ডোজ ব্যবহারকারীরা এটা ব্যবহার করতে পারেননি, যতক্ষণ পর্যন্ত না এক্সেলের পরের সংস্করণ বাজারে আসে, অর্থাৎ ‘এক্সেল ২.০৫’।
মাইক্রোসফটের সঙ্গে অ্যাপলের ব্যবসায়িক দ্বন্দের মতো ঘটনা যতই ঘটুক কিংবা যতই থাক ব্যবসায়িক প্রতিদ্বন্দ্বিতা, ম্যাকের জন্যই প্রথম স্প্র্রেডশিট বিশ্লেষণের সফটওয়্যার তৈরি করে দেয় মাইক্রোসফট। অনেকেই মনে করেন, মাইক্রোসফটের বড় সফটওয়্যার নির্মাতা হয়ে ওঠার গল্পটাও এই স্প্রেডশিট গাণিতিক হিসেবের সফটওয়্যার দিয়েই শুরু হয়েছে। সে ক্ষেত্রে এক্সেলের গুরুত্ব অনেক। হিসেব তো আছেই; বরং এর সঙ্গে গ্রাফ তৈরি, চার্ট তৈরি ও টেবিল তৈরির জন্য দারুণ কাজের এই এক্সেল।
ইতিহাস থেকে জানতে পাওয়া যায়, মাইক্রোসফট তাদের প্রথম হিসাবনিকাশের প্রোগ্রাম তৈরি করেছিল ১৯৮২ সালে; মাল্টিপ্ল্যান নামে।
কিন্তু ওটা চলত সিপি/এম সিস্টেমের কম্পিউটারে। এমএস ডস সিস্টেমে লোটাস ১-২-৩-এর কাছে রীতিমতো জাত হারায় মাল্টিপ্ল্যান। এরপর অনেক গবেষণার ফসল হিসেবে মাইক্রোসফট ১৯৮৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর বাজারে আনে এক্সেলের প্রথম ভার্সন ১.০ এবং সেটি ম্যাকিনটোশের জন্য। উইন্ডোজের জন্য প্রথম এক্সেল আসে দুই বছর পর ১৯৮৭ সালের নভেম্বরে; এক্সেল ২.০৫। এটি নিয়ে নাটকও কম হয়নি।
১৯৯৩ সালের দিকে জানতে পাওয়া যায়, বাজারে আরও একটি প্রতিষ্ঠান ‘এক্সেল’ নামের হিসাব-নিকাশের সফটওয়্যার বাজারে বিক্রি করছে। আর সে কারণেই, ওই বছরই মাইক্রোসফটকে রীতিমতো সংবাদ সম্মেলন করে ঘোষণা দিতে হয় তাদের পণ্যের নাম ‘এক্সেল’ নয়; বরং হবে ‘মাইক্রোসফট এক্সেল’; তখন থেকেই চলছে সেই নাম, যা জনপ্রিয়তার দিক দিয়ে যেকোনো হিসাবি সফটওয়্যারের থেকে বেশি জনপ্রিয়!।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।