আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

আসুন ইন্দোনেশিয়া দেশটি সম্পর্কে জানি



ইন্দোনেশিয়া দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি দ্বীপ রাষ্ট্র। প্রায় ৫,০০০ দ্বীপের সমন্বয়ে গঠিত এই দেশটি পৃথিবীর বৃহত্তম মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্র। এর রাজধানীর নাম জাকার্তা। ১২শ শতকের দিকে ইন্দোনেশিয়াতে ইসলামের আগমন ঘটে এবং ১৬শ শতক নাগাদ জাভা ও সুমাত্রার লোকেরা ইসলামে ধর্মান্তরিত হয়ে যায়। তবে বালি দ্বীপের লোকেরা আজও সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দু রয়ে গেছে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ১৯৪২ থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত তিন বছর জাপানিরা ইন্দোনেশিয়া দখল করে। ১৯৫০ সালে ইন্দোনেশিয়া জাতিসংঘে ৬০তম সদস্য হিসেবে যোগদান করে। ইন্দোনেশিয়াতে প্রায় সাড়ে সতের হাজার দ্বীপ রয়েছে। এদের মধ্যে মাত্র ৬ হাজার দ্বীপে মনুষ্য বসতি আছে। সুমাত্রা, জাভা, সুলাওয়েসি, বোর্নিও ও নিউ গিনি পাঁচটি প্রধান দ্বীপ।

বৈচিত্রপূর্ণ দেশ ইন্দোনেশিয়া।

পর্যটন ইন্দোনেশিয়ার অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং দেশটির বৈদেশিক মুদ্রার অন্যতম উৎস। ইন্দোনেশিয়াতে ৭৪২টি ভাষা আছে। এদের মধ্যে ৭৩৭টি জীবিত। ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় মসজিদের নাম ‘ইসতিকলাল মসজিদ’।

‘ইসতিকলাল’ শব্দের অর্থ স্বাধীনতা। জাকার্তা নগরীতে অবস্থিত ইসতিকলাল মসজিদ মুসলিম বিশ্বের বৃহত্তম রাষ্ট্র ইন্দোনেশিয়ার বৃহত্তম মসজিদ। ইসতিকলাল মসজিদের নির্মাণ কার্যক্রম ১৯৫৫ সালেই শুরু হয় এবং ২৯ বছর পর ১৯৮৪ সালে সম্পন্ন হয়। বাংলাদেশের মতো ইন্দোনেশিয়ার বহু অঞ্চল ঘনবসতিপূর্ণ। এর মধ্যে জাভা প্রদেশ ও জাকার্তা নগরী অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ।

ইসতিকলাল মসজিদটি সাত তলাবিশিষ্ট। মসজিদের পার্কিং এরিয়ায় একসঙ্গে ৮০০ গাড়ি রাখা যায়। মসজিদে রয়েছে অতি উচ্চ সুদর্শন একটি মিনার। আশপাশে রয়েছে প্রশস্ত উদ্যান।

অপরূপ সৌন্দর্যের দ্বীপ ইন্দোনেশিয়ার বালি।

পর্যটক শহর। সমস্ত দ্বীপের মানুষ পর্যটকদের স্বাগত জানাতে আন্তরিক। জনগন রাস্তায় পরে থাকা গাছের পাতা পর্যন্ত কুড়িয়ে ডাস্টবিনে ফেলেন। পর্যটকদের অগ্রাধিকার এখানে সবকিছুতে। বসবাসের হোটেল এলাকা্য কোন বানিজ্যিক দোকান পর্যন্ত নেই।

সৈকত এলাকা খুবই পরিচ্ছন্ন। কচ্ছপ এর দ্বীপ এ আছে বিশাল বিশাল কচ্ছপ। ইন্দোনেশিয়ারাও প্রধানত ভাত আর মাছ খেয়ে থাকে এবং প্রচুর সামুদ্রিক মাছ পাওয়া যায়। ইন্দোনেশিয়ান রিকশাগুলো আমাদের রিকশার মতো নয়। আমাদের রিকশাগুলো বড় ও সাধারণত ড্রাইভার সামনে থাকেন।

উল্টো দিকে ইন্দোনেশিয়ান রিকশাগুলো অনেক ছোট আকৃতির এবং দুই সিটের হয়। তার চেয়েও অদ্ভুত হলো, তাদের রিকশায় যাত্রীদের সিট থাকে সামনে আর ড্রাইভার চালান পেছনে বসে।

১৯৪৫ সালে ইন্দোনেশিয়া নেদারল্যান্ড্‌সের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভ করলে ইন্দোনেশীয় ভাষাকে রাষ্ট্রীয় ভাষার মর্যাদা দেওয়া হয়। ইন্দোনেশিয়ার রেলে ভ্রমণ অনেক সুবিধাজনক ও আরামদায়ক। জাকার্তা শহরে গাড়ির পরিমাণ অনেক বেশি ও যারা গিয়েছেন এই শহরটিতে তারাও একে গাড়ির শহর হিসেবে গণ্য করবেন।

তবে কোথাও দেখবেন না ফুটপাথে গাড়ি অযথা দাঁড় করানো আছে। তাই গাড়ি যতই থাকুক না কেন, এক এক গন্তব্যের গাড়ি থাকে সাধারণত এক একটি নির্দিষ্ট স্থানে। আর তাদের সাধারণ পাবলিক বাসগুলো সবই শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এবং ব্যবস্থাপনা অনেক ভাল। ইন্দোনেশিয়াতে মেয়েরা সবাই স্কার্ফ পরে থাকে আর বয়স্কদের বেশ পরিমাণে বোরখা পরতে দেখা যায়। ২০১৩ সালে ইন্দোনেশিয়ার প্রবৃদ্ধি আসে ৫.৭৮ শতাংশ, যা ২০০৯ সালের পর থেকে সর্বনিম্ন।



“আর্থিকভাবে ইন্দোনেশিয়া এখন বিশ্বের ১৬তম শক্তিশালী রাষ্ট্র। ঢাকার মতো এত ঘন ঘন বহুতল ভবন নেই। তবে ঢাকার মতো বৃক্ষহীন নয়। সবুজের ছোঁয়া আছে রাস্তার পরতে পরতে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন।

ঢাকার রাস্তার মতো কোথাও ময়লা-নর্দমা দেখা যায়নি। গাড়ি কখনও হর্ন বাজায় না। চালকরা ট্রাফিক সিগন্যালের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। সিগন্যালে লালবাতি জ্বলে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে সব গাড়ি থেমে যায়। ইন্দোনেশিয়ানরা অন্তত আমাদের চেয়ে অনেকটা সভ্য জাতি।

নিয়মকানুনের প্রতি আমাদের চেয়ে বেশি শ্রদ্ধাশীল। একটি প্রথা তারা মেনে চলেন, হজ না করা পর্যন্ত ছেলে বা মেয়ে কারও সহজে বিয়ে হয় না। বিয়ের অন্যতম শর্ত থাকে হজব্রত পালন করা হয়েছে কি না। ইন্দোনেশিয়ার বাটিক খুবই প্রসিদ্ধ। ইন্দোনেশিয়ান বাটিকের শার্ট সবারই পছন্দ।



পৃথিবীর বহু দেশ থেকে ভ্রমণ পিপাসুরা আসে বালি দ্বীপের প্রাকৃতিক রূপে নিজেদের সিক্ত করতে। বালি দ্বীপটি আসলে এশিয়া ও অস্ট্রেলিয়া মহাদেশের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত। এখানে প্রধানত শুষ্ক ও আদ্র এই দুটি মৌসুম রয়েছে। তাপমাত্রা ২৪ ডিগ্রী সেলসিয়াস থেকে ৩০ ডিগ্রী সেলসিয়াসের মধ্যে উঠানামা করে। ইন্দোনেশিয়া মুসলমান প্রধান দেশ হলেও বালি দ্বীপটি হিন্দুপ্রধান।

বালি দ্বীপটিতে পর্যটকদের আকর্ষণের জন্য রয়েছে প্রচুর পাব, ডিসকো আর নাইট ক্লাব। দ্বীপটি খুবই নিরাপদ। চুরি, ছিনতাই বা কোন কিছু হারাবার ভয়ই নেই। ইন্দোনেশিয়ার এই দ্বীপে আগে একবার এই অগ্নিগিরি থেকে অগ্নি উৎপাত হয়ে বহু মানুষ আর গ্রাম ধ্বংস হয়েছে।

বালি দ্বীপের মধ্যাঞ্চলে অবস্থিত একটি বনে বহু বানরের বাস।

দেনপাসার থেকে এর দূরত্ব প্রায় ২০ কিলোমিটার। এই বনের আয়তন ৬ হেক্টর। এখানকার উদ্ভিদ ৪০ মিটার পর্যন্ত লম্বা হয়। বনে শুধু বানর বাস করে। বালি দ্বীপের বাসিন্দারা বিশ্বাস করেন যে, হনুমান হচ্ছে দেবতা।

তাই তারা বানরের কদর করে। বনের বাইরে একটি মন্দির আছে। সেখানেও অনেক বানরের বাস। মন্দিরটি নির্মিত হয়েছিল সপ্তাদশ শতাব্দীতে। এ মন্দিরে পর্যটকরা যেতে পারেন না।

এটি শুধু বানরদের জন্য। চীনারা বালি দ্বীপে বেড়াতে গেলে হংকং হয়ে যায়। হংকং থেকে বিমানে বালি দ্বীপে পৌঁছাতে সময় লাগে ৪ ঘন্টা। আপনি যদি রাজধানী জাকার্তা হয়ে যেতে চান, তাহলে জাকার্তা থেকে বালি পৌঁছাতে আপনাকে বিমানে দেড় ঘন্টা ভ্রমণ করতে হবে।


অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.